হাসির আড়ালে গভীর বিষন্নতা! স্মাইলিং ডিপ্রেশনে ভুগছেন না তো, বুঝবেন কিভাবে?

অনেকের ধারণা, জীবনে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মন খারাপ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই চিন্তা থেকে তাঁরা নিজের কষ্টকেও গুরুত্ব দিতে চান না। অথচ বাইরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও ভেতরে বিষণ্নতা থাকতে পারে।
যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
আনন্দ হারিয়ে ফেলা: আগে যেসব কাজ করতে ভালো লাগত, সেগুলোতেও আগ্রহ কমে যেতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা প্রিয় শখের মধ্যেও আর আনন্দ খুঁজে পান না কেউ কেউ।
একা হলেই মন খারাপ: সবার সামনে হাসিখুশি থাকলেও একা হলে কান্না পায়, শূন্যতা অনুভূত হয় কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা তৈরি হয়। নিজের অনুভূতি অন্যের কাছ থেকে আড়াল করতে গিয়ে মানসিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
ঘুম ও খাওয়ায় পরিবর্তন: ঘুম কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘুম, ক্ষুধামন্দা কিংবা খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন বিষণ্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
অতিরিক্ত ক্লান্তি: পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও ক্লান্ত লাগা, মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হওয়া কিংবা ছোট সিদ্ধান্ত নিতেও কষ্ট হওয়া মানসিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
তবে এসব লক্ষণের এক-দুটি থাকলেই বিষণ্নতা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। মন খারাপ বা আগ্রহ হারানোর মতো লক্ষণ প্রায় প্রতিদিন অন্তত দুই সপ্তাহ স্থায়ী হলে এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কীভাবে সামলাবেন?
প্রথমেই নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করা বন্ধ করুন। সব সময় শক্ত থাকার কিংবা অন্যকে খুশি রাখার দায়িত্ব আপনার একার নয়। বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে মনের কথা বলুন। নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার, শরীরচর্চা এবং কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ মানসিক সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে।
লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী মনোচিকিৎসা এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ কার্যকর হতে পারে।
পরিচিত কারও মধ্যে এমন লক্ষণ দেখলে তাঁকে শুধু ইতিবাচক চিন্তা করতে বলবেন না। বরং বিচার না করে তাঁর কথা শুনুন। মনে রাখবেন, হাসিমুখ মানেই সুখী হওয়া নয়। কখনো কখনো একজন মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয় এমন কাউকে পাওয়া, যাঁর সামনে তাঁকে ভালো থাকার অভিনয় করতে হয় না।



