রাতে ঘুম আসছে না? ওষুধ নয়, ঘুম পাড়াতে পারে এই ৩ স্মার্ট ডিভাইস

রাতে বিছানায় যাওয়ার পরও ঘুমের দেখা নেই? কাজের চাপ, নানা চিন্তা কিংবা উদ্বেগে অনেকেরই রাত কেটে যায় এপাশ-ওপাশ করে। ঘুম ভেঙে গেলে আবার মোবাইল বা ল্যাপটপে চোখ রাখার অভ্যাসও সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ওজন বাড়ার ঝুঁকি থেকে শুরু করে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা ও স্মৃতিশক্তিতে প্রভাব—সবই দেখা দিতে পারে।
ঘুমের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। এর বদলে ঘুমের পরিবেশ আরামদায়ক করতে কিছু স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এগুলো সরাসরি অনিদ্রার চিকিৎসা নয়, তবে ঘুমের আগে শরীর ও মনকে কিছুটা শিথিল করতে সহায়তা করতে পারে।
পিলো স্পিকার
ছোট ও চ্যাপ্টা এই ডিভাইসটি বালিশের নিচে রেখে ব্যবহার করা যায়। এতে থাকা বোন-কন্ডাকশন অডিও প্রযুক্তির মাধ্যমে কম্পনের সাহায্যে শব্দ ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছায়। ফলে পাশে থাকা মানুষকে বিরক্ত না করেই বৃষ্টির শব্দ, সমুদ্রের ঢেউ, মেডিটেশন মিউজিক কিংবা পডকাস্ট শোনা যায়।
অনেক ডিভাইসে ভলিউম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ৩০, ৬০ বা ৯০ মিনিটের অটো স্লিপ টাইমারও থাকে। নির্দিষ্ট সময় পর এটি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। বাজারে এ ধরনের ডিভাইসের দাম প্রায় ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা।
ব্লুটুথ স্লিপ হেডব্যান্ড
নরম কাপড়ের তৈরি এই হেডব্যান্ডের ভেতরে পাতলা স্পিকার থাকে। ব্লুটুথের মাধ্যমে ফোনের সঙ্গে সংযোগ করে বিছানায় শুয়েই বৃষ্টির শব্দ, সমুদ্রের ঢেউ বা হোয়াইট নয়েজ শোনা যায়।
মাথায় আরাম করে পরে নেওয়া যায় বলে ঘুমের আগে রিল্যাক্স করতে এটি ব্যবহার করেন অনেকে। বাজারে সাধারণ মানের স্লিপ হেডব্যান্ড প্রায় ২০০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়।
আই মাসাজার স্লিপ মাস্ক
সারাদিন ফোন, কম্পিউটার বা অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহারের পর চোখে ক্লান্তি ও অস্বস্তি তৈরি হলে ঘুমের সময়ও তার প্রভাব পড়তে পারে। স্লিপ মাস্কের মতো দেখতে আই মাসাজারে সাধারণত হিট থেরাপি, এয়ারব্যাগ ম্যাসাজ ও হালকা ভাইব্রেশনের মতো ফিচার থাকে।
হালকা গরমের মাধ্যমে চোখের চারপাশের পেশি শিথিল করতে এবং এয়ারব্যাগের চাপের মাধ্যমে আরাম দিতে পারে এই ডিভাইস। কিছু মডেলে রিল্যাক্সিং মিউজিকও থাকে। ফলে ঘুমের আগে চোখ ও শরীরকে আরাম দেওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করা যায়।
তবে মনে রাখা জরুরি, এসব ডিভাইস অনিদ্রার চিকিৎসার বিকল্প নয়। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে বা ঘুমের সমস্যা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।



