৪ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

সকালের রোদ কতটা উপকারী?

Happy woman stretching in bed after waking up.

সকালের নরম রোদ শুধু শীতের আমেজ উপভোগ করার মাধ্যম নয়, শরীর ও মনের সুস্থতার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতে কিছুটা সময় সূর্যের আলোয় কাটালে ভিটামিন ডি তৈরি, দেহঘড়ি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সীফাত জাহান শশীর মতে, সূর্যের আলো ত্বকে পড়লে শরীর নিজে থেকেই ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে। হাড় ও দাঁতের দৃঢ়তা বজায় রাখা এবং শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ।

সকালের আলো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। সূর্যালোক মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে, যা মন-মেজাজ ভালো রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত সকালের আলোয় থাকা উদ্বেগ কমানো, মনোযোগ বাড়ানো এবং হালকা বিষণ্নতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া সকালের আলো শরীরের সারকাডিয়ান রিদম বা দেহঘড়ি ঠিক রাখতে সাহায্য করে। সকালে চোখে আলো পৌঁছালে মেলাটোনিনের নিঃসরণ কমে শরীরকে জাগ্রত থাকতে সহায়তা করে। দিনের শেষে আলো কমে এলে আবার মেলাটোনিন বাড়তে থাকে, ফলে ঘুমের প্রস্তুতি তৈরি হয়। এ কারণে নিয়মিত সকালে আলোয় থাকা ঘুমের সময়সূচি ঠিক রাখতেও সহায়ক হতে পারে।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষেত্রেও সূর্যের আলো পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখতে পারে। ভিটামিন ডি রোগপ্রতিরোধী কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

সকালের আলো দিনের সতর্কতা ও কর্মক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত আলো শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়তা করে, যার সঙ্গে ঘুম, শক্তির মাত্রা, হজম ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে।

Advertisements

চোখ ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ক্ষেত্রেও দিনের আলো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞের মতে, সকালের মৃদু আলো মস্তিষ্ককে সজাগ রাখতে এবং মনোযোগ ও একাগ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষই এর সুফল পেতে পারেন।

এ ছাড়া আলো শরীরের মেলাটোনিন, সেরোটোনিন ও কর্টিসলের মতো হরমোনের দৈনিক ছন্দ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এর ফলে ঘুম, মানসিক স্থিতি ও সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণের সঙ্গেও সকালের আলোয়ের কিছু সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সূর্যের আলো শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও বিপাকীয় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শুধু রোদে থাকলেই ওজন কমবে—এমন নয়; সুষম খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি এটি সহায়ক অভ্যাস হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

কতক্ষণ রোদে থাকবেন?

ডা. সীফাতের পরামর্শ অনুযায়ী, বেশিরভাগ মানুষের জন্য সকালে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সূর্যের আলোয় থাকা যথেষ্ট হতে পারে। তবে বয়স, ত্বকের ধরন ও ব্যক্তিভেদে প্রয়োজনীয় সময়ের পার্থক্য থাকতে পারে। সকালের মৃদু রোদ উপকারী হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সূর্যের তীব্রতা বেড়ে যায়, তাই দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলাই ভালো।

তবে যাদের ত্বক সূর্যের আলোতে অতিরিক্ত সংবেদনশীল, নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা রয়েছে কিংবা এমন ওষুধ সেবন করছেন যা সূর্যালোকের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে, তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। রোদে থাকার পর ত্বকে লালচে ভাব, র‍্যাশ বা অস্বাভাবিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তাই প্রতিদিনের রুটিনে পরিমিত সময় সকালের আলোয় থাকা শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দ ও সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখার একটি সহজ অভ্যাস হতে পারে।

Advertisements