২০ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৪ কার্তিক ১৪৩৩
বিশ্ব

মিনিটেই শেষ আইফোন ডুয়োর প্রথম ব্যাচ, এবার অপেক্ষার পালা

IMG_6432

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুয়ো’ বাজারে আসতেই ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। আগাম বিক্রি শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের বাজারে ফোনটির প্রথম ব্যাচ শেষ হয়ে যায়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ক্রেতাদের হাতে ফোন পৌঁছানোর সময়ও পিছিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ শুরুতে ২৩ অক্টোবর থেকেই ফোনটি সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। খবর এফটির।

অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস গত মাসে ফোনটি উন্মোচন করেন। এর প্রাথমিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার সংস্করণটির দাম ৩ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যা আইফোনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম।

গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে অ্যাপল জানায়, ভাঁজযোগ্য আইফোনটির আগাম ক্রয়াদেশে ‘অসাধারণ’ সাড়া পাওয়া গেছে। তবে প্রথম দফায় ঠিক কত ইউনিট বিক্রি হয়েছে কিংবা সরবরাহে কতটা ঘাটতি রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

নতুন এই ফোনের মাধ্যমে স্মার্টফোনের প্রচলিত নকশায় বড় পরিবর্তন এনেছে অ্যাপল। প্রায় দুই দশক আগে যাত্রা শুরুর পর থেকে আইফোন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান পণ্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে অ্যাপলের মোট বিক্রির প্রায় অর্ধেকই আসে আইফোন থেকে। ফলে নতুন নকশার এই ফোনের বাজারসাফল্য প্রতিষ্ঠানটির জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পুরোনো আইফোন ব্যবহারকারীদের নতুন মডেল কিনতে উৎসাহিত করতে নকশায় পরিবর্তন আনছে অ্যাপল। গত বছর বাজারে আসা অতি পাতলা ‘আইফোন এয়ার’ ছিল সেই প্রচেষ্টার অংশ। এবার ভাঁজযোগ্য ফোনের মাধ্যমে নতুন ধরনের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে বিপুল চাহিদা মেটাতে গিয়ে সরবরাহের চাপের মুখে পড়েছে কোম্পানিটি। চলতি বছর ভোক্তা ইলেকট্রনিকস শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উপাদান সরবরাহে ঘাটতির সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে মেমোরি চিপের সংকট উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। এর ফলে অ্যাপলও চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

Advertisements

বিশ্বজুড়ে দ্রুত পণ্য সরবরাহের জন্য পরিচিত অ্যাপলের ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ অপেক্ষার ঘটনা বেশ ব্যতিক্রমী। এর আগে কভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২২ সালে চীনের কারখানা বন্ধ থাকায় আইফোন ১৪ সিরিজের কয়েকটি মডেলের সরবরাহে এক মাসের বেশি বিলম্ব হয়েছিল। তবে নতুন কোনো আইফোনের জন্য কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হওয়ার ঘটনা বিরল।

Advertisements