২০ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রূপ-সৌন্দর্য

শীতের আগেই ঠোঁট ফাটছে? ঘরেই তৈরি করুন সহজ লিপ বাম

IMG_6437

আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে অনেকেরই ঠোঁট শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই ঠোঁট ফাটা, চামড়া ওঠা কিংবা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। শুষ্ক বাতাস, ঠোঁট বারবার চাটা এবং পর্যাপ্ত আর্দ্রতার অভাব এ সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এ সময় ঠোঁটের কোমলতা ধরে রাখতে নিয়মিত যত্ন নেওয়া জরুরি। চাইলে ঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান দিয়ে তৈরি করতে পারেন সহজ বাদাম ও নারিকেল তেলের লিপ বাম।

যেভাবে কাজ করবে বাদাম ও নারিকেলের লিপ বাম

নারিকেল তেল ও বাদাম তেল ঠোঁটের শুষ্ক ত্বককে নরম করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, মৌমাছির মোম ঠোঁটের ওপর একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা আর্দ্রতা হারানোর প্রবণতা কমাতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁটের খসখসে ভাব কমতে এবং ত্বক তুলনামূলক মসৃণ অনুভূত হতে পারে। তবে এই বাম ঠোঁটের স্বাভাবিক রং স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে বা পিগমেন্টেশন দূর করতে পারে না।

ঘরে তৈরি বামের আরেকটি সুবিধা হলো, এতে ব্যবহৃত উপাদান নিজের পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়া যায়। সুগন্ধি বা ফ্লেভারিংয়ের মতো অতিরিক্ত উপাদান এড়িয়ে চলাও সম্ভব। তবে প্রাকৃতিক উপাদান মানেই যে তা সবার ত্বকের জন্য নিরাপদ, এমন নয়।

ঘরে যেভাবে তৈরি করবেন লিপ বাম

এই বাম তৈরি করতে লাগবে এক চা চামচ বাদাম তেল, এক চা চামচ নারিকেল তেল এবং এক চা চামচ মৌমাছির মোমের দানা। উপকরণগুলো রাখার জন্য প্রয়োজন হবে একটি পরিষ্কার ও শুকনো ছোট পাত্র।

Advertisements

প্রথমে একটি তাপসহনীয় বাটিতে তিনটি উপাদান একসঙ্গে নিন। এরপর বাটিটি গরম পানির পাত্রের ওপর রেখে হালকা তাপে উপকরণগুলো গলিয়ে নিন। মিশ্রণটি তরল হয়ে গেলে ভালোভাবে নেড়ে নিন, যাতে তেল ও মোম সমানভাবে মিশে যায়। এরপর সাবধানে একটি পরিষ্কার ও শুকনো ছোট পাত্রে ঢেলে দিন।

মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে জমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। পুরোপুরি ঠান্ডা হলে পাত্রের ঢাকনা বন্ধ করে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায় রাখুন। বাম বেশি শক্ত হলে পরবর্তীবার মোমের পরিমাণ কিছুটা কমানো যেতে পারে। আবার বেশি নরম হলে মোমের পরিমাণ সামান্য বাড়ানো যায়।

কতবার ব্যবহার করবেন?

ঠোঁট শুষ্ক মনে হলেই এই বামের পাতলা স্তর লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে মুখ ধোয়ার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করলে ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। বাইরে যাওয়ার আগেও এটি লাগানো যায়।

পাশাপাশি ঠোঁট বারবার চাটা, কামড়ানো কিংবা খোসা টেনে তোলা থেকে বিরত থাকা জরুরি। লালা শুকিয়ে গেলে ঠোঁটের শুষ্কতা আরও বেড়ে যেতে পারে। খোসা ওঠা অংশ জোর করে তুলে ফেললে ত্বকে ক্ষত ও জ্বালাপোড়া তৈরি হতে পারে।

ব্যবহারের আগে যে সতর্কতা জরুরি

বাদামে অ্যালার্জি থাকলে বাদাম তেল ব্যবহার করা উচিত নয়। ত্বকের জন্য তৈরি মিষ্টি বাদাম তেল ব্যবহার করতে হবে; তেতো বাদাম তেল বা প্রসাধনী ব্যবহারের উপযোগী নয় এমন তেল এড়িয়ে চলুন। ব্যবহারের পর চুলকানি, লালচে ভাব, ফোলাভাব কিংবা ফুসকুড়ি দেখা দিলে বামটি ব্যবহার বন্ধ করুন।

প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে অল্প পরিমাণ লাগিয়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে এতে অ্যালার্জির ঝুঁকি পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না। বাম তৈরির সময় পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করুন, মিশ্রণে পানি মেশাবেন না এবং ভেজা বা অপরিষ্কার আঙুল দিয়ে বাম তুলবেন না।

ঘরে তৈরি এই বামে পরীক্ষিত সংরক্ষণব্যবস্থা থাকে না। তাই অল্প পরিমাণে তৈরি করাই ভালো। গন্ধ, রং কিংবা গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে ব্যবহার না করে ফেলে দিন। দীর্ঘদিন ঠোঁট ফাটা, ব্যথা বা প্রদাহ থাকলে শুধু লিপ বামের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisements