৩০ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

রাত বাড়লেই কাশি বাড়ে? স্বস্তি পেতে যা করবেন

IMG_7055

দিনের বেলা কাশি তেমন বিরক্তিকর মনে না হলেও রাত হলেই তা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি থাকলে গলা ও শ্বাসনালিতে অস্বস্তি তৈরি হয়। দূষিত বাতাস শ্বাসতন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, শ্লেষ্মা বা কফের পরিমাণ বাড়াতে পারে এবং শ্বাসনালিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। এর সঙ্গে অ্যালার্জি, হাঁপানি কিংবা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে রাতে কাশি আরও তীব্র হতে পারে, ব্যাহত হতে পারে ঘুম।

রাতে কাশি কেন বাড়ে এবং এ সমস্যা থেকে স্বস্তি পেতে কী করা যায়, তা জানা থাকলে শ্বাসতন্ত্রের যত্ন নেওয়া সহজ হয়।

বায়ুদূষণ যেভাবে কাশি বাড়ায়

বায়ুদূষিত বাতাসে বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস ও সূক্ষ্ম কণা থাকে। এর মধ্যে পিএম২.৫ নামের অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে অস্বস্তি ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে এলে গলা ও ফুসফুসে জ্বালাপোড়া হতে পারে। তখন শ্বাসনালি থেকে শ্লেষ্মা তৈরি বাড়ে এবং শ্বাসতন্ত্র পরিষ্কার রাখার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাশি দেখা দেয়।

যাদের হাঁপানি, অ্যালার্জি, দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস কিংবা শ্বাসতন্ত্রের অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে, তারা দূষণের প্রতি তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল। তবে আগে থেকে ফুসফুসের সমস্যা না থাকলেও দূষণের মাত্রা বেড়ে গেলে গলাব্যথা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

রাতে কাশি বেড়ে যাওয়ার কারণ

Advertisements

রাতে কাশি তীব্র হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করতে পারে।

গলার পেছনে শ্লেষ্মা জমা: শুয়ে পড়লে নাক ও সাইনাসের শ্লেষ্মা গলার পেছনে নেমে আসতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে পোস্ট-নাসাল ড্রিপ বলা হয়। এর ফলে বারবার কাশি হতে পারে। অ্যালার্জি, সাইনাসের সমস্যা কিংবা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ থাকলে এমনটা বেশি দেখা যায়।

হাঁপানির উপসর্গ বেড়ে যাওয়া: হাঁপানিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রাতে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও বুকে অস্বস্তি বাড়তে পারে। ঘুমের সময় শ্বাসনালির স্বাভাবিক পরিবর্তন এবং আগে থেকে থাকা প্রদাহের কারণে এমনটা হতে পারে। দিনের বেলায় দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে এলে রাতের উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে।

অ্যাসিড রিফ্লাক্স: শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর অ্যাসিড বা অন্যান্য উপাদান খাদ্যনালি ও গলার দিকে উঠে আসতে পারে। বিশেষ করে রাতে দেরিতে বা ভারী খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লে এ সমস্যা বাড়তে পারে। এর ফলে গলায় অস্বস্তি ও কাশি দেখা দিতে পারে।

ঘরের ভেতরের দূষণ: বাইরে দূষণ থেকে বাঁচতে ঘরে থাকলেও কাশির ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না। সিগারেটের ধোঁয়া, ধূপ, মশার কয়েল, রান্নার ধোঁয়া ও ধুলাবালি শ্বাসনালিতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বাইরের দূষণে শ্বাসনালি আগে থেকেই সংবেদনশীল হয়ে থাকলে এসব উপাদান কাশি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

রাতে কাশি কমাতে যা করবেন

কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে দূষণের সংস্পর্শ কমানো এবং কাশির অস্বস্তি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বায়ুমানের সূচক দেখুন: বাইরে যাওয়ার আগে স্থানীয় বায়ুমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) পরীক্ষা করুন। দূষণ বেশি থাকলে বাইরে ব্যায়াম করা এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান করা এড়িয়ে চলুন।

ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখুন: বাইরের বাতাস বেশি দূষিত থাকলে এবং ঘরের ভেতরের বাতাস তুলনামূলক পরিষ্কার হলে জানালা বন্ধ রাখতে পারেন। সম্ভব হলে উপযুক্ত HEPA ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন।

ধোঁয়া ও ধুলাবালি এড়িয়ে চলুন: ঘরের ভেতরে ধূমপান করবেন না। বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ভালো নয়, এমন স্থানে ধূপ বা মশার কয়েল জ্বালানো থেকে বিরত থাকুন। রান্নার ধোঁয়া কমাতে কার্যকর বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন এবং নিয়মিত ধুলাবালি পরিষ্কার করুন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: পানি পান করলে গলার শুষ্কতা ও অস্বস্তি কমতে পারে। পাশাপাশি শ্লেষ্মা অতিরিক্ত ঘন হয়ে যাওয়া রোধ করতেও সহায়তা করে।

শোয়ার ভঙ্গি পরিবর্তন করুন: নাক থেকে গলায় শ্লেষ্মা নামা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে কাশি হলে মাথার দিক কিছুটা উঁচু করে শুলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকলে ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করুন।

হাঁপানির চিকিৎসা মেনে চলুন: হাঁপানিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের দেওয়া চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করা জরুরি। নির্ধারিত ওষুধ নিয়মমতো ব্যবহার করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা বা পরিবর্তন করা উচিত নয়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে সাময়িক কাশি হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন কাশি থাকলে কিংবা বারবার ফিরে এলে শুধু বায়ুদূষণকে কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অ্যালার্জি, হাঁপানি, সংক্রমণ বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে।

কাশি তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে, বারবার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটালে কিংবা ঘন ঘন ফিরে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, কাশির সঙ্গে রক্ত পড়া কিংবা ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

Advertisements