Skip to content

২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মুরগীর পালক দিয়ে তৈরি সুস্বাদু মাংস

আমরা প্রায় সবাই মুরগির মাংস খাই। অনেকের আবার পছন্দের খাবারের তালিকার ওপরের দিকেই স্থান মুরগির মাংসের। মুরগির শরীরের সাধারণত মাংসের অংশ এবং হাড়ের আশেপাশের অংশ খাওয়া হয়ে থাকে। মাংস ও হাড়ের অংশ ব্যতীত বাকি অংশগুলো সাধারণত ফেলেই দেয়া হয়। আর মুরগির পালকের তো কথাই নেই। মুরগি কাঁটার সময় প্রথমেই মুরগির পালক আলাদা করে ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু থাইল্যান্ডের এক যুবক এই মুরগির পালক দিয়ে তৈরি করেছেন মাংস যার স্বাদ একদম মাংসের মতোই। 
 

ব্যাংককের সোরাউত কিত্তিবানথর্ন দীর্ঘ এক বছরের গবেষণার পর তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন মুরগির পালকের তৈরি এই মাংস। সোরাউত যখন লন্ডনে পড়াশুনো করতেন, তখন থেকেই মাথায় আসে এরকম আইডিয়া। তিনি বিভিন্ন নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার পরীক্ষা করে দেখেন যে রোজ প্রচুর পরিমাণে মুরগি কাটা হয় খাবারের জন্য। আর সেই মুরগির পালকগুলি চলে যায় ডাস্টবিনে।

 

স্লদারহাউসে গিয়েই এই বিষয়টি তিনি খেয়াল করলেন। প্রতিদিনই অনেক পরিমাণে মুরগির পালক নষ্ট হয়। কিন্তু তিনি লক্ষ্য করলেন, মুরগির পালকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। এই ফেলে দেয়া পালক থেকে এমন কিছু তৈরি করার চিন্তা তার মাথায় আসে যা খেতে হবে একদম মাংসের মতো। কিন্তু এর জন্য চাই একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি। এই পদ্ধতিটি আবিষ্কার করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় তার।

 

এর জন্য তিনি প্রথমে পালক নিয়ে তার পুষ্টিকর অংশগুলি বেছে তা ব্লেন্ড করেন। তারপর বিভিন্ন ধাপের পর এটি মাংসের মতো পরিণত হয়। এরপর মাংসের মতো যেকোনো পদ্ধতিতে এটি রান্না করে খাওয়া যায়। প্রথম অবস্থায় অনেকেই এই মুরগির পালক দিয়ে তৈরি মাংস খেতে চাননি, বরং কটূক্তি করেছেন। কিন্তু খাওয়ার পর সবাই বলেছেন যে তাদের জানানো না হলে তারা বুঝতোইনা যে এটি সত্যিকারের মাংস না, মুরগির পালক দিয়ে তৈরি মাংস।

 

তবে, এ ক্ষেত্রে আরো গবেষণা প্রয়োজন। শুধু তাই নয় এই মুহূর্তে তার আর্থিক সাহায্যেরও প্রয়োজন। কারণ প্রোডাক্ট হিসেবে বাজারে বিক্রি হতে আরো অনেক পদ্ধতি ও পক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াসহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে। ফলে তার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ