পূজার সাজে উজ্জ্বল ত্বক, রূপচর্চায় থাকুক প্রাকৃতিক ছোঁয়া

উৎসবের সাজে উজ্জ্বল ও সতেজ ত্বক কে না চান! দুর্গাপূজার আগে ত্বকের বাড়তি যত্ন নিতে দামি প্রসাধনীর পাশাপাশি ব্যবহার করতে পারেন ঘরোয়া কিছু উপাদান। তিসির বীজ, চালের গুঁড়া, মধু, কলা ও টক দই দিয়ে তৈরি জেল ও ফেসপ্যাক ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং সাময়িকভাবে ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে সূক্ষ্ম রেখা, বলিরেখা ও শুষ্কতার ছাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে ত্রিশের কোঠায় অনেকেই ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে নানা ধরনের রূপচর্চার আশ্রয় নেন। কেউ ব্যবহার করেন অ্যান্টি-এজিং প্রসাধনী, আবার কেউ বেছে নেন বোটক্সের মতো প্রসাধনভিত্তিক চিকিৎসা।
তবে ত্বকের প্রাথমিক যত্নে ঘরোয়া উপাদানও হতে পারে সহজ একটি বিকল্প। আসন্ন দুর্গাপূজায় ত্বককে সতেজ ও কোমল রাখতে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন কয়েক ধরনের জেল ও ফেসপ্যাক। যদিও এগুলোকে প্রাকৃতিক বোটক্স বলা হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের বোটক্স ইনজেকশনের মতো কাজ করে না এসব উপাদান।
১. তিসির বীজের জেল: ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে

তিসির বীজে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তিসির বীজ থেকে তৈরি জেল ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে শুষ্ক ত্বক কিছুটা কোমল ও মসৃণ দেখাতে পারে।
যেভাবে তৈরি করবেন:
-একটি পাত্রে পানি ও তিসির বীজ নিয়ে মাঝারি আঁচে ফুটিয়ে নিন।
-মিশ্রণটি ঘন ও জেলির মতো হলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন।
-হালকা গরম অবস্থায় পরিষ্কার ছাঁকনি বা সুতি কাপড় দিয়ে জেল ছেঁকে নিন।
-ঠান্ডা হলে পরিষ্কার পাত্রে নিয়ে সংরক্ষণ করুন।
ব্যবহারের নিয়ম: পরিষ্কার ত্বকে অল্প পরিমাণ জেল লাগিয়ে ১০–১৫ মিনিট রাখুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রথমবার ব্যবহার করলে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নিন। ঘরে তৈরি জেলে সংরক্ষক থাকে না, তাই অল্প পরিমাণ তৈরি করে ফ্রিজে রাখুন এবং গন্ধ, রং বা গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে ফেলে দিন।
২. চালের গুঁড়া ও মধুর ফেসপ্যাক: কোমল ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য
চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক অনেকের রূপচর্চার পরিচিত উপকরণ। তবে চালের গুঁড়া ত্বকে ঘষাঘষি করে ব্যবহার করলে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা হতে পারে। অন্যদিকে, মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

যা লাগবে:
১ চা-চামচ মিহি চালের গুঁড়া
১ চা-চামচ মধু
প্রয়োজনমতো সামান্য পানি
যেভাবে তৈরি করবেন:
১. একটি পরিষ্কার পাত্রে চালের গুঁড়া ও মধু মিশিয়ে নিন।
২. প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পানি যোগ করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।
৩. মুখ ও গলায় পাতলা করে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
৪. পানি দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকে জোরে ঘষবেন না।
সপ্তাহে একবার দিয়ে শুরু করতে পারেন। ত্বকে জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
৩. কলা, টক দই ও মধুর অ্যান্টি-এজিং প্যাক

কলা, টক দই ও মধু দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ত্বককে সাময়িকভাবে কোমল ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করতে পারে। টক দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষ অপসারণে ভূমিকা রাখে। তবে ঘরে তৈরি এই মিশ্রণে উপাদানগুলোর ঘনত্ব নিয়ন্ত্রিত থাকে না, তাই সংবেদনশীল ত্বকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
যা লাগবে:
আধা পাকা কলা
১ চা-চামচ সাধারণ টক দই
আধা চা-চামচ মধু
ব্যবহারের পদ্ধতি:
-কলা ভালোভাবে চটকে মসৃণ করে নিন।
-এর সঙ্গে টক দই ও মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন।
-পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন।
-স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
-ব্যবহারের পর ত্বকে অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলুন। লেবু বা অন্য কোনো জ্বালাপোড়া সৃষ্টিকারী উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করবেন না।
ঘরোয়া রূপচর্চায় যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
উৎসবের আগে ত্বকের যত্নে শুধু ফেসপ্যাকের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত পরিষ্কার করা, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত পানি পানও সামগ্রিক ত্বকস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন কোনো উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে হাতের ভেতরের দিকে বা কনুইয়ের কাছে অল্প পরিমাণ লাগিয়ে ২৪–৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করুন। তবে এ ধরনের প্যাচ টেস্টেও সব ধরনের অ্যালার্জি বা প্রতিক্রিয়া শনাক্ত হয় না। ত্বকে ক্ষত, একজিমা বা সক্রিয় জ্বালাপোড়া থাকলে ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার না করাই ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঘরোয়া জেল ও ফেসপ্যাক ত্বকের আর্দ্রতা ও কোমলতা বাড়াতে পারে, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের বোটক্সের বিকল্প নয়। বোটক্স নির্দিষ্ট পেশির কার্যকলাপ সাময়িকভাবে কমিয়ে বলিরেখা হ্রাস করে; ঘরোয়া উপাদান দিয়ে সেই ফল পাওয়া যায় না।
দুর্গাপূজার আগে ত্বককে সতেজ রাখতে তাই বেছে নিন কোমল ও নিয়মিত পরিচর্যা। নতুন কোনো উপাদান প্রথমবার ব্যবহার করার ঠিক আগে উৎসবের দিনের জন্য পরীক্ষা না করে কয়েক দিন আগেই ত্বকের সহনশীলতা যাচাই করে নেওয়া ভালো।



