১১ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব ডোনাল্ড ট্রাম্পের

images (1) (1)

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের যেকোনো একটির নাম নিজের নামে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। বিকল্প হিসেবে ‘আমেরিকা মহাদেশগুলোর মহাসাগর’ নামটিও সামনে এনেছেন তিনি। তাঁর এমন মন্তব্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে।

ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আগেও উদ্যোগ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর আগ্রহ বিশ্বের বৃহত্তম জলভাগগুলোর একটির নামকরণে। স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ক্লার্কসভিলে এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের নামে একটি মহাসাগর ও একটি বড় নদীর নামকরণ করা উচিত।

সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিমধ্যে একটি উপসাগর ও একটি সুন্দর হ্রদ রয়েছে। এখন একটি নদী ও একটি মহাসাগরও দেশের নামে নামকরণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে আটলান্টিক কিংবা প্রশান্ত মহাসাগরের যেকোনো একটির নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রসিকতার সুরে তিনি বলেন, নতুন নাম হতে পারে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ অথবা ‘আমেরিকা মহাদেশগুলোর মহাসাগর’। তাঁর এ মন্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত কয়েকজনকে হাসতে ও হাততালি দিতে দেখা যায়।

উপসাগর থেকে হ্রদ, এবার মহাসাগর?

ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। গত বছর মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার উদ্যোগ নেন তিনি। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোর সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়। নতুন নাম ব্যবহারে আপত্তি জানানোয় সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সঙ্গেও বিরোধে জড়ান তিনি।

Advertisements

এ ছাড়া গত আগস্টে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার মধ্যবর্তী অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা হ্রদ’ রাখেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাণিজ্য ও শুল্কনীতি নিয়ে কানাডার নেতাদের সঙ্গে বিরোধের সময় এ পদক্ষেপের কথা সামনে আসে।

ট্রাম্পের এসব উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক নামকরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনলাইনে মানচিত্র সরবরাহকারী বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাঁর ঘোষিত নামগুলো গ্রহণ করেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

হাডসন ও মিসিসিপি নদী নিয়ে ভিন্ন অবস্থান

শনিবারের সমাবেশে ট্রাম্প অবশ্য হাডসন নদীর নাম পরিবর্তন না করার কথা জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এ নদীর নাম অভিযাত্রী হেনরি হাডসনের নামে রাখা হয়েছে। নদীটির নামকরণের পেছনে তাঁর ভূমিকার প্রশংসাও করেন ট্রাম্প।

একইভাবে মিসিসিপি নদীর নাম পরিবর্তনেরও কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি। টেনেসি অঙ্গরাজ্যের পশ্চিম সীমানার সঙ্গে সম্পর্কিত এই নদীর প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ওই অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় সেখানকার প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ রয়েছে।

‘নিউ মেক্সিকো’ নাম নিয়েও প্রস্তাব

শুধু জলভাগ নয়, অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছেন ট্রাম্প। গত মাসে নিউ মেক্সিকোর নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য অঙ্গরাজ্যটির সরকার ও কংগ্রেসের উদ্যোগ প্রয়োজন হতে পারে।

গত সপ্তাহে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প বলেন, নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিউ মেক্সিকোর বাসিন্দাদের ওপর নির্ভর করবে। অঙ্গরাজ্যটির একজন রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি চাপ সৃষ্টি করবেন না, যদিও অনেকেই প্রস্তাবটি পছন্দ করছেন বলে তাঁর দাবি।

আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এটি বাস্তবায়িত হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। তবে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য আবারও প্রশ্ন তুলেছে—যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক নামকরণে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে কতটা প্রভাব ফেলবে।

Advertisements