২০ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৪ কার্তিক ১৪৩৩
বিনোদন

গানের সাথী থেকে হলেন জীবনসঙ্গী, বিয়ে করলেন ইজে

65456-1792490635

নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিনেমা ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন কোরীয়-মার্কিন গায়িকা ও গীতিকার ইজে। সংগীতজগতে সাফল্যের পাশাপাশি এবার ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করলেন তিনি। দীর্ঘদিনের প্রেমিক ও সংগীত প্রযোজক-গীতিকার স্যাম কিমকে বিয়ে করেছেন এই গায়িকা।

শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সোমবার প্রকাশিত ‘ভোগ’-এর একটি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের বিয়ের খবর সামনে আসে। সংগীতের সূত্রে পরিচয়, সেখান থেকে বন্ধুত্ব এবং পরে প্রেম—দীর্ঘ এই পথ পেরিয়ে এবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন দুজন। তাদের সম্পর্কের গল্প নিয়ে ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

সংগৃহীত

ইজের প্রকৃত নাম কিম উন-জে। অন্যদিকে, স্যাম কিম একসময় সংগীত প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে পেশা পরিবর্তন করে কোডিংয়ের কাজে মনোযোগ দেন তিনি। ২০১৭ সালে একটি গানের লেখার সেশনে তাঁদের প্রথম পরিচয় হয়। সংগীত নিয়ে কাজ করতে গিয়েই দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই পরিচয় বন্ধুত্ব ছাড়িয়ে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।

দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পথে ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাগদান করেন ইজে ও স্যাম। তবে নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আড়ালে রাখতে পছন্দ করেছেন তারা। ফলে বাগদানের খবরও প্রকাশ্যে আসে বেশ পরে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের সঙ্গে সুখবরটি ভাগ করে নেন ইজে।

দুজনের সম্পর্কের বিশেষত্ব হলো, তারা শুধু ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গী নন, সংগীতের কাজেও একে অপরের সহযোগী। গান লেখা, সুর ও রেকর্ডিং নিয়ে আলোচনা থেকে শুরু করে নতুন কাজের মূল্যায়ন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্যামের মতামত ইজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। গায়িকার সংগীতজীবনের দীর্ঘ পথচলায় তার এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সংগৃহীত

ইজের লেখা ও রেকর্ড করা গান নিয়ে স্যামের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয়। ইজের লেখা ‘সাইকো’ গানটি কে-পপ গার্ল গ্রুপ রেড ভেলভেটের কণ্ঠে জনপ্রিয়তা পাওয়ার সময় থেকে শুরু করে তার সাম্প্রতিক কাজ ‘ইন অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ পর্যন্ত সংগীতের নানা পর্যায়ে স্যামের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রয়েছে।

Advertisements

২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘ভালচার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাদের পরিচয় ও সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলেছিলেন ইজে। তিনি জানান, স্যাম প্রথমে তার গানের লেখার সঙ্গী ছিলেন। ২০১৭ সালে একটি সেশনে তাদের পরিচয় হয়। এরপর দুজন একসঙ্গে কাজ করতে করতে জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছেন। ইজের ভাষায়, তারা একসঙ্গে বড় হয়েছেন।

সংগীতের কাজে সহযোগিতার পাশাপাশি মঞ্চে ওঠার আগে ইজের উদ্বেগ ও ভয় কাটিয়ে উঠতেও সহায়তা করেন স্যাম। বড় মঞ্চে পরিবেশনা, নতুন গান প্রকাশ এবং ব্যস্ত প্রচারণার সময় একজন শিল্পীর ওপর মানসিক চাপ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এমন পরিস্থিতিতে স্যামের সমর্থন ইজেকে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছেন গায়িকা।

‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গান ‘হোয়াট ইট সাউন্ডস লাইক’-এর কণ্ঠের বিন্যাস তৈরির কাজও তাদের যৌথ সংগীতচর্চার একটি উদাহরণ। গানটির কণ্ঠ রেকর্ড করা হয়েছিল ব্রুকলিনে ইজের অ্যাপার্টমেন্টে। সেখানে স্যামও কণ্ঠ দিয়েছিলেন। ঘরোয়া পরিবেশে সংগীত নিয়ে কাজ করার এই অভিজ্ঞতা তাদের পেশাগত সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বোঝাপড়ার দিকটিও তুলে ধরে।

সংগৃহীত

এর আগে ‘ফোর্বস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের গান তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে কথা বলেছিলেন ইজে। তিনি জানান, গাড়িতে নিজের গান শুনতে তার ভালো লাগে। গাড়ির স্পিকারে গান কেমন শোনায়, তা যাচাই করার জন্য তিনি ডেমো তৈরি করেন। এ সময় স্যাম তার গান শুনে মতামত দেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন।

ইজের মতে, গান নিয়ে তাদের এই অভ্যাস তার গীতিকার হিসেবে কাজ করার ধরনকে প্রতিফলিত করে। তারা একসঙ্গে গান শোনেন, সেগুলো উপভোগ করেন এবং নিজেদের ভাবনা ভাগ করে নেন। তাদের দৈনন্দিন জীবনেও সংগীত এভাবেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে।

পেশাগত জীবনের সাফল্যের পাশাপাশি মানসিক চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতাও প্রকাশ্যে এনেছেন ইজে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘দ্য টুনাইট শো স্ট্যারিং জিমি ফ্যালন’-এ ‘গোল্ডেন’ গান পরিবেশনের আগে উদ্বেগে ভুগছিলেন তিনি। পরে একই বছরের নভেম্বরে ‘জ্যাক সাং শো’-তে গায়িকা জানান, ওই অনুষ্ঠানের আগে তার প্যানিক অ্যাটাক হয়েছিল। এমনকি সেদিন সকালে তিনি কণ্ঠও হারিয়ে ফেলেছিলেন।

ইজে আরও জানান, টানা প্রচারণা ও কাজের ব্যস্ততার মধ্যে তার শরীর কতটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, তা তিনি ঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। সংগীতজগতের ব্যস্ত সময়সূচি, নিয়মিত পরিবেশনা এবং প্রচারণার চাপ একজন শিল্পীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তার অভিজ্ঞতা সে বিষয়টিও সামনে এনেছে। এমন কঠিন সময়ে স্যামের সহযোগিতা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর সাফল্য এবং বিভিন্ন পুরস্কারের মনোনয়নের মধ্য দিয়ে ইজের ক্যারিয়ার এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে তার পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আগ্রহ বেড়েছে। সেই ব্যস্ততার মধ্যেই দীর্ঘদিনের সঙ্গী স্যাম কিমকে বিয়ে করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন তিনি।

সংগীত দিয়ে শুরু হওয়া তাদের পরিচয় শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে দাম্পত্য সম্পর্কে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করা, পরস্পরের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং কঠিন সময়ে পাশে থাকার অভিজ্ঞতা তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। এখন থেকে ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সংগীতের পথচলাতেও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো ইজে ও স্যাম কিমের।

Advertisements