চোখের আর্দ্রতা ধরে রাখতে মেনে চলুন সহজ কিছু নিয়ম

স্মার্টফোন, কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় দীর্ঘসময় তাকিয়ে থাকা এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু একটানা স্ক্রিন দেখার অভ্যাস চোখের স্বাভাবিক পলক ফেলার হার কমিয়ে দিতে পারে। ফলে চোখে তৈরি হওয়া অশ্রু দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং দেখা দিতে পারে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, খচখচে অনুভূতি কিংবা চোখে কিছু আটকে থাকার মতো অস্বস্তি। অতিরিক্ত গরম, শুষ্ক আবহাওয়া ও বাতাসের সংস্পর্শেও এ সমস্যা বাড়তে পারে।
শুষ্ক চোখের সমস্যা হলে প্রথমেই জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তন আনা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে বা দৃষ্টিতে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্ক্রিন ব্যবহারে বিরতি
দীর্ঘসময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিয়মিত বিরতি নেওয়া চোখের জন্য বেশ উপকারী। কিছুক্ষণ পরপর দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকানো এবং সচেতনভাবে কয়েকবার পলক ফেলা চোখের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা খুব বেশি না রেখে চোখের আরামের সঙ্গে সামঞ্জস্য করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ঠান্ডা শসার সেঁক
চোখে সাময়িক আরাম দিতে পরিষ্কার ও ঠান্ডা শসার টুকরো বন্ধ চোখের পাতার ওপর কয়েক মিনিট রাখা যেতে পারে। এটি চোখের চারপাশের অস্বস্তি ও ক্লান্তির অনুভূতি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে শসা বা অন্য কোনো উপাদান সরাসরি চোখের ভেতরে ব্যবহার করা উচিত নয়।
খাবারে ওমেগা-থ্রি
চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসেরও সম্পর্ক রয়েছে। সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, বীজসহ ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। পর্যাপ্ত ওমেগা-থ্রি গ্রহণ শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি চোখের স্বাভাবিক অশ্রুস্তর বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান
শরীরে পানিশূন্যতা থাকলেও চোখে শুষ্কতার অনুভূতি বাড়তে পারে। তাই দিনের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। অতিরিক্ত চা-কফি বা অন্যান্য পানীয়ের পরিবর্তে সাধারণ পানিকে প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে।
বাতাস ও অতিরিক্ত তাপ থেকে চোখকে বাঁচান
ফ্যান, এসি বা গাড়ির জানালা দিয়ে সরাসরি আসা বাতাস চোখের অশ্রু দ্রুত শুকিয়ে দিতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত গরম ও ধুলাবালিও চোখের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই সম্ভব হলে চোখের দিকে সরাসরি বাতাস না লাগানো এবং বাইরে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সানগ্লাস ব্যবহার করা ভালো।
চোখে তেল নয়
অনেকে শুষ্ক চোখের জন্য নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল চোখে দেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ঘরোয়া তেল চোখের ভেতরে দেওয়া নিরাপদ নয়। এতে চোখে জ্বালা, অ্যালার্জি কিংবা সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শুষ্ক চোখের জন্য প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার করা যেতে পারে।
চোখের শুষ্কতা মাঝে মাঝে হলে সাধারণ যত্ন ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের মাধ্যমে অস্বস্তি কমানো সম্ভব। কিন্তু সমস্যা বারবার হলে, চোখ লাল হয়ে গেলে, ব্যথা বা আলো সহ্য করতে না পারলে কিংবা দৃষ্টিতে ঝাপসাভাব দেখা দিলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



