৩০ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
ধর্ম

সন্তানের জন্মদিনে দান-সদকা করলে কি সওয়াব মিলবে?

IMG_7053

সন্তানের জন্মদিনকে ঘিরে নানা আয়োজন করেন অনেক মা-বাবা। কেউ কেক কেটে দিনটি উদযাপন করেন, আবার কেউ আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে গরিব-দুঃখী ও এতিমদের খাবার খাওয়ান কিংবা দান-সদকা করেন। তবে জন্মদিন উপলক্ষে দান করলে ইসলামের দৃষ্টিতে সওয়াব পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।

ইসলামে আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়, দান-সদকা করা এবং দরিদ্র ও এতিমদের খাবার খাওয়ানো প্রশংসনীয় আমল। সন্তান জন্মগ্রহণ করা এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকা মা-বাবার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় নিয়ামত। এই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে কেউ গরিব, মিসকিন বা এতিমদের খাবার খাওয়ালে কিংবা সাধারণ নফল সদকা করলে তা সওয়াবের কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে জন্মদিনকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট দিনে দান করাকে শরিয়তের বিশেষ ইবাদত বা পালনীয় বিধান মনে করা উচিত নয়। বরং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে যেকোনো দিন দান-সদকা করা যায়। জন্মদিনেই দান করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

অন্যদিকে, ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মদিন পালন নিয়ে আলেমদের মধ্যে আপত্তি রয়েছে। অনেক আলেম এটিকে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ হিসেবে বিবেচনা করেন। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪০৩)

এ ছাড়া জন্মদিন উদযাপনের নামে অপচয় ও অপব্যয় থেকেও বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আহার করো ও পান করো। কিন্তু অপচয় করো না।’ (সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩১)

সুতরাং সন্তানের জন্ম ও সুস্থতার জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নফল সদকা করা সওয়াবের কাজ। তবে জন্মদিনকে কেন্দ্র করে দানকে বিশেষ ধর্মীয় বিধান মনে না করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় দান করাই মূল বিষয়।

Advertisements
Advertisements