Skip to content

২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পুত্রবধূর হাতে শাশুড়ি খুন মানবিকতা কোথায়!

বর্তমানে সমাজব্যবস্থা এতটাই নষ্টে পরিণত হয়েছে যে মানুষ নামের মানুষগুলোর মধ্যে মনুষ্যত্বের লেশমাত্র নেই! সবার সঙ্গে একধরনের বিদ্বেষপূর্ণ সম্পর্ক। কপউ কারো ভালো তো সহ্যই করতে পারে না৷ এমনকি ভালো-মন্দের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও তবু একজন অপরজনকে হেনস্তা করতে পারলে বিকৃত মানসিক স্বস্তি লাভ করে! যা মানব সমাজের জন্য খুব ভয়ংকর। পত্রিকার পাতা খুলতেই চোখে পড়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটার। কেউ স্ত্রীকে খুন করছে, তো কেউ স্বামীকে আবার কেউ শশুড়ি-পাড়া-প্রতিবেশীকে! কী এক আজব সময়ে এসে থমকে যাচ্ছে এ সমাজ! মানবিকবোধ আজ নেই বললেই চলে! ব্যক্তিত্ব তো কবেই লুটিয়েছে ধুলোয়।

গণমাধ্যম বরাত জানা যায় , মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ছেলের বউয়ের হাতে শাশুড়ি খুনের ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ওই কলেজ শিক্ষক অভিযুক্ত গৃহবধূর প্রেমিক বলেও মামলায় বলা হয়েছে।
প্ররোচনায় অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম মো. লালমুদ্দিন। তিনি হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা খাজা রহমত আলী কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক।

খুনের ঘটনায় গতকাল বুধবার (১০ জানুয়ারি) নিহত তহুরা বেগমের ভাই মামুন হোসেন (৩৬) বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আইরিন আক্তার ও লালমুদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে। আইরিনকে প্রেপ্তার করলেও পলাতক থাকায় লালমুদ্দিনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলায় বলা হয়েছে, লালমুদ্দিন আইরিন আক্তারের পূর্বের প্রেমিক। আইরিনের সাথে তিনি মোবাইলে নিয়মিত কথাবার্তা বলতেন। বিষয়টি জানতে পেরে শাশুড়ি তহুরা বেগম আইরিনকে লালমুদ্দিনের সাথে কথা বলতে নিষেধ করে। এতে আইরিন শাশুড়ির ওপর ক্ষিপ্ত হয়। প্রেমিক লালমুদ্দিনের প্ররোচনায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে টর্চলাইট ও ছুরি দিয়ে আঘাত করে শাশুড়িকে হত্যা করে আইরিন।

আইরিন নাম্মী নারীর নামে যে অভিযোগ তার সত্যতা যাচাই করে শাস্তির আওতায় আনা হোক। মানুষ হয়ে মানুষের ওপর এমন বিভৎসতা কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয়। আমাদের সমাজে আবহমান কাল ধরেই শাশুড়ির সঙ্গে পুত্রবধূর দ্বন্দ্ব পরিলক্ষিত। তবে এ ঘটনায় তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষণীয়। ফলে ঘটনাটি ভয়বহতার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করেছে।

দুজন ব্যক্তির মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্মান ও ভালোবাসায় যখন তার কোন একটির ঘাটতি দেখা দেয় তখন সেখানে সম্পর্কছেদই উত্তম। কিন্তু তা না করে বর্তমানে এ ধরনের বিভৎস ঘটনাকে সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নিচ্ছে বিকৃত মানসিকতার এই মানুষরা! তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গোছাতে গিয়ে কবর রচনা করছে নিজেদেরই! একবারও কি বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ে না এ শ্রেণী? এমন অসুস্থ সমাজ থেকে কবে পরিত্রাণ পাবে জাতি?

নারীর মুক্তি এ সমাজে আজও ঘটেনি! আদৌ ঘটবে কিনা সন্দেহ। কিন্তু নারী হয়ে অপর নারীকে খুন বা অসম্মান করা অন্যায়। সুস্থভাবে বাঁচতে, সম্মান নিয়ে থাকার জন্য নারীর উচিত নিজের মনকে, শান্তিকে প্রাধান্য দেওয়া। যদি সে পথে কেউ বাধা হয় তবে পথ পরিবর্তন আবশ্যক। কিন্তু কখনোই পথ পরিবর্তন করতে গিয়ে অন্যের জীবননাশ করা উচিত নয়। তা একদিকে পাপ, অমানবিকতা, আইনের লঙ্ঘন। ঘটনার তথ্য-উপাত্ত তথা সত্যতা বিচার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে নতুবা এদের বিকৃত মস্তিষ্কের বিকার এতোটাই বেড়েছে যা সত্যি ভয়ংকর! জয় হোক মানবতার। জয় হোক মনুষ্যত্বের।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ