Skip to content

১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঈদযাত্রায় সচেতন হোক নারী

আজ পঁচিশ রমজান। ইতোমধ্যে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন নারীরা। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেই এসময় নারীরা যতটা সম্ভব বাড়ি ফেরার তাগিদ অনুভব করেন। সব বয়সী নারীই বিশেষভাবে সময়টা কাটাতে চান পরিবারের সান্নিধ্যে। তাই তাদের এ যাত্রা! কিন্তু এই যাত্রা যেন স্বস্তি-শান্তি ও নিরাপদে হয়; এজন্য নারীদের সচেতন হওয়া আবশ্যক।

সম্প্রতি পথে বের হলেই দেখা যাচ্ছে ছিনতাই ও চুরির ঘটনা। আর প্রত্যেক ঈদ বা বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে এই শ্রেণীর উৎপাত ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। ঘরমুখো মানুষের আবেগ-উত্তেজনা ও উদাসীনতাকে কেন্দ্র করে এই অসাধু শ্রেণী তাদের ঝুলি ভরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বাস-ট্রেন-লঞ্চে চুরি-ছিনতাই অহরহ হয় এ সময়কে ঘিরে। ফলে ঈদযাত্রা যেন সুন্দর হয়, স্বাভাবিক হয়; সেজন্য নারীদের সচেতন হতে হয়। বাড়ি ফেরার আবেগ ও উত্তেজনাকে দমিয়ে সচেতনভাবে বাড়ি ফিরতে হবে। গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে। ব্যাগ বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাবধানতার সঙ্গে বহন করতে হবে। নিজের জিনিসপত্র নিজেকেই সাবধানে রাখার প্রতি নজরদান করতে হবে। শুধু তাই নয় বাস বা ট্রেন এমনকি ফেরিঘাটেও দেখা যায় চোর-ছিনতাইকারীরা নারীদের কানের দুল বা গলার চেইন টান দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে! ফোন, ব্যাগের মতো জিনিসও বাদ পড়ছে না! ফলে ঈদযাত্রা যেন সাবধানতার সঙ্গে হয়, সেদিকে নারীকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

ঈদকে কেন্দ্র করে বাস-ট্রেন-লঞ্চ সবজায়গায় উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। নারীদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে সময়ের চেয়ে জীবনের দাম অতীব মূল্যবান। তাই সময়ের দিকে নজর না দিয়ে জীবনকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে হবে। ফলে উপচে পড়া যাত্রীর ভিড়ে গেলে কতটা ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা আছে, তা ওই নারীকেই ভাবতে হবে! মনে রাখতে হবে, একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। ফলে জীবনকে হুমকির মুখে ফেলার আগে অবশ্যই এর গুরুত্ব বুঝতে হবে। বাসে-ট্রেনে-লঞ্চে ওঠার আগে নিজের নিরাপত্তাকে সার্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে৷ হুড়োহুড়ি করে ওঠার সময় জিনিসপত্র হারাতে পারে, জীবননাশ হতে পারে, যেকোনো ভয়বহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে; এসব মাথায় রেখে খুব ধীরস্থিরভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে৷ অতি উত্তেজনাবশত বিপদে না পড়ে সবার সঙ্গে সুস্থভাবে ঈদ উদযাপন করাটাই আসল কথা।

ঈদযাত্রায় নারীকে সচেতন হতে হবে ট্রেনে-বাসে ও লঞ্চে তথা যেকোনো গণপরিবহনে। এসময় যৌন হয়রানি, নিপীড়নের ঘটনাগুলো বেড়ে যায়। অতিরিক্ত যাত্রী ও ভিড়ের কারণে কিছু অসাধু ও নোংরা মানসিকতার মানুষ নারীদের হয়রানি করে! গণপরিবহনে সাধারণ সময়ই বেশিরভাগ নারীকে যৌন হয়রানির মতো নানাবিধ বিশ্রী ঘটনার শিকার হতে হয় আর এসময় সবার এত তাড়ার মাঝে অনেকেই খেয়াল করেন না বা সচেতন হয়ে চলাচল করেন না! ফলে তাদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত নানা ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

যেহেতু রমজানের মধ্যেই সবাই বাড়ি ফিরতে উদ্যোত হন এ সময় তাই পর্যাপ্ত পানি, স্যালাইন, খাবার এসব নিয়েই যাত্রা করার চেষ্টা করা উচিত। কারণ বাইরের যেকোনো খাবার ইফতারিতে গ্রহণ করার ফলে শরীরে যেকোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যারা রাতের জার্নি করার মনস্থির করেছেন, তাদের সেহেরির খাবার ও পানি সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। এসময় মলম পার্টির উৎপাত বেড়ে যায়। তারা খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে টাকা-পয়সাসহ ব্যাগ সবই হাতিয়ে নেয়। ফলে ঈদযাত্রাকে ভোগান্তি মুক্ত ও নিরাপদে রাখতে সাবধান হওয়ার বিকল্প নাই।

ঈদযাত্রাকে সফল করতে আগেই যাওয়া-আসার টিকিট কেটে রাখার ব্যবস্থা করে রাখতে হবে। তাহলেই নির্ঝঞ্ঝাটভাবে একটি সফল যাত্রা করা সহজেই সম্ভব হবে। যাত্রা যেখানেই করা হোক, অবশ্যই সাবধানতার সঙ্গে যাত্রা করতে হবে।

বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে ঈদযাত্রায় আরও একধাপ সচেতন হওয়া আবশ্যক। তিনি কারও মা-ফুপু-বোন-খালা বা আত্মীয়! এই বয়সী নারীদের শারীরিক জটিলতাও দেখা যায়। ফলে তাদের যাত্রায় শক্ত-সামর্থ্যবান মানুষের সঙ্গী হওয়া আবশ্যক। তাদের একা না ছাড়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যেহেতু উৎসবকে ঘিরে অসাধুদের উৎপাত বেড়ে যায় ফলে তাদের সাবধানতায় পরিবারের সদস্যদের গুরুত্ব দিতে হবে৷ আর সঙ্গে ছোট বাচ্চারা থাকলে সেক্ষেত্রেও নারীকে সচেতন হতে হবে। বাইরের খাবার পরিহার করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ছোট্ট বাচচ্চাদের শারীরিক সুস্থতা ও সার্বিকভাবে সুন্দর যাত্রার প্রতি নারীকেই সচেতন হতে হবে।

ঈদযাত্রায় নারী সচেতন হোক। সুস্থ ও সুন্দরভাবে সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মাধ্যমে নারী জীবনের অধ্যায়গুলো ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাক। জয় হোক সুন্দরের, জয় হোক কল্যাণ ও মানবতার।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ