সরকারি উদ্যোগে পালিত হবে ৯২ দিবস, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসের তালিকা প্রকাশ

সরকারিভাবে উদযাপনের জন্য ৯২টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস নির্ধারণ করে নতুন পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নতুন তালিকায় ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’কে ‘ক’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দিবস পালনে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জাঁকজমক কমানো এবং কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের নীতিমালায় পরিবর্তন এনে নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে সরকার। রোববার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এ পরিপত্রের মাধ্যমে গত ১১ মার্চের আগের নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি পর্যায়ে পালিত ৯২টি দিবসকে আগের মতোই ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’—এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। শ্রেণিবিন্যাসের পাশাপাশি কয়েকটি দিবসের তারিখ ও অন্তর্ভুক্তিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিন শ্রেণিতে ৯২ দিবস
নতুন তালিকায় ‘ক’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে ১৮টি দিবস। এ শ্রেণিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’।
‘খ’ শ্রেণিতে রয়েছে ৩৯টি দিবস। এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৬ জুলাই ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’। এ ছাড়া ‘জাতীয় চা দিবস’ পালনের তারিখেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে ৪ জুন দিবসটি পালিত হলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ২১ মে দিবসটি পালন করা হবে।
অন্যদিকে, ‘গ’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে ৩৫টি দিবস। সব মিলিয়ে নতুন তালিকায় সরকারি উদ্যোগে পালনের জন্য নির্ধারিত দিবসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯২টি।
দিবস পালনে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা
দিবস উদযাপনে সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে শ্রেণিভিত্তিক ব্যয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ‘ক’ শ্রেণির দিবস পালনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ব্যয়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। তবে ‘খ’ শ্রেণির প্রতিটি দিবস উদযাপনে সরকারি তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করা যাবে।
‘গ’ শ্রেণির দিবস পালনের জন্য উন্নয়ন খাত থেকে আলাদা কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের সাশ্রয় এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাঁকজমক কমিয়ে গুরুত্ব সচেতনতা কার্যক্রমে
দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও বড় পরিসরের বিচিত্রানুষ্ঠান আয়োজন থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য রেডিও-টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠান এবং সীমিত পরিসরে সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা যাবে। তবে কর্মদিবসে কোনো দিবস উপলক্ষে সমাবেশ বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।
এ ছাড়া দিবস উদযাপনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় নিয়ে আসার প্রবণতা পরিহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ কর্মসূচিতে প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি
শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ, বিশ্ব শিশু সপ্তাহ ও জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহসহ বেশ কয়েকটি বিশেষ কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছে ২১ নভেম্বরের সশস্ত্র বাহিনী দিবস, পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্যপক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ। এসব কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বা অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
নতুন পরিপত্রে দিবস পালনের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন জাতীয় গুরুত্ব ও জনসচেতনতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি ব্যয় কমানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বাভাবিক গতি বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।



