Skip to content

১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফেরদৌসী পারভীনদের সহোযোগিতায় এগিয়ে যাক নিখিল নারী

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ আমাদের সমাজে নারীদের এগিয়ে যেতে সবসময় একটা বেড়াজাল সৃষ্টি করে রেখেছে। নারীকে তার যোগ্য সম্মান বা প্রাপ্তির পথে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় তো না-ই বরং কিভাবে নারীকে তার মর্যাদা থেকে বিচ্যুত করা হবে, চলতে থাকে তালবাহানা। ফলে নারীরা পারস্পারিক সহোযোগিতার অভাবে প্রকৃত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে বিপর্যস্ত হতে হয় প্রতিটা পদক্ষেপে। তবে নারীরা যদি একে অন্যের সহোযোগী হয়ে ওঠেন, তখন বন্ধুর পথ কিছুটা হলেও মসৃণ হয়।

আর নারীদের উন্নয়নে একাজে যিনি নিজেকে নিযুক্ত করেন, তিনি নিঃসন্দেহে মহৎ হৃদয়ের অধিকারী। তেমনই পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নারীদের ভাগ্য উন্নয়নে সাহায্য-সহোযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ফেরদৌসি পারভীন। একাই দেড়শ নারীকে স্বাবলম্বী করে তোলার মতো মহৎ উদ্যোগের সঙ্গী হয়েছেন।

পাহাড়ি নারীদের একটা অংশ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এসব প্রান্তিক পর্যায়ের নারীরা পুঁজির অভাবে তাদের কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারেন না। তারা থামি, পিননসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রস্তুত করতে জানলেও শুধু পুঁজি বা উপকরণের অভাবে তা প্রস্তুত করতে পারতেন না। উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশের পথে এরূপ বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে শুধু আর্থিক সচ্ছলতার অভাবে। এরকম পাহাড়ি নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে ব্যক্তি উদ্যোগে এগিয়ে আসেন প্রফেসর ফেরদৌসি পারভীন।

পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে থামি, পিনন বুননের জন্য বিনামূল্যে উপকরণ, সেলাই মেশিন দিচ্ছেন তিনি। যার ফলে এরই মধ্যে অনেকেই সফল হয়েছেন। এমন সহায়তা পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন অন্তত দেড়শ নারী।

পাহাড়ের গ্রামে গ্রামে ঘুরে এসব অসহায় নারীদের ব্যক্তি উদ্যোগে থামি , পিনন বুননের জন্য প্রয়োজনীয় সুতা, সেলাই মেশিন তুলে দিচ্ছেন তিনি। একইসঙ্গে মোড়া বানানোর জন্যও উপকরণ তুলে দিচ্ছেন তিনি। উপকরণ পেয়ে অনেকেই এখন উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছে। যার ফলে অনেকে থামি বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। পার্বত্য অঞ্চলের এসব নারীদের অধিকাংশই এখন আগের থেকে ভালো অবস্থানে নিজেদের নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের সঙ্গী হয়ে অধ্যক্ষ ফেরদৌসী পারভীন শক্তি সঞ্চয় করেছেন। সাহস জুগিয়েছেন। যার ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের এসব ভাগ্যবিড়ম্বিত নারীরা নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

আমাদের সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন ঘটাতে ফেরদৌসী পারভীনদের অংশগ্রহণ খুবই জরুরি। যে নারীরা দিনের পর দিন নিজেদের বঞ্চনার শিকারে পরিণত করেছে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে আমাদের সমাজে আরও অসংখ্য ফেরদৌসী পারভীনদের জন্ম হওয়া চায়। অন্তত নারীরা নারীদের দুঃখ বুঝতে সক্ষম হোক। যেহেতু পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা অবহেলিত, নির্যাতিত সেহেতু নারীরা যদি তাদের দুঃখ-কষ্ট ও সংগ্রাম বুঝতে সক্ষম হয় তবে পরস্পর পাশে দাঁড়াতে সক্ষম হলে এভাবেই নারীরা সহজেই ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

অধ্যক্ষ ফেরদৌসী পারভীনের মানসিকতায় গড়ে উঠুক দেশ। নারীরা তাদের ভাগ্য উন্নয়নে এভাবেই একে অন্যের সহযোগী হয়ে উঠুক। যার মধ্যে দিয়ে নিখিল নারীরা তাদের ভাগ্যকে জয় করতে সক্ষম হোক। দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়ে উঠুক।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ