Skip to content

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

‘মেয়ে তো মেয়েই’!

জন্মের পর থেকে মৃত্যু অব্ধি নারীকে থাকতে হয় পুরুষের ভরসাতে। কখনো বাবা, কখনো ভাই, কখনো স্বামী, কখনো-বা ছেলের ওপর নির্ভরশীল হতে হয় তাকে। নারীরও যে স্বাধীনতা আছে, এই কথাটা অনেক সময় অনেকে ভুলে যায়। কখন নারী কোথায় যাবে-না-যাবে, কখন কোন পোশাক পরবে, এ-সব নিয়ে তাদের শুনতে হয় নানা কথা।

 

 

জন্মের পর একজন নারীকে তার চারপাশের পরিবেশ ঠিক করে দেয়, সে কি করতে পারবে-না-পারবে! মেয়ে কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে যাচ্ছে, এ-সব নিয়ে আশপাশের মানুষের কাছ থেকে কথা শুনতে হয় পরিবারকে। আর যদি মেয়েকে পড়ালেখার জন্য বাইরে পাঠানোর কথা শোনে, তাহলে তো কথাই নাই। 'মেয়েকে পড়িয়ে কি হবে?', বাইরে গিয়ে মেয়ে আর ভালো থাকবে না', বাইরে না পাঠিয়ে বিয়ে দিয়ে দেন' প্রভৃতি নানা কটূক্তি শুনতে হয় মা-বাবাকে। 

 

 

একটি ছেলেকে বাইরে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয়, ছেলের যেকোনো কাজে তাকে উৎসাহ দেওয়া হয়, যাতে সে ভালো কিছু করতে পারে। একই ভাবে যদি মেয়েকেও উৎসাহ দেওয়া হয় এবং তাকে সাহস দেওয়া হয়, তাহলে তাকে দিয়েও সেটা সম্ভব, মেয়েটিও ছেলেটির মতো স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে। কিন্তু সমাজ বা পরিবার নারীকে সচরাচর সাহস জোগাতে রাজি হয় না। নারীকে ভয় দেখানোই যেন সমাজের কাজ। 

 

 

আমাদের সমাজে মেয়েদের সাহস দেওয়া হয় না, বরং বলা হয় 'মেয়ে তো মেয়েই', 'মেয়েকে বেশি পড়িয়ে কাজ নেই, 'মেয়েকে একা বাইরে যেতে দিয়ো না, 'তুমি মেয়ে, তোমার ছেলে বন্ধু কেন থাকবে। 'মেয়ে ঘরে থাকুক, ঘরের কাজ শিখুক, ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দেয়া যাবে৷ এতে করে বিয়ের পর ঘর-সংসারের কাজ করতে কোনো সমস্যা হবে না।’ নারীদের নিয়ে সমাজ এ-ধরনের নানা শর্ত তৈরি করে রাখে। 

 

 

ঘর থেকে কত পা দূরে যাওয়া যাবে, কার সাথে যাওয়া যাবে, কোন বিষয়ে পড়ালেখা করা যাবে কোন বিষয়ে যাবে না, কোন পোশাক পরবে কোন পোশাক পরবে না এমন আরও কত কি! যদি এর বিপরীতে কোনো নারী প্রশ্ন তোলে, 'কেন নারীর বেলায় এত সীমাবদ্ধতা?’  তখন সমাজ মুচকি হেসে উত্তর দেয়, 'মেয়ে তো মেয়েই’!