১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
নারী

দেশে ফিরেই লজ্জা শেখালেন অভিনেত্রী বাঁধন

Web_Photo_Editor – 2026-08-13T180209.432_original_1786622544

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসরের ব্যস্ততা, পুরস্কারের আনন্দ আর বিদেশের মাটিতে হয়রানির তিক্ত অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ইতালি থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এবার দেশের রাজনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান বাঁধন। দেশে ফেরার পর ইতালিতে পাওয়া নিরাপত্তা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী।

বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ‘বড় দল’ হিসেবে উল্লেখ করে দলটির নেতাদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে দলটি আবার রাজনীতিতে ফিরতে পারে। তাই এমন কোনো রাজনৈতিক রূপরেখা তৈরি করা উচিত নয়, যার কারণে ভবিষ্যতে দলটির নেতাদেরই লজ্জিত হতে হয়।
বাঁধনের ভাষায়, বড় দলের নেতাদের আরও দায়িত্বশীলভাবে রাজনীতির পথ নির্ধারণ করা উচিত। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য যে রাজনৈতিক কর্মকৌশল তৈরি করা হচ্ছে, তা যেন ভবিষ্যতে দলের জন্য বিব্রতকর বা লজ্জার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

অভিনেত্রীর এই বক্তব্য দেশে ফেরার পর তার দেওয়া মন্তব্যগুলোর মধ্যে আলাদা করে নজর কেড়েছে। ভেনিসে হয়রানির অভিযোগের পর দেশে ফিরে রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও সরাসরি অবস্থান জানালেন তিনি।

এর আগে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই তার এই সফর। উৎসবে সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয় ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে।

ভেনিসে গিয়ে অবশ্য শুধু সিনেমার প্রদর্শনী নয়, সাফল্যের খবরও পেয়েছেন বাঁধন। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবের ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডসের প্রিমিও বিসাতো দ’ওরো পুরস্কার জিতে নেয়।

তবে উৎসবের আনন্দের মধ্যেই ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সিনেমার প্রিমিয়ারের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন বাঁধন। তার দাবি, তাকে লক্ষ্য করে পানি, কোমলপানীয় ও ডিম ছোড়া হয়। একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার হাত থেকে মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় বাঁধনের সঙ্গে ছিলেন তার ভাইয়ের স্ত্রী এবং তিন বছরের শিশুসন্তান। ফলে ঘটনাটি তার জন্য আরও আতঙ্কের হয়ে ওঠে। পরে ইতালির পুলিশের ভূমিকা এবং সেখানে পাওয়া নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন অভিনেত্রী।
ভেনিসের এই ঘটনায় দেশে ফিরে বাঁধনের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের অনেক শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রতিবাদ করেছেন অনেকে।

একদিকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমার সাফল্য, অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে হয়রানির অভিযোগ—এই দুই ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়েই দেশে ফিরলেন বাঁধন। আর ফিরেই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তার সরাসরি মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Advertisements