প্রথম সাক্ষাতেই মীরাকে জুতার ছবি তুলতে বলেছিলেন শাহিদ, কেন?

বলিউড তারকা শাহিদ কাপুর ও মীরা রাজপুতের দাম্পত্য জীবনের মজার মুহূর্তগুলো প্রায়ই ভক্তদের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে। তাদের প্রেমের শুরুটাও ছিল বেশ বিচিত্র কিছু অভিজ্ঞতায় ভরা। প্রথমবার দেখা হওয়ার দিন মীরাকে নিজের জুতার ছবি তুলতে বলেছিলেন শাহিদ। অভিনেতার এমন অদ্ভুত আবদারের পেছনে কী কারণ ছিল, সম্প্রতি সেই গল্পই প্রকাশ করেছেন এই দম্পতি।

ছোট ভাই ঈশান খট্টরকে সঙ্গে নিয়ে সম্প্রতি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-তে অতিথি হিসেবে হাজির হন শাহিদ ও মীরা। অনুষ্ঠানে তাদের পরিচয়, প্রেম এবং বিয়ের আগের নানা স্মৃতি নিয়ে কথা হয়। সেখানেই প্রথম সাক্ষাতের একটি মজার ঘটনা সামনে আনেন তারা।
মীরা জানান, প্রথমবার দেখা হওয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ তাদের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা গল্প করার পর হঠাৎ শাহিদ তাকে ফোন বের করে নিজের জুতার ছবি তুলতে বলেন। এমন অপ্রত্যাশিত অনুরোধে কিছুটা অবাক হয়ে যান মীরা। তারপরও ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে জুতার ছবি তুলে দেন তিনি।
ছবি তোলার পর মীরা শাহিদের কাছে জানতে চান, জুতাটির মধ্যে এমন কী বিশেষত্ব রয়েছে, যার জন্য ছবি তুলতে হলো। তখন অভিনেতা বেশ গর্বের সঙ্গে জানান, তার জুতাটি অন্ধকারে আলো ছড়ায়। তবে মীরার কাছে বিষয়টি তেমন চমকপ্রদ মনে হয়নি।
শাহিদ জানান, বিশেষ ধরনের ওই জুতা ব্যবহারের পেছনে আসলে অন্য একটি কারণ ছিল। পাপারাজ্জিদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশ থেকে নিজেকে আড়াল করতেই তিনি এমন জুতা পরতেন। তবে প্রথম সাক্ষাতের সময় মীরা যেহেতু চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাই এই কৌশলটি তার কাছে কতটা অচেনা হতে পারে, তা শাহিদের মাথায় আসেনি।

প্রথম দেখার স্মৃতি বলতে গিয়ে দুজনের বয়সের ব্যবধান নিয়েও মজা করেন অভিনেতা। শাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের প্রথম পরিচয়ের সময় মীরার বয়স ছিল ২০ বছর, আর তার নিজের বয়স ৩৪। বয়সের এতটা পার্থক্যে তাঁদের চিন্তাভাবনা ও মানসিকতার মিল হবে কি না, তা নিয়ে মনে প্রশ্ন ছিল। তবে কথা বলতে বলতে কখন যে সাত ঘণ্টা পার হয়ে গিয়েছিল, তা তারা বুঝতেই পারেননি।
অনুষ্ঠানে বিয়ের আগে মীরার পরিবারের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার অভিজ্ঞতাও শোনান শাহিদ। তখন ‘উড়তা পাঞ্জাব’ সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। ছবিতে টমি সিং চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তার চুলে ছিল উজ্জ্বল সবুজ রং। সেই অদ্ভুত সাজ নিয়েই মীরার দিল্লির বাড়িতে প্রথমবার যান অভিনেতা।
শাহিদ জানান, বাড়ির দরজা খুলেছিলেন মীরার বাবা। তিনি পেশায় প্রকৌশলী এবং আইআইটির সাবেক শিক্ষার্থী। হবু জামাতার মাথায় সবুজ চুল ও অদ্ভুত সাজসজ্জা দেখে কিছুক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিলেন তিনি। শাহিদের মনে হয়েছিল, তার এমন চেহারা দেখে মীরার বাবা হয়তো ভাবছিলেন, মেয়েকে কেমন পাত্রের হাতে তুলে দিতে যাচ্ছেন!
শ্বশুরের সেই প্রতিক্রিয়া এখনো মনে রেখেছেন অভিনেতা। তার মতে, মীরার বাবা অত্যন্ত নিয়মশৃঙ্খলাপরায়ণ একজন মানুষ। তাই শাহিদের এমন ব্যতিক্রমী চেহারা দেখে তার বিস্মিত হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল।
শুধু মীরার বাবাই নন, বিয়ের পর শাহিদের ‘উড়তা পাঞ্জাব’ সিনেমা দেখেও বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিলেন মীরা। দুজন একসঙ্গে এডিটিং রুমে বসে ছবিটি দেখেছিলেন। সিনেমা শেষ হওয়ার পর মীরার প্রতিক্রিয়া নিয়ে মজা করে শাহিদ বলেন, পুরোটা সময় মীরা সোফার অন্য প্রান্তে বসে ছিলেন। তার মুখের অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন ভাবছেন—কাকে বিয়ে করে ফেললেন!
অনুষ্ঠানে শাহিদের জনপ্রিয় সিনেমা ‘কবীর সিং’ নিয়েও হাস্যরস করেন সঞ্চালক কপিল শর্মা। এ সময় শাহিদ জানান, ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য তাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন মীরাই। অন্যদিকে মীরা বলেন, বিয়ের আগে শাহিদের খুব বেশি সিনেমা দেখা হয়নি তার। তবে ‘জব উই মেট’ ছিল তার পছন্দের সিনেমাগুলোর একটি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শাহিদ কাপুর ও মীরা রাজপুত। তাদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান—মেয়ে মিশা ও ছেলে জাইন। ২০১৬ সালে জন্ম নেয় মিশা এবং ২০১৮ সালে পরিবারে আসে জাইন। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে তাদের বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও মজার খুনসুটি এখনো যে অটুট, কপিল শর্মার অনুষ্ঠানে তাদের কথোপকথনেই তা আবারও উঠে এসেছে।



