ঔষধপত্র ছাড়াই জ্বর-সর্দি থেকে নিস্তার

ঔষধপত্র ছাড়াই জ্বর-সর্দি  থেকে নিস্তার
ছবি: সংগৃহীত
লেবু পানিতে ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে খান। মধু শ্বাসযন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, বুক থেকে কফ দূর করে গলা পরিষ্কার রাখে।

আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়টা আমাদের শরীরের জন্য বেশ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খুসখুসে কাশি, সর্দি, বুকে কফ জমে থাকে। ডাক্তারের কাছে গেলেই কড়া অ্যান্টিবায়োটিক। তবে জ্বর সর্দি থেকে নিস্তার পেতে প্রথমেই অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে ঘরোয়া উপায়ে জ্বর সর্দির মোকাবেলা করায় শ্রেয়।


গরম পানির ভাপ: গরম পানির ভাপ অনেক উপকারী। মাথার উপর তোয়ালে চাপা দিয়ে বড় দম নিয়ে গরম পানির ভাপ নিন। দিনে ২ বার অন্তত ১০ মিনিট করে এরকম করুন। এতে করে বুকে জমে থাকা কফ খুব সহজেই বেরিয়ে আসবে। লবণ পানি বুকে জমা কফ দূর করতে সাহায্য করে। দিনে দু-তিনবার উষ্ণ গরম লবণ পানি দিয়ে গার্গল করুন। এতে করে কফ দূর হবে।


ভিটামিন সি: আমরা সবাই জানি যে ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। লেবু, কমলা, সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূল ইত্যাদি ভিটামিন সি এর সহজলভ্য কয়েকটি উৎস। হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে তা সর্দি-কাশি কমাতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন সি শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ এবং অন্যান্য অসুস্থতা থেকে মুক্তি দিতে পারে।


তুলসী পাতা: ছেলেবেলা থেকেই জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথা, ব্রঙ্কাইটিস, ম্যালেরিয়া এবং আরও অনেক রোগের উপশমকারী উপাদান হিসেবে তুলসী পাতার রসের কথা আমরা জেনে এসেছি। এতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিবায়োটিক এবং আরও অনেক উপাদান রয়েছে। ৮ থেকে ১০টি তুলসী পাতা ভালো করে জলে ধুয়ে নিন। তারপর গরম জলে বেশ কিছুক্ষণ ধরে পাতাগুলি ফোটান। সেই ফোটানো জল ১ কাপ করে রোজ খান।


লেবু ও মধু: লেবু পানিতে ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে খান। মধু শ্বাসযন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, বুক থেকে কফ দূর করে গলা পরিষ্কার রাখে।


পেঁয়াজ: সমপরিমাণে পেঁয়াজের রস, লেবুর রস, মধু এবং পানি একসঙ্গে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। এই মিশ্রণটা হালকা ঠাণ্ডা করে দিনে ৩-৪ বার খান। এছাড়া কাঁচা পেঁয়াজও চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে করে সর্দি-কাশি দূর হবে।


হলুদ: হলুদে রয়েছে কারকুমিন। যা বুক থেকে কফ, শ্লেষ্মা দূর করে বুকের ব্যথা কমায়। এর অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান গলা ব্যথা, বুকের ব্যথা দূর করে। এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক চিমটি হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে প্রতিদিন কুলকুচি করুন। আরাম পাবেন। এছাড়া এক গ্লাস দুধে অর্ধেক চা চামচ হলুদগুঁড়ো মিশিয়ে ফোটান । ২ চা চামচ মধু ও সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে মিশ্রণটি দিনে ২-৩বার খান উপকার পাবেন।


রসুন: বলা হয় রসুনের থেকে ভালো ওষুধ আর হয় না। রসুনের গুণাগুণ অনেক। ভাইরাল ফিভার, ঠাণ্ডা লাগার মতো অসুখের প্রতিরোধ করতে রসুন খুব উপকারী। শুধু ঠাণ্ডা লাগাই নয়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কোলেস্টেরল, হার্ট অ্যাটাক এবং স্টোক প্রতিরোধেও রসুন খুব কাজে দেয়। ৫ থেকে ৬ কোয়া রসুন থেঁতো করে নিন। তারপর সেটা শুধু খেতে পারেন কিংবা স্যুপের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন।


আদা: রসুনের মতোই আদাও খুবই উপকারী একটি ঘরোয়া উপাদান। অনেকরকমের রোগ প্রতিরোধ করতে আদা খুব উপকারী। জ্বর কমাতে এক কাপ আদা সেদ্ধর রসে মধু মিশিয়ে খান। তৎক্ষণাৎ  ফল পাবেন।


দারুচিনি: গলা ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগা, কফ সারাতে দারুচিনি খুবই উপকারী। এতে অ্যান্টি ফাংগাল, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ভাইরাল উপাদান রয়েছে। ১ চামচ দারুচিনির গুঁড়ো মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ৩ দিন ২ থেকে ৩ বার খান।


ধনে বীজ: বিভিন্ন রান্নায় আমরা ধনে বীজ হামেশাই ব্যবহার করে থাকি। যে কোনও রান্নায় আলাদা স্বাদ যোগ করে এটি। শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ানোই নয়, ভাইরাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে এটি খুবই উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এটি সাহায্য করে।


মশলা চা: নাক বন্ধ থাকলে সেটি যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আদা, গোল মরিচ, লবণ এবং তুলসী পাতা চায়ের সাথে মিশিয়ে জ্বাল করে পান করলে তা সর্দি এবং কাশির জন্য দুর্দান্ত ঘরোয়া উপায় তৈরি করে।