বর্জ্য দিলেই মিলছে খাবার ও গাছের চারা

ঘরের কিংবা আশপাশের জমে থাকা বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা দিলেই মিলছে চাল, আলু, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। কেউ কেউ পাচ্ছেন গাছের চারাও। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের উৎসাহিত করতে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ক্লিন চাঁদপুর’।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের ঘোষপাড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রী সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে আসেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বয়সী মানুষকে হাতে ব্যাগ, বস্তা ও পলিথিনে করে বর্জ্য নিয়ে আসতে দেখা যায়। কেউ নিয়ে আসেন প্লাস্টিকের বোতল, আবার কেউ জমা দেন পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের পরিত্যক্ত সামগ্রী। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য জমা দেওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় খাদ্যসামগ্রী অথবা গাছের চারা।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, শহরের বিভিন্ন স্থানে এখনো অনেকেই যত্রতত্র ময়লা ফেলেন। এতে পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি ড্রেন ও নালা বর্জ্যে আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতার সমস্যাও তৈরি হয়।
কর্মসূচির উদ্যোক্তা ও ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ বলেন, শুধু ময়লা না ফেলতে বললে অনেক সময় মানুষের মধ্যে প্রত্যাশিত সচেতনতা তৈরি হয় না। তাই নাগরিকদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারভিত্তিক এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘরের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা দিলে তার বিনিময়ে প্রতীকী উপহার দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে মানুষকে বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাসে অভ্যস্ত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
আয়োজকরা জানান, বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্যসামগ্রী বা গাছের চারা দেওয়ার এই উদ্যোগের পেছনে কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নেই। মূল লক্ষ্য হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা কমানো।
তারা আরও জানান, এটি একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে চান তারা। ধারাবাহিক সচেতনতা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য।



