নান্দনিক পোশাকে পূজার আমেজ

নান্দনিক পোশাকে পূজার আমেজ
পূজার আমেজ ধরা পড়ে সাজে। পূজার সাজ হতে পারে দুই রকম। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে সাজা হয় নিজের পছন্দমতো। অন্য সময়ে যেমন পোশাকে, যেভাবে সাজা হয় সে রকমই চলে এ কয়েকদিন। কিন্তু দশমীর দিনটার কথা আলাদা। এদিন সবাই চায় পূজার আমেজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে। দশমীর দিন যে শাড়িটা পরা হয় তার পাড়টা হতে পারে বাহারি। জমিন সাদা বা লাল রঙের হতে পারে। শাড়িতে এবার পাড়ে লেইস, আলগা পাড়, ব্লক, চুমকি দিয়ে কাজ করা হয়েছে।

দুর্গাপূজা এখন বাঙালির কাছে সার্বজনীন উৎসব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বাঙালির এক মহামিলনেরকেন্দ্র হয়ে ওঠে দুর্গাপূজার ম-পগুলো। তাই এই উৎসব উদযাপনে সাজপোশাকের প্রতি সবারই থাকে আলাদা নজর। পূজার নান্দনিক পোশাক নিয়ে এবারের আয়োজন।  


মা দুর্গাকে রূপসীর সাজে সাজাতে চান কারিগররা। যেন দেবীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ভক্তরা তাকে প্রাণভরে ভক্তি করে। রূপে দুর্গার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমন তুলনা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মোটা টানা টানা কাজল, লাল টুকটুকে ঠোঁট, আলতো ব্লকের ছোঁয়া, মাথায় আধখানা চাঁদ, মুখ পূর্ণচন্দ্রের মতো, এ রকম দুর্গা যে-কোনো নারীর কাছেই ঈর্ষণীয় বৈকি। এই সাজ যেন শাশ্বত ও চিরচেনা। সবসময়ের সাজের চেয়ে একটু যেন ভিন্ন হয় পূজার সাজ। পূজার আমেজ ধরা পড়ে সাজে। পূজার সাজ হতে পারে দুই রকম। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে সাজা হয় নিজের পছন্দমতো। অন্য সময়ে যেমন পোশাকে, যেভাবে সাজা হয় সে রকমই চলে এ কয়েকদিন। কিন্তু দশমীর দিনটার কথা আলাদা। এদিন সবাই চায় পূজার আমেজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে। দশমীর দিন যে শাড়িটা পরা হয় তার পাড়টা হতে পারে বাহারি। জমিন সাদা বা লাল রঙের হতে পারে। শাড়িতে এবার পাড়ে লেইস, আলগা পাড়, ব্লক, চুমকি দিয়ে কাজ করা হয়েছে।

পূজার শাড়িতে চুমকির কাজটা বেশ ভালো লাগে। লাল-সাদা ঢাকাই জামদানি পূজার দিনে পরলে চমৎকার দেখায়। এ ছাড়া লালপেড়ে গরদের আবেদন চিরন্তন। মসলিন বা সিল্কের শাড়িও পরা যেতে পারে। শাড়িতে কম কাজ থাকলেও ব্লাউজটা হতে পারে বাহারি। লম্বা হাতার, কুঁচি দেওয়া ব্লাউজ পরলে ভালো দেখাবে। ঘটিহাতাও চমৎকার লাগবে। এর সঙ্গে গয়নাটাও হওয়া চাই মানানসই। সোনার গয়না এখন তেমন পরা হয় না। এর বদলে অ্যান্টিক ধাঁচের গয়না ভালোই দেখাবে।

দুই হাত ভরে পরা যায় কাচের চুড়ি। পূজার সাজের সঙ্গে চুলে তাজাফুল থাকা চাই-ই। খোলাচুলে কানের পাশে গুঁজে দিতে পারেন যে-কোনো তাজাফুল। আর খোঁপায়ও তাজাফুলের মালা জড়িয়ে নিতে পারেন।’ ম-পে ম-পে লালপেড়ে গরদের শাড়ি আর সাদা ধুতি-পাঞ্জাবিই আবহমান বাংলার দুর্গাপূজার পোশাকের বৈশিষ্ট্য। তা সে জমিদার বাড়ির পূজাই হোক বা বারোয়ারি। অনেক সময় গরদের শাড়ির পাশাপাশি তসর, তাঁতে বোনা সুতি শাড়ি আর এ বাংলায় যেমন জামদানি, তেমনি ও বাংলায় বালুচরিও দেখা গেছে। তবে অবশ্যই অফ হোয়াইটের সঙ্গে লাল। পূজার চিরন্তন এ রঙে প্রতীয়মান হয় আশ্চর্য গাম্ভীর্য আর পরম পবিত্রতা। জমিদারদের সময়ে দুর্গার শৃঙ্গে ব্যবহার হতো আসল গয়না। তবে যারা যে রকম খুশি সে রকমই সাজিয়েছেন দেবীকে।

তারা বিশ্বাস করতেন মা তাদেরকে আরও দেবেন। এক শরতে দেবীকে যে গয়না পরানো হতো তা অনেকে পরাতেন পরের শরতেও, সেসব দিন ফুরিয়ে গেছে আজ। শ্রদ্ধা ও ভক্তি সবই অটুট আছে কিন্তু নিরাপত্তার কথা ভেবে বদলে গেছে দুর্গার শৃঙ্গার ধরন। আসল গয়নার জায়গায় স্থান পেয়েছে কারুকাজ করা শোলার গয়না। নখ, পায়েল, বিছা, চুড়ি, গলার হার সবই বানানো হয় শোলা দিয়ে; তবে আসল গয়না যে একেবারেই ব্যবহার হয় না, তা নয়। কিন্তু সময় তো আর বসে থাকে না। তাই অনেক কিছুর মতোই পূজার ফ্যাশনকেও প্রভাবিত করেছে সময়। ফলে মাত্র দশকতিনেক আগেও যে ধুতি ছিল ওতপ্রোত, সেই ধুতির জায়গা নিয়েছে পায়জামা বা আরও এগিয়ে বললে জিন্স। অন্যদিকে শাড়ির জায়গায় অনেকদিন আগেই প্রবেশাধিকার পেয়েছে সালোয়ার-কামিজ বা চুড়িদার কামিজ। এমনকি জিন্সও ব্রাত্য নেই। ফলে কোনো ম-পে জিন্স-পাঞ্জাবি বা জিন্স-ফতুয়া পরা তরুণ আর জিন্স-কুর্তিতে কোনো তরুণীকে দেখলে আজ আর আমরা অবাক হই না। কারণ সমসময়ে থাকাই তো ফ্যাশন। তাই সংযোজন আর বিয়োজনকে নিয়েই এগিয়ে চলেছে পূজার ফ্যাশনও।

আমাদের ফ্যাশন হাউসগুলো নান্দনিক ডিজাইনের পূজার পোশাক দিয়ে সাজিয়েছে তাদের আউটলেট। আপনি পূজার দিনের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে যেতে পারেন আড়ং, অঞ্জন’স, কে ক্র্যাফট, বিবিআনা, নগরদোলা, বাংলারমেলাসহ অন্যান্য ফ্যাশন হাউসগুলোতে। এবারের দুর্গাপূজার পোশাক প্রসঙ্গে অঞ্জন’সের শীর্ষ নির্বাহী শাহীন আহম্মেদ বলেন, ‘হিন্দু ধর্মালম্বী বাঙালির সবচাইতে বড় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজার পোশাক মানেই সাদা-লালপেড়ে শাড়ি। আর সাদা হলো পবিত্রতা ও শান্তির প্রতীক। এই দুয়ের মিলে ফুটে ওঠে পূজার চিরন্তন রূপ। আকর্ষণীয় পোশাকের সঙ্গেই শুরু হোক পূজার আনন্দ, এ ভাবনা থেকেই ফ্যাশন হাউস ডেইজি ডু নানাবয়েসি নারী ও মেয়েশিশুদের জন্য এনেছে তাদের পূজার সংগ্রহ।

এখানে পাওয়া যাবে মেয়েদের শাড়ি, কামিজ, কুর্তি, ওয়ান পিস, কেইপ, শার্ট, ওড়না ইত্যাদি। যেহেতু এ বছর পূজা কিছুটা গরম ও  বৃষ্টির মধ্যে পড়েছে, তাই পোশাক যেন আরামদায়ক হয়, সেদিকটা মাথায় রেখে আমাদের পোশাকগুলো তৈরি করা হয়েছে। মসলিন, সুতি, কোটা ও পাট ব্যবহৃত হয়েছে পোশাকে। নকশায় প্যাঁচা, ঘুঘু, প্রজাপতি, ময়ূর, চড়ুই, পদ্মফুল, কৃষ্ণচূড়া ইত্যাদির মোটিফ প্রাধান্য পেয়েছে। পোশাকে সাদা, ঘিয়ে, লাল, মেরুনের পাশাপাশি সবুজ, হলুদ, নীল, ম্যাজেন্টা রং রয়েছে।

কারচুপি ও এমব্রয়ডারি, মুক্তা, পাথর, কাচপুঁতি, খাড়ি, ব্লকপ্রিন্ট, জরির কাজ রয়েছে পোশাকে।  ঢাকার মোহাম্মদপুরের-এর রিংরোড ১৮/১০ ব্লক-এফ এ অবস্থিত ডেইজি ডু’র শোরুম। এটি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এ ছাড়া অনলাইনেও (িি.িভন.পড়স/ফধরংুফড়ড়২০১৯/) ডেইজি ডু’র পোশাক পাওয়া যায়। প্যাটার্ন বৈচিত্র্য থাকছে গতানুগতিক তারুণ্যনিভর। শাড়ির আঁচল, কামিজ বা কুর্তার নেক লাইন ও পাঞ্জাবির ক্যানভাসেও থাকছে স্বতন্ত্রতা। এবারের পূজোর কালেকশনে থাকছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, লং ফতুয়া, সালোয়ার-কামিজ ও শিশুদের পোশাক। তাই নিজেকে পোশাকি আভিজাত্যে রাঙাতে ষষ্ঠী থেকে দশমী বেছে নিতে পারেন অঞ্জন’সের পোশাক।’ উৎসবের ফ্যাশনে শুধু নতুনত্বই নয়, ঐতিহ্যের ছোয়া আছে বলেই উৎসবের সাজে সার্বজনীনতা খুঁজে পাওয়া যায়।



- ছবি : কে ক্র্যাফট, ইয়াংকে, ফড়িং ও ডেইজি ডু