মধুমতীর বুকে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ, দুই তীরে লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস

মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতী নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। এ আয়োজন ঘিরে নদীর দুই তীরে নামে মানুষের ঢল। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ, বিভিন্ন বয়স ও পেশার লাখো মানুষ এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে জড়ো হন। দর্শকদের উপস্থিতিতে নদীর দুই পাড় পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে মহম্মদপুরের এলাংখালী সেতুসংলগ্ন মধুমতী নদীতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নদীর দক্ষিণ প্রান্তের রুইজানি এলাকা থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ১২টি সুসজ্জিত নৌকা যাত্রা শুরু করে। খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা এসব নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রতিযোগিতা শুরু হলে নদীজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। চড়ন্দারের ঘণ্টার শব্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মাঝিরা একসঙ্গে বৈঠা চালিয়ে নৌকাগুলো দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতে থাকেন। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে মধুমতীর বুক। প্রতিযোগিতার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন নদীর দুই তীরে অপেক্ষমাণ দর্শকেরা।
আয়োজকদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন এই মধুমতী নৌকাবাইচ। প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে মহম্মদপুর উপজেলা সদরসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামে কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে এ আয়োজনে অংশ নেন।
ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ উপভোগ করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ও মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।
মহম্মদপুর মধুমতী নৌকাবাইচ মেলা-২০২৬ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এবং রূপায়ণ গ্রুপ আর্থিক সহযোগিতা দেয়।
মধুমতী নৌকাবাইচ ও মেলা কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মো. মৈমুর আলী মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. হাসিনা মোমতাজ, মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুনাহার এবং মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিরা।
গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ নৌকাবাইচকে ঘিরে এমন আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ ও আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে। নদীকেন্দ্রিক এই ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।



