ভৈরবে ১৩ বছরের কিশোরীর বাল্যবিয়ে বন্ধ, মুচলেকায় ছাড়া পেলেন বাবা ও কাজি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা ও বিয়ে পড়াতে আসা কাজিকে আটক করা হয়। পরে বাল্যবিয়ে না দেওয়ার অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডিবের উত্তরপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা জুনাঈদ মিয়া এবং স্থানীয় কাজি মো. উসমান গণি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চণ্ডিবের উত্তরপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সেখানে জুনাঈদ মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরীর বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল।
তিনি বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করা হয়। এ সময় বিয়ে পড়াতে আসা কাজি উসমান গণিকে আটক করা হয়। কারণ, আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন করানোর সুযোগ নেই।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বরপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। পরে কিশোরীর বাবার কাছ থেকে মেয়ের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে বাল্যবিয়ে না দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়। অন্যদিকে, কাজি উসমান গণিও নিজের ভুল স্বীকার করেন। তাঁদের দুজনের কাছ থেকেই মুচলেকা নেওয়ার পর সোমবার বিকেলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এএইচএম আজিমুল হক আরও বলেন, সমাজে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের প্রবণতা উদ্বেগজনক। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে কিশোরীরা নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতার মুখে পড়ে। বিশেষ করে অল্প বয়সে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে অনেকের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
তিনি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সম্মিলিত সচেতনতাই পারে সমাজ থেকে বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে।
সূত্র: যুগান্তর



