Skip to content

৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্তন ক্যান্সার ও আমাদের অজ্ঞতা

"স্বাস্থ্যই সকল সুখে মূল"। অথচ মানব স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক রয়েছে যেসব বিষয়ে মানুষের অনেক অজ্ঞতা রয়েছে। স্তন ক্যান্সার এমনই একটি সমস্যা যা সম্পর্কে এখনো অনেকের স্পষ্ট ধারণা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৫ হাজারের বেশি মানুষ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। এরমধ্যে ৯৮ শতাংশের বেশিই নারী। প্রতি বছরে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর সবথেকে বড় কারণ হিসেবে অজ্ঞতা ও অসচেতনতা কেই দায়ী করা হয়। কারণ অধিকাংশ মানুষ এই রোগটি কি, কিভাবে হতে পারে, বা কি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এর থেকে মুক্ত থাকা যায় তা সম্পর্কে অবগত নন। তাই এই রোগ থেকে রক্ষা পেতে আগে আমাদের এর সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে হবে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক স্তন ক্যান্সার কি, কিভাবে হয় বা প্রতিরোধের উপায় সমূহ। 

 

 

স্তন ক্যান্সার ও লক্ষণসমূহ 

স্তন ক্যান্সার মূলত স্তনে কিছু কোষ বৃদ্ধি, যা অনিয়মিত এবং অস্বাভাবিক। এই অনিয়মিত এবং অস্বাভাবিক কোষ গুলো বিভাজনের মাধ্যমে টিউমার বা পিণ্ডে পরিণত হয়, যা রক্তনালীর কোষ রস ও অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

এক্ষেত্রে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন :

 

স্তনের আকারে অস্বাভাবিক ভাবে পরিবর্তন হতে পারে। নিপল ভেতরের দিকে চেপে যায় অনেক সময়। নিপল হতে রস নিঃসরণ হওয়া বা রক্তপাতও হয়। অনেকের পুঁজ নির্গতও হতে পারে।

 
স্তনে ব্যথাহীন চাকা বা পিণ্ড অনুভব হওয়া, যা দ্রুত বাড়তে থাকে। 

গলার কাছে বা বগলে চাকা অনুভব হওয়া। 

স্তনে দীর্ঘদিন ব্যথা হওয়া। 

নিপল ও তার আশেপাশে কমলালেবুর চামড়ার মত ছিদ্র হয়ে যাওয়া, চামড়ায় টোল পড়া, দীর্ঘস্থায়ী ঘা হওয়া, চামড়া কুচকে যাওয়ার মত লক্ষণ দেখা দেয়। 

এছাড়াও অনেকের নিপলের আশেপাশে ফুঁসকুড়ি ও চুলকানি হয়। 

 

এধরণের জটিলতা বা লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এমনকি ২০ বছরের পর থেকে সকলের উচিত প্রতি মাসেই স্তন পরীক্ষা করে নেওয়া। নারীদের ক্ষেত্রে প্রতি মাসের পিরিয়ডের ৫-৬ দিন পরে এই পরীক্ষা করে নেওয়া উত্তম। 

 

 

স্তন ক্যান্সারের কারণ 

স্তন ক্যান্সার নানা কারণেই হতে পারে। যেমন জীবনাচরণ ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের কারণে স্তন ক্যান্সার হতে পারে। শাকসবজি ও ফলমূলের চেয়ে প্রাণীজ আমিষ, চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খেলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। 

অনেকের আবার স্তন ক্যান্সারের বংশগত পূর্ব ইতিহাস থাকলেও হয়ে থাকে। অস্বাভাবিক ঋতুস্রাবও স্তন ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। অনেকের নির্দিষ্ট বয়সের আগেই ঋতুস্রাব শুরু হয় এবং দেরিতে বন্ধ হয়। সেক্ষেত্রে তারাও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকেন। অতিরিক্ত শারীরিক ওজনের জন্যও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। এছাড়াও যারা দেরিতে সন্তান ধারণ করেন বা সন্তান ধারণে অক্ষম অথবা যারা সন্ধানকে বুকের দুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকেন তারাও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ঔষধ সেবনের কারণেও এই রোগের আশংকা থাকে। 

সঠিক মাপের অন্তর্বাস ব্যবহার না করা এবং সারাদিন ধরে ব্যবহারের ফলেও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। অনেকে আবার ঘামের দুর্গন্ধ এড়াতে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন। তাই ডিওডোরেন্ট কেনার সময় এর উপাদান গুলো দেখে নেওয়া জরুরী একটি বিষয়। কারণ অনেক সময় এতে এ্যলুমিনিয়াম ভিত্তিক উপাদান থাকে যা স্তন ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। 

 

 

প্রতিরোধের উপায় 

এই রোগ থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতাই হতে পারে একমাত্র চাবিকাঠি। কেননা স্তন ক্যান্সারে মৃত্যু ঝুঁকি যেমন বেশি তেমনি রোগ নির্ণয়ের প্রথম থেকে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে শতভাগ নিরাময়ও সম্ভব। আর তাই অধিক সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রত্যেকে সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। যেমন :

অন্তর্বাস ব্যবহারে সতর্ক থাকা, সঠিক মাপ জানা, নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয় সময় ব্যতীত ব্যবহার না করাই উত্তম। 

খাবার দাবারে সুষম পুষ্টিগুণ বজায় রেখে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। 

নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করা এবং কোন ধরণের লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া। 

অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেও স্তন ক্যান্সার হয়ে থাকে, তাই অতিরিক্ত মদ্যপান হতে বিরত থাকতে হবে।

শরীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। পুরুষদের থেকে নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই প্রতিদিন কমপক্ষে আধঘন্টা ব্যায়াম করা এই ঝুঁকি এড়াতে শরীরের জন্য উত্তম । 

 

রক্ষণশীল সমাজে দেখা যায় অনেক সময় নারীরা লজ্জায় নিজেদের গোপনাঙ্গজনিত কোন রোগ বা অসুস্থতার কথা বলতে চান না। এতে তাদের জীবন ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। রোগ বা অসুস্থতা কখনো লজ্জার বিষয় নয়। তাই যেকোনো লক্ষণ বা অসুস্থতা দেখা দিলে সেটাকে গোপন না রেখে অবশ্যই তার চিকিৎসা নেওয়া উচিত।