টিভি দেখতে দেখতে খাবার খাওয়ার অভ্যাসে বাড়তে পারে হজমের সমস্যা

ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনে অনেকেরই খাবার খাওয়ার সময় টেলিভিশন দেখা, মোবাইল ফোন ব্যবহার কিংবা অফিসের কাজ করার অভ্যাস রয়েছে। কেউ কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করতে করতেই খাবার শেষ করেন। তবে একসঙ্গে একাধিক কাজে মনোযোগ দিতে গিয়ে খাবারের প্রতি যথাযথ মনোযোগ থাকে না। ফলে অজান্তেই তৈরি হয় দ্রুত খাবার খাওয়া, ঠিকমতো না চিবানো এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়ার প্রবণতা। এসব অভ্যাসের কারণে হজমে সমস্যা, পেট ফাঁপা, বদহজম ও পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে শুধু খাবারের পুষ্টিগুণের দিকে নজর দিলেই হবে না, খাবার গ্রহণের পদ্ধতির বিষয়েও সচেতন হতে হবে। আয়ুর্বেদশাস্ত্রেও খাবার খাওয়ার সময় শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই খাবারের সময় টেলিভিশন, মোবাইল ফোন কিংবা অন্য কোনো কাজে মনোযোগ না দিয়ে খাওয়ার প্রতি মনোযোগী হওয়া ভালো। প্রতিটি লোকমা ধীরে ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হয়।
খাবারের তাপমাত্রার বিষয়টিও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। ফ্রিজ থেকে বের করা অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার কিংবা খুব বেশি গরম খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো। স্বাভাবিক তাপমাত্রার অথবা হালকা গরম খাবার অনেকের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। বিশেষ করে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজের শরীরের সহনশীলতা বিবেচনা করা জরুরি।
খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের স্বাদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। আয়ুর্বেদশাস্ত্রে মিষ্টি, টক, লবণাক্ত, ঝাল, তিতা ও কষা—এই ছয় ধরনের স্বাদের কথা উল্লেখ রয়েছে। প্রতিদিনের খাবারে তাজা ফলমূল, ডাল, সবুজ শাকসবজি ও সালাদ রাখলে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আসে। পাশাপাশি এসব খাবার থেকে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যতন্তু পেতে পারে। তবে শুধু স্বাদের বৈচিত্র্য নয়, সুষম ও পরিমিত খাবার গ্রহণের দিকেও নজর দিতে হবে।
খাওয়ার সময় পানি পান নিয়েও অনেকের মধ্যে নানা ধারণা রয়েছে। খাবারের সঙ্গে একবারে অতিরিক্ত পানি পান না করে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে পান করা যেতে পারে। তবে খাবারের আগে বা পরে পানি পান করলে হজমের ক্ষতি হয়—এমন ধারণার পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাতের খাবার গ্রহণের সময়ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খেলে অনেকের অস্বস্তি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হতে পারে। এ কারণে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ও ভারী খাবার এড়িয়ে চললে স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে।
খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়ার অভ্যাসও পরিহার করা উচিত। বিশেষ করে ভারী খাবার গ্রহণের পরপরই শুয়ে পড়লে কারও কারও বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, খাবারের পর ধীরে ধীরে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা ভালো অভ্যাস। প্রায় ১০ মিনিট হালকা হাঁটাচলা করলে খাবার পরবর্তী অস্বস্তি কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে খাওয়ার পরপরই ভারী ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
হজমপ্রক্রিয়া ভালো রাখতে খাবার গ্রহণের সময় সচেতনতা জরুরি। টেলিভিশন বা মোবাইল দেখতে দেখতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে ধীরে ধীরে ও মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত হাঁটাচলা এবং সময়মতো ঘুমানোর অভ্যাস বজায় রাখলে সুস্থ জীবনযাপন অনেকটাই সহজ হবে।



