২০ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৪ কার্তিক ১৪৩৩
বিশ্ব

আজ বিশ্ব শেফ দিবস

images

রান্না কেবল খাবার তৈরির কৌশল নয়, এটি সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি ও সুস্থ জীবনযাপনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রন্ধনশিল্পীদের দক্ষতা ও অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে পুষ্টিকর খাবার এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব শেফ দিবস।

বিশ্বজুড়ে পেশাদার শেফদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিজের (ওয়ার্ল্ডচেফস) উদ্যোগে দিবসটি উদ্‌যাপন করা হয়। রান্নার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পুষ্টিকর খাবার বেছে নিতে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ফুড এক্সপ্লোরারস’। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের বিভিন্ন খাদ্য উপাদান, সেগুলোর উৎস, পুষ্টিগুণ এবং পরিবেশবান্ধব খাদ্যব্যবস্থা সম্পর্কে জানাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। খাবার কোথা থেকে আসে, কীভাবে উৎপাদিত হয় এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস শরীরের সুস্থতায় কী ভূমিকা রাখে—এসব বিষয়কে আনন্দদায়ক ও শিক্ষণীয় উপায়ে শিশুদের সামনে তুলে ধরাই এবারের প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য।

২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শেফ ড. বিল গ্যালাগারের উদ্যোগে বিশ্ব শেফ দিবসের সূচনা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ২০ অক্টোবর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফরা নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ও রন্ধনশিল্পের বৈচিত্র্য উদ্‌যাপনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে আসছেনদিবসটির গুরুত্ব শুধু রান্নার নৈপুণ্য প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা, খাদ্য অপচয় কমানো এবং রান্নায় পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণের বিষয়গুলোও এতে বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের খাবারের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে শেফদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

বিশ্ব শেফ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও রন্ধনশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রান্নার প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে রান্নার মৌলিক কৌশল শেখানোর পাশাপাশি খাবারের পুষ্টিমান, উপাদানের সঠিক ব্যবহার এবং খাদ্যের অপচয় রোধ সম্পর্কে সচেতন করা হয়। বাংলাদেশেও দিবসটি ঘিরে রয়েছে নানা আয়োজন। শেফস ফেডারেশন অব বাংলাদেশসহ পেশাদার রন্ধনশিল্পীদের বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি উদ্‌যাপনে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দেশের পর্যটন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের বিকাশে শেফদের অবদান এবং রন্ধনশিল্পকে পেশা হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও এ উপলক্ষে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্ব শেফ দিবস মূলত মনে করিয়ে দেয়, সুস্বাদু খাবার তৈরির পাশাপাশি মানুষের সুস্থতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও রন্ধনশিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সৃজনশীল রান্নার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ছড়িয়ে দেওয়া এবং খাদ্যের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলাই দিনটির অন্যতম বার্তা।

Advertisements

Advertisements