১ নভেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
জীবনযাপন

বিশ্ব নিরামিষ দিবস আজ

images (6)

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ ১ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব নিরামিষ দিবস। ১৯৭৭ সালের ১ অক্টোবর থেকে দিবসটি উদ্‌যাপন শুরু হয়। নিরামিষ বা শাকসবজিজাতীয় খাবারের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং খাদ্যতালিকায় উদ্ভিজ্জ খাবারের পরিমাণ বাড়াতে উৎসাহিত করাই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশেও দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পালিত হয়।

পুষ্টিবিদদের মতে, নিরামিষজাতীয় খাবার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত সুষম নিরামিষ খাবার গ্রহণ করলে শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারীদের মধ্যে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে। এ ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ খাদ্যতন্তু, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ফলিক অ্যাসিড, ম্যাগনেশিয়াম এবং বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নিরামিষ খাবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে সাধারণত সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ কম থাকে এবং উদ্ভিজ্জ খাবারে প্রাকৃতিকভাবে কোনো কোলেস্টেরল থাকে না। ফলে নিয়মিত ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, বাদাম ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাবার গ্রহণ রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখা এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে।

খাদ্যতালিকায় বেশি পরিমাণে তাজা ফলমূল ও সবুজ শাকসবজি রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পায়। এসব উপাদান শরীরকে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ খাদ্যে থাকা খাদ্যতন্তু হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত নিরামিষ খাবার গ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

নিরামিষ খাবার শুধু সহজপাচ্যই নয়, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চর্বি বিপাকের ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে। শাকসবজি ও ফলমূলের পাশাপাশি ডাল, শিমজাতীয় খাবার, বাদাম ও বীজ খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে শুধু শাকসবজি খাওয়ার পরিবর্তে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি, যাতে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি১২সহ সব গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত তাজা ফলমূল ও সবুজ শাকসবজি রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। নিরামিষ খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে মানুষকে উৎসাহিত করাই বিশ্ব নিরামিষ দিবসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

Advertisements
Advertisements