Skip to content

৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

উঁকি দিয়ে মাকে খুঁজছে শিশু, সাড়া দিচ্ছে না করোনায় আক্রান্ত মা

উঁকি দিয়ে খুঁজছে মাকে শিশু সন্তান, সাড়া দিচ্ছেন না মা। ছোট্ট কোমলমতি পা দুটি উঁচু করে, নরম তুলতুলে হাত দিয়ে শক্ত করে জানালার গ্রিল ধরে উঁকি-ঝুঁকি’ মেরে মাকে দেখার চেষ্টা করছে। ডাকছে মা মা বলে এই বছর তিনেকের শিশু ছেলে। তবু সাড়া মিলছে না। মায়ের সাড়া না পেয়ে, চিৎকার, চেঁচামেচি তারপর কাঁদতে শুরু করা। এমনই এক চিত্র ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়ার ঘরে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকায় নিজের সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না তিনি।

 

সারাদিন বাচ্চাটি কেবল মাকে ডাকছে। মায়ের কাছে যেতে চাওয়া ছাড়া আর একটি কথাও বলে না। অথচ মা পাশের কক্ষে থেকেও একবার কোলে তুলে নিতে পাড়ছেন না অবুঝ শিশুটিকে। ছেলের কান্নাকে উপেক্ষা করে ঘরে দরজা বন্ধ করে থাকার যন্ত্রনা কেবল সেই মা বলতে পারেন!

 

হঠাৎ করে কেউ দেখলে বলবেন, এ কেমন মা! ঘরে থেকেও সন্তানের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না। তিনি কি অভিমান করে বসে আছেন? নাকি লুকোচুরি খেলছেন?

 

না তিনি (মা) অভিমানও করেননি, আর লুকোচুরি খেলছেন না। তবে ভবনের একটি কক্ষে বসে নীরবে কাঁদছেন। কারণ তিনি করোনা পজিটিভ। তাই শিশু সন্তান দ্বিজরাজসহ পরিবারের সবার কাছ থেকে আলাদা রয়েছেন। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়ুয়ার দৈনিক জীবনযাপনের গল্প এখন এটি।

 

তিনি করোনা ঠেকাতে, প্রান্তিক মানুষের সেবা নিশ্চিতকরণে ত্রাণ বিতরণ, কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়ন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে সম্মুখভাগের যোদ্ধা হয়ে মাঠ প্রশাসনে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট সতর্ক থাকলেও সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব হয়নি তার। গত ২৯ এপ্রিল ইউএনও’র করোনা পজিটিভের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন। এরপর থেকেই তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এর আগে ২৭ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষা করান তিনি। তবে কোনো উপসর্গ না থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন, সেই কৌতুহলবশত নমুনা পরীক্ষা করান।

 

এদিকে সরকারি বাসভবনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকায় পরিবারের সবার কাছ থেকে আলাদা থাকতে হয় ইউএনওকে। কিন্তু তার একমাত্র শিশু সন্তান কি বোঝে হোম কোয়ারেন্টাইন কি? সারাক্ষণ মা মা বলে চিৎকার-চেঁচামেচি, তারপর কাঁদতে থাকা। তাকে কে বোঝাবে, কতটা ভালোবাসা নিয়ে তার মা দরজা বন্ধ করে বসে আছেন।