৪ নভেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বিজ্ঞান

ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজস্ব বাংলা এআই তৈরির উদ্যোগ

ai-research-tool-comp

দেশের নাগরিকদের বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল তথ্যভান্ডার এক ছাতার নিচে আনতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর পরিকল্পনা করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। একই সঙ্গে ডেটা সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে নিজস্ব বাংলা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল তৈরি, শেয়ারড জিপিইউ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক ও একাডেমিক পেশাজীবীদের সংগঠন সেন্টার ফর টেকনোলজি জার্নালিজমের (সিটিজে) নির্বাহী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব ড. মো. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা। সভায় আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মজিবর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় সিটিজের সভাপতি ও সমকালের সহকারী সম্পাদক হাসান জাকির, মহাসচিব ও যুগান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক সাইফ আহমাদ, সহসভাপতি মিজানুর রহমান সোহেল, পরিচালক (সাংগঠনিক) রেজাউল করিম জ্যান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিবেদক কাজী সোহাগ, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার রাহিতুল ইসলামসহ সংগঠনটির অন্য সদস্যরা অংশ নেন।

সভায় আইসিটি সচিব জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও করসংক্রান্ত নথিসহ নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি ডেটাবেজ সমন্বিত করে একটি ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল তথ্য এক জায়গায় সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে তথ্যের অপব্যবহার ও জালিয়াতি প্রতিরোধের পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে। এ জন্য তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি বিশ্বস্ত ইন্টারঅপারেবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির কাজও চলছে।

দেশের সাইবার পরিসর সুরক্ষিত রাখতে সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সচিব। তিনি বলেন, সংস্থাটিতে ১২০ জন জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কারিগরি বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ রাখা হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের তথ্যের ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ লক্ষ্যেই নিজস্ব এআই মডেল এবং শেয়ারড জিপিইউ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Advertisements

এ ছাড়া ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ ও আইসিটি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব সেতু ও টোল প্লাজার জন্য ‘ইউনিফাইড ডিজিটাল টোল সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান আইসিটি সচিব।

সভায় আইসিটি বিভাগের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করার আহ্বান জানায় সিটিজে। সংগঠনটির সভাপতি হাসান জাকির বলেন, অতীতে দক্ষ জনবল তৈরির নামে নামমাত্র প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোনো গোষ্ঠীকে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অর্থের অপচয় হয়—এমন প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ না করারও আহ্বান জানান তিনি।

সিটিজের মহাসচিব সাইফ আহমাদ বলেন, প্রযুক্তি খাতে নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডেটা প্রাইভেসি ও সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। উদ্ভাবনী উদ্যোগসহ বিভিন্ন প্রকল্পে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা যেন প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের সুযোগ রাখা যাবে না।

মতবিনিময় সভায় সিটিজের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সংবাদ প্রতিবেদন তৈরির প্রয়োজনে সাংবাদিকদের দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা, এআই ও সাইবার নিরাপত্তাসহ তথ্যপ্রযুক্তির নতুন খাত এবং কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত কর্মশালার আয়োজন করা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কমিটি ও সভায় সিটিজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

সিটিজের পর্যবেক্ষণ ও দাবিগুলোকে প্রযুক্তি খাতের স্বচ্ছতা এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের জন্য সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন আইসিটি সচিব ড. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইসিটি বিভাগ বদ্ধপরিকর। আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন ছাড়া আর কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফলে নামমাত্র প্রশিক্ষণের সুযোগ আর থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, স্টার্টআপসহ উদ্ভাবনী প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে সিটিজের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি সংগঠনটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

Advertisements