কেজিতে ৫২০ টাকা মাল্টার দাম, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ফলের বাজারে এখন মাল্টার দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অস্বস্তি। কোনো কোনো বাজারে কেজিপ্রতি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকা পর্যন্ত।
হঠাৎ এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে অযৌক্তিক দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় মাল্টার বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, মূলত আমদানি কমে যাওয়ার কারণে বাজারে মাল্টার সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ দেশের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। উচ্চশুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের নানা জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। পচনশীল ফল হওয়ায় দীর্ঘ সময় পরিবহন বা সংরক্ষণ করতে গেলেও বাড়ে আর্থিক ঝুঁকি। ফলে সব মিলিয়ে আমদানিকারকদের জন্য মাল্টার ব্যবসা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে সরবরাহ ঘাটতি থাকলেও বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি ব্যবসায়ীদের বক্তব্য পর্যালোচনার পাশাপাশি মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয়ও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। বিকল্প উৎস থেকে মাল্টা আমদানি বাড়ানো এবং দ্রুত ঋণপত্র খোলার মাধ্যমে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদও দেওয়া হয়েছে। মাল্টার পাশাপাশি সামনে রয়েছে খেজুরের বাড়তি চাহিদার মৌসুম। তাই এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নিতে ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। খেজুরের শুল্কের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
খেজুর আমদানিতে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা হলো অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ। এই জটিলতা দূর করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে খেজুর আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই করে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হওয়া দরকার, যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন। একই সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও রাখা যাবে না। সরকার ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষকেই স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো পক্ষ কারসাজির চেষ্টা করলে পুরো ব্যবস্থার ওপরই মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে।
সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি জানান, বিভিন্ন মানের খেজুরের প্রকৃত ক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকলেও শুল্কায়নের ক্ষেত্রে সব সময় তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। তাই আন্তর্জাতিক বাজারদর ও উৎসমূল্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে আমদানিকারকেরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিবহন ও বন্দরের জটিলতার কারণে খেজুর দেশে পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। তাই সময়মতো পর্যাপ্ত আমদানি নিশ্চিত করতে দ্রুত শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। সভায় ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফল আমদানি বাড়ানোর আশ্বাস দেন। সরকারের পক্ষ থেকেও শুল্ক-কর, শুল্কায়ন ও আমদানি প্রক্রিয়ার যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যালোচনার কথা জানানো হয়।



