২০ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৪ কার্তিক ১৪৩৩
খাবার-দাবার

বিজয়া দশমীর ভোজে থাকুক মুরগির মাংসের দুই সুস্বাদু পদ

images (4)

দুর্গাপূজার আনন্দঘন আয়োজনের শেষ দিন বিজয়া দশমী। উৎসবের এই বিশেষ দিনে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি খাবারের আয়োজনেও থাকে বাড়তি আনন্দ। দুপুর কিংবা রাতের খাবারে একটু ভিন্ন স্বাদের পদ থাকলে উৎসবের আমেজ আরও জমে ওঠে। তাই এবারের দশমীর মেনুতে রাখতে পারেন মুরগির মাংসের দুটি সুস্বাদু পদ—গার্লিক হানি চিকেন ও ডাল চিকেন মাসালা কারি।

একটি পদে রসুনের ঝাঁজ, মধুর মিষ্টি স্বাদ এবং সসের মিশ্রণে তৈরি হবে দারুণ স্বাদের চিকেন। অন্যদিকে, বুটের ডাল ও নানা মসলার সমন্বয়ে তৈরি ডাল চিকেন মাসালা কারি হবে ঝোলযুক্ত, মসলাদার ও তৃপ্তিদায়ক। ভাত, পোলাও কিংবা রুটির সঙ্গে পরিবেশনের জন্য এই দুটি পদই হতে পারে চমৎকার পছন্দ।

গার্লিক হানি চিকেন

সংগৃহীত

রসুন ও মধুর মিশ্রণে তৈরি গার্লিক হানি চিকেন স্বাদে যেমন আলাদা, দেখতেও তেমন আকর্ষণীয়। মুরগির মাংসে মসলা ভালোভাবে মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে রান্না করলে স্বাদ আরও ভালোভাবে ফুটে ওঠে। বাটার, রসুন, সয়া সস ও মধুর সমন্বয়ে মাংসে তৈরি হয় মিষ্টি, ঝাল ও হালকা নোনতা স্বাদের ভারসাম্য। অতিথি আপ্যায়ন কিংবা উৎসবের বিশেষ খাবার হিসেবে এটি সহজেই সবার পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে।

উপকরণ:

  • মুরগির মাংস ১ কেজি
  • আদা-রসুন বাটা ১ চা-চামচ
  • বাটার ২ টেবিল-চামচ
  • রসুন কুচি ২ টেবিল-চামচ
  • সয়া সস ১ টেবিল-চামচ
  • টমেটো সস ১ চা-চামচ
  • কর্নফ্লাওয়ার ১ চা-চামচ
  • জিরা গুঁড়া আধা চা-চামচ
  • ধনিয়া গুঁড়া আধা চা-চামচ
  • গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ
  • মরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ
  • মধু ১ টেবিল-চামচ
  • সাদা তিল আধা চা-চামচ
  • ধনেপাতা কুচি আধা চা-চামচ
  • পেঁয়াজকলি সামান্য
  • লবণ স্বাদমতো

প্রস্তুত প্রণালি:

প্রথমে মুরগির মাংস ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। মাংসের টুকরাগুলো খুব বড় হলে মাঝারি আকারে কেটে নিতে পারেন, যাতে মসলা সহজে ভেতরে প্রবেশ করে এবং রান্নাও সমানভাবে হয়।

Advertisements

এবার একটি বড় পাত্রে মুরগির মাংস নিয়ে তাতে আদা-রসুন বাটা, সয়া সস, টমেটো সস, কর্নফ্লাওয়ার, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, গোলমরিচ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও পরিমাণমতো লবণ দিন। সব উপকরণ মাংসের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে অন্তত এক ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। এতে মাংসে মসলার স্বাদ ভালোভাবে মিশে যাবে।

এরপর চুলায় একটি ননস্টিক প্যান বসিয়ে মাঝারি আঁচে গরম করুন। প্যানে বাটার দিয়ে গলিয়ে নিন। বাটার গলে গেলে রসুন কুচি দিয়ে হালকা সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। খেয়াল রাখবেন, রসুন যেন পুড়ে না যায়। রসুন পুড়ে গেলে রান্নায় তেতো স্বাদ আসতে পারে।

এবার ম্যারিনেট করা মুরগির মাংস প্যানে দিয়ে দিন। মসলাসহ মাংস ভালোভাবে নেড়ে কষিয়ে নিন। এক পাশ কিছুক্ষণ ভাজার পর অন্য পাশ উল্টে দিন, যাতে মাংসের প্রতিটি অংশে সমানভাবে তাপ লাগে। মাংস থেকে পানি বের হলে সেটি শুকিয়ে আসা পর্যন্ত রান্না করুন। প্রয়োজন হলে অল্প আঁচে আরও কিছুক্ষণ ঢেকে রাখতে পারেন, যাতে মাংস ভেতর পর্যন্ত সেদ্ধ হয়।

মাংস প্রায় সেদ্ধ হয়ে এলে মধু দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর আরও কয়েক মিনিট রান্না করুন, যাতে মধু, রসুন ও সসের স্বাদ মাংসের সঙ্গে মিশে যায় এবং বাইরের অংশে হালকা চকচকে আবরণ তৈরি হয়। মাংস পুরোপুরি সেদ্ধ হয়েছে কি না নিশ্চিত হয়ে চুলা বন্ধ করুন।

সবশেষে ভাজা সাদা তিল, কুচি করা ধনেপাতা ও পেঁয়াজকলি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। গরম গরম গার্লিক হানি চিকেন ভাত, পোলাও কিংবা ফ্রাইড রাইসের সঙ্গে পরিবেশন করলে স্বাদ আরও উপভোগ্য হবে।

ডাল চিকেন মাসালা কারি

সংগৃহীত

একই ধরনের মুরগির মাংসের রান্নায় ভিন্ন স্বাদ আনতে চাইলে তৈরি করতে পারেন ডাল চিকেন মাসালা কারি। মুরগির মাংসের সঙ্গে সেদ্ধ বুটের ডাল, পেঁয়াজ, আদা-রসুন ও সুগন্ধি মসলার মিশ্রণে তৈরি হয় ঘন ও মসলাদার এই পদ। ডালের কারণে ঝোলের স্বাদে আসে বাড়তি গভীরতা, আর মুরগির মাংসের সঙ্গে ডালের মিশ্রণ খাবারটিকে করে তোলে আরও পরিপূর্ণ। গরম ভাত, পোলাও কিংবা রুটির সঙ্গে এই পদ বেশ ভালো মানিয়ে যায়।

উপকরণ:

  • মুরগির মাংস ১ কেজি
  • সেদ্ধ বুটের ডাল ১ কাপ
  • পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
  • তেল ৪ টেবিল-চামচ
  • আদা-রসুন বাটা আধা কাপ
  • গরম মসলা গুঁড়া আধা চা-চামচ
  • জিরা গুঁড়া আধা চা-চামচ
  • ধনিয়া গুঁড়া আধা চা-চামচ
  • হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ
  • মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ
  • তেজপাতা ২টি
  • কাঁচামরিচ কয়েকটি
  • লবণ স্বাদমতো
  • প্রয়োজনমতো পানি

প্রস্তুত প্রণালি:

প্রথমে মুরগির মাংস ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। বুটের ডাল আগে থেকে সেদ্ধ করে রাখুন। ডাল এমনভাবে সেদ্ধ করতে হবে, যাতে তা নরম হয়, কিন্তু একেবারে গলে না যায়। এতে রান্নার সময় ডালের দানা ও মুরগির মাংসের গঠন বজায় থাকবে।

এবার চুলায় একটি হাঁড়ি বা গভীর প্যান বসিয়ে তেল গরম করুন। তেল গরম হলে তেজপাতা দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে নিন। এরপর পেঁয়াজ কুচি যোগ করে মাঝারি আঁচে ভাজুন। পেঁয়াজ নরম হয়ে হালকা সোনালি রং ধারণ করলে আদা-রসুন বাটা দিয়ে দিন। কাঁচা গন্ধ চলে যাওয়া পর্যন্ত কয়েক মিনিট নেড়েচেড়ে ভাজতে থাকুন।

এরপর হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও লবণ যোগ করুন। মসলা যেন প্যানের তলায় লেগে না যায়, সে জন্য অল্প পানি দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। মসলা থেকে তেল আলাদা হতে শুরু করলে বুঝবেন, মসলা ভালোভাবে কষানো হয়েছে।

এবার মুরগির মাংস হাঁড়িতে দিয়ে মসলার সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া ও গরম মসলা গুঁড়া যোগ করুন। মাঝারি আঁচে প্রায় ১৫ মিনিট মাংস কষিয়ে নিন। এ সময় মাঝে মাঝে নেড়ে দিতে হবে, যাতে মাংসের প্রতিটি টুকরায় মসলা ভালোভাবে লাগে। মাংস থেকে পানি বের হলে সেটি শুকিয়ে মসলার সঙ্গে মিশে আসা পর্যন্ত রান্না করুন।

মাংস ভালোভাবে কষানো হলে সেদ্ধ বুটের ডাল যোগ করুন। ডাল ও মাংস আলতোভাবে নেড়ে একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার প্রয়োজনমতো গরম পানি দিয়ে ঝোলের ঘনত্ব ঠিক করুন। হাঁড়ি ঢেকে অল্প আঁচে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন, যাতে মুরগির মাংস পুরোপুরি সেদ্ধ হয় এবং ডালের স্বাদ ঝোলের সঙ্গে মিশে যায়।

ঝোল বেশি ঘন হয়ে গেলে সামান্য পানি যোগ করতে পারেন। আর পাতলা থাকলে ঢাকনা খুলে কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। সবশেষে কাঁচামরিচ চিরে দিয়ে আরও কয়েক মিনিট রান্না করুন। মাংস সেদ্ধ হয়ে গেলে এবং ঝোল পছন্দমতো ঘনত্বে এলে চুলা বন্ধ করে দিন।

গরম গরম ডাল চিকেন মাসালা কারি পরিবেশন করুন সাদা ভাত, পোলাও কিংবা রুটির সঙ্গে। ডাল ও মুরগির মাংসের মসলাদার স্বাদ উৎসবের খাবারের আয়োজনে এনে দেবে ভিন্নতা।

বিজয়া দশমীর খাবারের তালিকায় এই দুটি পদ রাখলে একই উপকরণ দিয়ে তৈরি মুরগির মাংসে পাওয়া যাবে দুই ধরনের স্বাদ। একটি পদে মধু ও রসুনের মিষ্টি-ঝাল স্বাদ, অন্যটিতে ডাল ও মসলার ঘন সমন্বয়। পরিবারের সদস্য ও অতিথিদের পছন্দ অনুযায়ী পরিবেশন করলেই জমে উঠবে উৎসবের ভোজ।

Advertisements