মাত্র ৯ টাকার লটারিতে কোটি টাকা জিতলেন নারী

মাত্র ৯ টাকার একটি লটারির টিকিট যে বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের জীবন, তারই উদাহরণ ভারতের পাঞ্জাবের বিমলা দেবী। সামান্য অর্থের বিনিময়ে কেনা একটি টিকিটে সিকিম সরকারের লটারিতে ১ কোটি রুপি জিতে রাতারাতি ভাগ্য বদলে গেছে তার পরিবারের। বাংলাদেশি মুদ্রায় পুরস্কারের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
পাঞ্জাবের ফরিদকোট জেলার কোটকাপুরা এলাকার বাসিন্দা বিমলা দেবী একটি সাধারণ শ্রমজীবী পরিবারের সদস্য। তার স্বামী দিনমজুরের কাজ করেন। সংসারের প্রয়োজন মেটাতেই প্রতিদিনের মতো এক সন্ধ্যায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে রেলওয়ে রোডে গিয়েছিলেন বিমলা। সেখানেই হঠাৎ লটারি কেনার ইচ্ছা জাগে তার মনে। এরপর মাত্র ৭ রুপি খরচ করে একটি টিকিট কেনেন তিনি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ টাকা।
কে জানত, এই সামান্য কেনাকাটাই হয়ে উঠবে তার জীবনের অন্যতম বড় ঘটনা!
টিকিট কেনার পরদিন সন্ধ্যায় লটারির ফল প্রকাশিত হলে বিমলা জানতে পারেন, তার টিকিটেই উঠেছে ১ কোটি রুপির প্রথম পুরস্কার। এমন অবিশ্বাস্য খবর মুহূর্তেই আনন্দে ভরিয়ে দেয় পরিবারের সবাইকে। পরে লটারি স্টলের মালিক নরেশ মোঙ্গার কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দোকানে ছুটে যান। তাদের এই অসাধারণ সাফল্যে মিষ্টিমুখ করান দোকানমালিক নিজেও। আনন্দের মুহূর্তে নাচে মেতে ওঠেন তিনি।
বিমলা দেবীর কাছে এই অর্থ কেবল একটি বড় অঙ্কের পুরস্কার নয়, বরং পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠার নতুন সম্ভাবনা। তিনি জানান, এই অর্থ দিয়ে পরিবারের সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চান তারা। কীভাবে পুরস্কারের অর্থ ব্যয় করবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। পরিবারের সবার সঙ্গে আলোচনা করেই পরিকল্পনা করবেন। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে একটি ব্যবসা শুরু করার বিষয়টিও ভাবছেন তারা।
লটারি স্টলের মালিক নরেশ মোঙ্গার জন্যও এই জয় বিশেষ আনন্দের। তিনি জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে লটারির ব্যবসা করছেন তিনি। সম্প্রতি কোটকাপুরা রেলস্টেশনের কাছে দোকানটি স্থানান্তর করেন। তার দোকান থেকে বিক্রি করা টিকিটে এর আগেও কয়েক লাখ রুপির পুরস্কার জিতেছেন অনেকে। তবে এবারই প্রথম তার বিক্রি করা কোনো টিকিটে ১ কোটি রুপির পুরস্কার উঠল।
বিমলা দেবী ও তার পরিবারের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নরেশ তাদের অভিনন্দন জানান। তার মতে, এই জয় যেমন বিজয়ী পরিবারের জন্য আনন্দের, তেমনি দোকানমালিক হিসেবেও এটি তার কাছে স্মরণীয় একটি ঘটনা।
মাত্র ৯ টাকার একটি টিকিটে পাওয়া এই বিপুল পুরস্কার বিমলা দেবীর পরিবারের সামনে খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দরজা। এখন তাদের আশা, এই অর্থ কাজে লাগিয়ে আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জনের পাশাপাশি সন্তানদের জন্য গড়ে তুলবেন আরও নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ।



