১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

একটি ন্যাপকিনের কবিতা থেকে শুরু রাজীব গান্ধী-সোনিয়ার প্রেম

images (10)

১৯৬৫ সালের এক শনিবার। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ শহরের পরিচিত গ্রিক রেস্তোরাঁ ‘ভার্সিটি’-তে গিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী ইতালীয় তরুণী সোনিয়া। নতুন দেশে থাকার কারণে সেদিন কিছুটা মন খারাপ ছিল তার। কিন্তু সেই সাধারণ দুপুরটিই যে তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠবে, তা তখন সোনিয়া কল্পনাও করতে পারেননি।

রেস্তোরাঁয় খাবারের জন্য যাওয়ার সময় সোনিয়ার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে তরুণ রাজীব গান্ধীর। তখন তিনি বন্ধুদের সঙ্গে রেস্তোরাঁর ১১ নম্বর টেবিলে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। সোনিয়াকে দেখার পর রাজীবের মনোযোগ যেন মুহূর্তেই তার দিকে চলে যায়।

বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম দেখাতেই সোনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হন রাজীব। তিনি একটি কাগজের ন্যাপকিন ও কলম নিয়ে সোনিয়ার উদ্দেশে কবিতা লিখতে শুরু করেন। এরপর রেস্তোরাঁর মালিককে ডেকে সেরা ওয়াইনের একটি বোতল আনতে বলেন। রাজীবের অনুরোধে মালিক নিজেই সোনিয়ার টেবিলে ওয়াইন ও কবিতাটি পৌঁছে দেন।

এই সাক্ষাতের পর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে দুজনের। সোনিয়া পরবর্তী সময়ে নিজের লেখা একটি বইয়ে তাদের প্রথম সাক্ষাতের অনুভূতির কথা উল্লেখ করেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমবার কাছাকাছি এসে দুজনের চোখাচোখির মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। তার ভাষ্যে, সেটি ছিল দুজনের জন্যই প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার মতো একটি মুহূর্ত।

এরপর একসঙ্গে সময় কাটাতে শুরু করেন রাজীব ও সোনিয়া। পুরোনো একটি গাড়িতে ঘুরে বেড়ানো, নদীতে নৌকা চালানো কিংবা সিনেমা দেখতে যাওয়া—এভাবেই তাদের সম্পর্কের শুরুর দিনগুলো আনন্দে কেটেছিল।

তবে তাদের প্রেমের গল্পে ছিল একটি মজার বিষয়। রাজীবের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পরও সোনিয়া শুরুতে জানতেন না যে তিনি ভারতের অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান।

Advertisements

কিছুদিন পর এক বন্ধুর কাছ থেকে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেখার পর বিষয়টি জানতে পারেন সোনিয়া। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, যার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তিনি ভারতের নেহরু-গান্ধী পরিবারের সন্তান।

Advertisements