মুক্তির আগেই নিষিদ্ধ আয়ুষ্মান-সারা আলির ‘উড়তা তীর’

বলিউড তারকা আয়ুষ্মান খুরানা ও সারা আলি খান অভিনীত নতুন সিনেমা ‘উড়তা তীর’ মুক্তির আগেই বড় বাধার মুখে পড়েছে। নেপালে ছবিটি প্রদর্শনের অনুমতি দেয়নি দেশটির কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড। সিনেমাটি পর্যালোচনার পর জনসমক্ষে প্রদর্শনের ছাড়পত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে নেপালের প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নেপালের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিনেমাটির পরিবেশক ন্যাশনাল সিনে গ্রুপ নেপালকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। ওই চিঠিতেই ছবিটির প্রদর্শনের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দেশটির চলচ্চিত্রসংক্রান্ত আইন অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নেপালের ‘ন্যাশনাল সিনেমা (প্রোডাকশন, এক্সিবিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন) আইন, ২০২৬’-এর ৮(৩) ধারার আওতায় সিনেমাটিকে জনসমক্ষে প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পর্যালোচনার জন্য জমা দেওয়া সিনেমার উপকরণ পরীক্ষা করে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড মনে করেছে, এর বিষয়বস্তু আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচিত শ্রেণির মধ্যে পড়ে। এ কারণে ছবিটিকে প্রদর্শনের ছাড়পত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে সিনেমাটির কোন নির্দিষ্ট দৃশ্য, সংলাপ কিংবা বিষয়বস্তুর কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে ছবিটির কাহিনির কোন অংশ নেপালের সেন্সর বোর্ডের আপত্তির কারণ হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আকাশ কৌশিক পরিচালিত ‘উড়তা তীর’ আগামী ২৩ অক্টোবর ভারতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ, মুক্তির আর মাত্র কয়েক দিন আগে নেপালে প্রদর্শনের অনুমতি না পাওয়ার খবর সামনে এল। এতে দেশটির দর্শকদের কাছে ছবিটি পৌঁছানোর পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভারতে নির্ধারিত তারিখে সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে এ সিদ্ধান্তের কারণে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘উড়তা তীর’-এর গল্পে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। দুই দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত পরিস্থিতি সিনেমাটির কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানা গেছে। এ বিষয়বস্তুর সঙ্গে নেপালে ছবিটি প্রদর্শনের অনুমতি না পাওয়ার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তাই কেবল গল্পের বিষয়বস্তুর কারণেই সিনেমাটি নিষিদ্ধ হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
নেপালের চলচ্চিত্রসংক্রান্ত আইনে নির্দিষ্ট কিছু বিধান রয়েছে, যার আওতায় কোনো সিনেমার বিষয়বস্তু দেশের জাতীয় স্বার্থ কিংবা কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিবেচিত হলে সেটির প্রদর্শন সীমিত করা বা অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব। ‘উড়তা তীর’-এর ক্ষেত্রে এই আইনি কাঠামোর কোন দিকটি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য প্রয়োজন।
সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আয়ুষ্মান খুরানা ও সারা আলি খান। বলিউডের এই দুই পরিচিত মুখকে একসঙ্গে পর্দায় দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকেরা। পরিচালক আকাশ কৌশিকের এই ছবিটি নিয়ে মুক্তির আগে থেকেই আলোচনা চলছে। তবে নেপালে প্রদর্শনের অনুমতি না পাওয়ায় ছবিটির আন্তর্জাতিক মুক্তি পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সাধারণত কোনো সিনেমা মুক্তির আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ছবির বিষয়বস্তু, সংলাপ, দৃশ্য এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী সেটি জনসমক্ষে প্রদর্শন করা যাবে কি না, তা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ‘উড়তা তীর’-এর ক্ষেত্রেও পর্যালোচনার পর অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, নেপালে প্রদর্শনের অনুমতি না পাওয়ার ঘটনা ছবিটির প্রচার ও দর্শকদের আগ্রহে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সিনেমাটির নির্মাতা কিংবা অভিনয়শিল্পীদের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও প্রতিবেদনে তথ্য নেই।
সব মিলিয়ে, মুক্তির আগে নেপালে প্রদর্শনের ছাড়পত্র না পাওয়ায় আয়ুষ্মান খুরানা ও সারা আলি খান অভিনীত ‘উড়তা তীর’ আলোচনায় এসেছে। ছবিটির গল্পে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রসঙ্গ থাকলেও নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আগামী ২৩ অক্টোবর ভারতে নির্ধারিত মুক্তির আগে এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে দর্শক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের।



