২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

পড়াশোনায় মনোযোগ ও স্মরণশক্তি বাড়ানোর সহজ উপায়

158182_113

সারা বছরই পড়াশোনার ব্যস্ততা। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান—একেকটি বিষয়ের পেছনে দিতে হয় অনেকটা সময়। এর সঙ্গে থাকে বাড়ির কাজ, ক্লাস টেস্ট ও পরীক্ষা। ফলে পরীক্ষার সময় অনেক শিক্ষার্থীরই মনে হয়, এতদিন যা পড়েছে তার কিছুই যেন মনে থাকছে না। এতে তৈরি হয় বাড়তি চাপ, আর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও কমে যেতে পারে।

তবে পড়াশোনা কঠিন মনে হলেই হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই শেখার প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ করা সম্ভব। শুধু দীর্ঘ সময় বইয়ের সামনে বসে থাকাই নয়, কীভাবে পড়ছি—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি কার্যকর অভ্যাস নিয়মিত অনুসরণ করলে পড়া বুঝতে, মনে রাখতে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে।

পড়ার জায়গা পরিচ্ছন্ন রাখো

পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর জন্য সুন্দর ও গোছানো পরিবেশ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। টেবিলের ওপর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বই-খাতা কিংবা অন্যান্য জিনিসপত্র থাকলে সহজেই মনোযোগ অন্যদিকে চলে যেতে পারে।

তাই পড়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে নাও। প্রতিদিন যেসব বই ও খাতা প্রয়োজন, সেগুলো হাতের কাছে রাখো। অন্য বইগুলো আলাদা করে সাজিয়ে রাখতে পারো। চাইলে টেবিলে একটি ডায়েরি বা ক্যালেন্ডারও রাখতে পারো। সেখানে পরীক্ষার তারিখ, হোমওয়ার্ক জমা দেওয়ার সময় কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কাজ লিখে রাখলে কিছু ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে।

নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকো

ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে শোনা পড়াশোনার বড় একটি অংশ সহজ করে দিতে পারে। শিক্ষক কোনো অধ্যায় যখন সরাসরি বুঝিয়ে দেন, তখন বিষয়টি বোঝার সুযোগ থাকে এবং পরে বাড়িতে পড়ার সময়ও কম লাগে।

কোনো কারণে ক্লাসে যেতে না পারলে সহপাঠীর কাছ থেকে নোট সংগ্রহ করো এবং যে বিষয়টি বুঝতে সমস্যা হচ্ছে, তা শিক্ষককে জিজ্ঞেস করো। ক্লাসের পড়া নিয়মিত অনুসরণ করলে পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত চাপও কমে আসে।

Advertisements

নিজের মতো করে নোট তৈরি করো

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিজের ভাষায় লিখে রাখার অভ্যাস পড়া মনে রাখতে বেশ কাজে দেয়। পুরো বই বারবার পড়ার পরিবর্তে পরীক্ষার আগে নিজের তৈরি নোট দেখে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ঝালিয়ে নেওয়া যায়।

ক্লাসে শিক্ষক কোনো তথ্যকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বললে সেটিও নোট করে রাখো। আর বিস্তারিত নোট তৈরি করতে ভালো না লাগলে বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাইলাইট করে রাখতে পারো। পরে রিভিশনের সময় এগুলো খুঁজে বের করাও সহজ হবে।

না বুঝলে প্রশ্ন করো

পড়াশোনায় কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে শুধু মুখস্থ করার চেষ্টা না করে প্রশ্ন করা উচিত। কেন এমন হলো, কীভাবে কাজটি হচ্ছে কিংবা এর কারণ কী—এ ধরনের প্রশ্ন করার অভ্যাস শেখাকে আরও গভীর করে।

শিক্ষক, বাবা-মা কিংবা বড় ভাই-বোনের কাছে প্রশ্ন করতে দ্বিধা করার প্রয়োজন নেই। কোনো বিষয় বুঝে শেখা গেলে তা দীর্ঘদিন মনে থাকার সম্ভাবনাও বাড়ে।

নিজের পড়ার রুটিন তৈরি করো

সব বিষয় একসঙ্গে পড়ার চেষ্টা না করে সময় ভাগ করে নেওয়া ভালো। সপ্তাহের কোন দিনে কোন বিষয় পড়বে, কখন হোমওয়ার্ক করবে এবং কখন বিশ্রাম নেবে—এসব আগে থেকে ঠিক করে রাখতে পারো।

দিন শেষে নিজের পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখো কতটা কাজ শেষ হয়েছে। কোনো কাজ বাকি থাকলে সেটি পরের দিনের তালিকায় যুক্ত করে নাও। এতে সময়ের অপচয় কমবে এবং পড়াশোনার প্রতি একটা নিয়ম তৈরি হবে।

কম বই, বেশি মনোযোগ

একই বিষয় শেখার জন্য অনেক বই একসঙ্গে পড়লে অনেক সময় তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই ভালো ও নির্ভরযোগ্য কয়েকটি বই বেছে নিয়ে সেগুলো ভালোভাবে পড়া বেশি কার্যকর।

একটি বই থেকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝে নিয়ে বারবার অনুশীলন করলে ধারণা শক্ত হয়। শুধু দ্রুত অনেক কিছু পড়ার চেয়ে বুঝে ও মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পড়াশোনাকে চাপ নয়, অভ্যাস বানাও

পড়াশোনাকে শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে দেখলে তা অনেক সময় বিরক্তিকর মনে হতে পারে। বরং প্রতিদিন অল্প অল্প করে নিয়ম মেনে পড়লে শেখার চাপ কমে যায়। গোছানো পরিবেশ, নিয়মিত ক্লাস, নিজের নোট, প্রশ্ন করার অভ্যাস এবং একটি বাস্তবসম্মত রুটিন—এই ছোট পরিবর্তনগুলো পড়াশোনার পদ্ধতিতেই বড় পার্থক্য আনতে পারে।

তাই পরীক্ষার আগে একসঙ্গে অনেক কিছু শেষ করার চেষ্টা না করে প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করার অভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো। এতে পড়াশোনা সহজ হবে, আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং শেখার প্রতি আগ্রহও তৈরি হবে।

Advertisements