২৩ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৭ কার্তিক ১৪৩৩
জীবনযাপন

পূজার ছুটি শেষে কাজে ফেরার আগে ক্লান্তি দূর করবেন যেভাবে

images (17)

উৎসবের দিনগুলোতে ঘোরাঘুরি, রাত জেগে আড্ডা, আনন্দ-উৎসব আর পছন্দের খাবার খাওয়ার ব্যস্ততায় দৈনন্দিন রুটিনে বেশ পরিবর্তন আসে। কিন্তু ছুটি শেষ হওয়ার পর আবার ফিরতে হয় অফিসের কাজ, দায়িত্ব ও ব্যস্ত জীবনে। দীর্ঘ বিরতির পর অনেকেরই সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হয়, শরীরে অবসাদ অনুভূত হয় এবং কাজে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতেও সময় লাগে। ঘুমের অনিয়ম, পর্যাপ্ত পানি না পান করা কিংবা অতিরিক্ত ভারী খাবার খাওয়ার প্রভাবও এ সময় অনুভূত হতে পারে।

সংগৃহীত

ছুটি শেষে হাতে যদি মাত্র এক দিন সময় থাকে, তাহলেও কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে শরীর ও মনকে কর্মব্যস্ত জীবনের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব। সেজন্য হঠাৎ করে কঠোর রুটিন অনুসরণ না করে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে আসার চেষ্টা করা ভালো।

ঘুমের রুটিনে ফিরুন

পূজার ছুটিতে রাত জেগে থাকা বা দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি হলে কাজ শুরুর আগের দিন থেকেই ঘুমের সময় ঠিক করার চেষ্টা করুন। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যান এবং শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা কিংবা ল্যাপটপে কাজ করার অভ্যাস ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই শোয়ার আগে এসবের ব্যবহার কমিয়ে আনুন। পাশাপাশি ছুটির শেষ দিনেও সারাক্ষণ বিছানায় শুয়ে না থেকে স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্মের মধ্যে থাকার চেষ্টা করুন।

শরীরে পানির অভাব হতে দেবেন না

Advertisements

উৎসবের ব্যস্ততায় অনেক সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা হয় না। বিশেষ করে বাইরে ঘোরাঘুরি, গরম আবহাওয়া কিংবা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানির চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। তাই ছুটি শেষ হওয়ার আগে থেকেই নিয়মিত পানি পান করার দিকে মনোযোগ দিন।

সাধারণ পানির পাশাপাশি ডাবের পানি, স্যুপ এবং পানিসমৃদ্ধ ফলও খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। তবে শরীর দ্রুত সতেজ করার জন্য বিশেষ কোনো পানীয় বা তথাকথিত ‘ডিটক্স’ পানীয়ের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমই সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।

খাবারের অভ্যাস স্বাভাবিক করুন

উৎসবের সময় মিষ্টি, ভাজাপোড়া কিংবা ভারী খাবার তুলনামূলক বেশি খাওয়া হতে পারে। ছুটি শেষে তাই না খেয়ে থাকা বা হঠাৎ কঠোর ডায়েট শুরু না করে স্বাভাবিক ও সুষম খাবারের অভ্যাসে ফিরে আসুন।

প্রতিদিনের খাবারে ভাত বা রুটির সঙ্গে শাকসবজি, ডাল, ডিম, মাছ কিংবা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখতে পারেন। পাশাপাশি মৌসুমি ফল ও টক দইও খাওয়া যেতে পারে। খাবারের পরিমাণ পরিমিত রাখা এবং নিয়মিত সময়ে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ওজন কমানো বা শরীরকে চটজলদি সতেজ করার আশায় হঠাৎ খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই।

হালকা শরীরচর্চায় কাটান অবসাদ

উৎসবের সময় দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটি, দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াতের কারণে শরীরে ব্যথা ও পেশিতে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় ছুটির শেষ দিনে কঠিন ব্যায়াম করার পরিবর্তে হালকা হাঁটাহাঁটি, সহজ স্ট্রেচিং কিংবা স্বস্তিদায়ক কিছু যোগব্যায়াম করা যেতে পারে।

এ ধরনের হালকা শরীরচর্চা শরীরকে সচল রাখতে এবং মানসিকভাবে চাঙা অনুভব করতে সহায়তা করতে পারে। তবে শরীরে অতিরিক্ত ব্যথা, দুর্বলতা কিংবা অসুস্থতা থাকলে জোর করে ব্যায়াম করা ঠিক নয়। সে ক্ষেত্রে বিশ্রাম নেওয়াই ভালো।

মানসিক প্রশান্তির জন্য সময় রাখুন

ছুটি শেষে কাজে ফেরার কথা ভেবে অনেকের মধ্যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। আবার উৎসবের আনন্দ থেকে হঠাৎ নিয়মিত জীবনে ফিরে আসার কারণেও মানসিক ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। তাই শুধু শারীরিক বিশ্রাম নয়, মানসিকভাবে স্বস্তি পাওয়ার জন্যও কিছুটা সময় রাখা প্রয়োজন।

ছুটির শেষ দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় কমিয়ে পছন্দের বই পড়া, গান শোনা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। চাইলে কিছুক্ষণ নিরিবিলি পরিবেশে বসে ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়ার অনুশীলনও করতে পারেন। এতে মন শান্ত হতে পারে এবং পরদিনের কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা সহজ হতে পারে।

কাজে ফেরার প্রস্তুতি আগেই নিন

অফিসে ফেরার দিন সকালে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা এড়াতে আগের রাতেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা ভালো। অফিসে পরার পোশাক, ব্যাগ, পরিচয়পত্র ও দরকারি কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন। এতে সকালে তাড়াহুড়ো কমবে এবং দিনের শুরুটা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হবে।

এ ছাড়া অফিসের জরুরি কাজগুলো নিয়ে ছোট একটি তালিকা তৈরি করতে পারেন। কোন কাজটি আগে করতে হবে এবং কোনটি পরে করা যাবে, তা ঠিক করে রাখলে কাজের চাপ সামলানো সহজ হয়। দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম দিনেই সব কাজ শেষ করার চেষ্টা না করে গুরুত্বপূর্ণ ও সময়সীমা নির্ধারিত কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দিন।

ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরুন

পূজার ছুটি শেষে এক দিনেই শরীর ও মনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে, এমনটা প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। বরং পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ও সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা শরীরচর্চা এবং মানসিক বিশ্রামের মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরে আসা সম্ভব।

তবে বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি ক্লান্তি বা দুর্বলতা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisements