২০ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৪ কার্তিক ১৪৩৩
বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের সব শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার দিতে চান ইলন মাস্ক

2e113a135db08741a8f88693f73fbeb5-6ad6eb4c726d8

যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশুকে নিজের মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, আগামী বছর থেকেই এ শেয়ার বিতরণ করা হবে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ শিশু এ সুবিধার আওতায় আসতে পারে। মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় এতটাই। প্রতিটি শেয়ারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪৬ ডলার ধরে হিসাব করলে, সব শিশুকে একটি করে শেয়ার দিতে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। তবে শেয়ারের মূল্য পরিবর্তন এবং বিতরণের চূড়ান্ত নিয়মের ওপর প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে। মাস্কের এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারের অন্তত ৫ শতাংশ একটি সামাজিক কল্যাণ তহবিলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের কারণে যারা চাকরি হারাতে পারেন, তাদের সহায়তায় এই তহবিলের অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাস্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি শেয়ার বিতরণের ধারণা তুলে ধরেন এবং নিজেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। চলতি মাসে দেশটির ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্য হিসাব খোলা ও এক হাজার ডলার করে অনুদান দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য শিশুদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা। এদিকে, গত জুলাইয়ে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট গুইন শটওয়েল ও তাঁর স্বামী ২০ লাখ শিশুর প্রত্যেককে একটি করে স্পেসএক্স শেয়ার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। মাস্কের সাম্প্রতিক ঘোষণা সেই উদ্যোগকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তবে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের পাশাপাশি মাস্কের দাতব্য কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাস্ক ফাউন্ডেশন ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক ছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছিল, ফাউন্ডেশনের অর্থের বড় অংশ মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে গেছে।

মাস্কের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের একটি বড় অংশ সরাসরি একটি বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাবে। তবে শেয়ার হস্তান্তরের আইনি কাঠামো, শিশুদের পক্ষে শেয়ার পরিচালনার ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এসব শেয়ার বিক্রির নিয়ম কী হবে, তা স্পষ্ট হওয়ার পরই উদ্যোগটির প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

Advertisements