সিনিয়রের সামনে সিগারেট জ্বালানোই কাল হলো তানিমের

ঢাকার আরমানিটোলার আহমেদ বাওয়ানী অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থী মোরশেদ আলম তানিম হত্যা মামলার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মোবাইল ছিনতাইকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও তদন্তে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার পাশাপাশি জুনিয়র হয়ে সিনিয়রের সামনে সিগারেট জ্বালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তানিমকে হত্যা করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে চকবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। এতে ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মৃত্যুর আগে তানিম তার মাকে হামলাকারীদের নাম জানিয়েছিলেন। তবে ভয়ে তার পরিবার বিষয়টি গোপন রাখে এবং মামলা করতে রাজি হয়নি। পরে তানিমকে প্রথমে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জবানবন্দি ও তদন্তে সিগারেট জ্বালানোর বিষয়টি সামনে আসে।
তদন্তে জানা যায়, তানিমের সঙ্গে মূল অভিযুক্ত মো. সিফাত ওরফে রিগ্যান এবং অভিযুক্ত চার শিশুর আগে থেকেই পরিচয় ছিল। মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও চলছিল।
গত বছরের ৩০ জুন রাত ১২টার দিকে হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে মাতম শেষে বন্ধুদের সঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন তানিম। পথে কাবিন নামের একটি কাবাবের দোকানের সামনে তিনি সিগারেট জ্বালান। বিষয়টি দেখে অভিযুক্ত সায়েম সিফাতসহ অন্যদের জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সিফাত জুনিয়র হয়ে সিনিয়রের সামনে সিগারেট জ্বালানোর জন্য তানিমকে ‘বেয়াদব’ আখ্যা দিয়ে তাকে শিক্ষা দেওয়ার কথা বলে। এরপর সহযোগীদের নিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিগারেট জ্বালানোর সময় বন্ধুদের থেকে কিছুটা পেছনে পড়ে যান তানিম। পরে চকবাজার থানার নাজিম উদ্দিন রোডের মক্কু শাহ মাজারের কাছে পৌঁছালে সিফাত ও তার সহযোগীরা তাকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে সিফাত ধারালো চাকু দিয়ে তানিমকে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
তানিমের চিৎকার শুনে তার বন্ধুরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হামলায় তার খাদ্যনালী কেটে যায়। পরদিন ১ জুলাই তাকে বাসায় নেওয়া হলেও বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১১টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মামলার তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহ এড়াতে অভিযুক্ত চার শিশুও তানিমকে দেখতে মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে সায়েম, জাহিদ ও অনিক আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
গত বছরের ২৫ জুলাই চকবাজার মডেল থানার এসআই মো. মানিক উদ্দিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে মূল অভিযুক্ত সিফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং সায়েম, জাহিদ, মোস্তাকিম আহম্মেদ সাফিন ও অনিককে অভিযুক্ত করে দোষীপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়।
সূত্র- আরটিভি



