১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বিনোদন

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নারী নির্মাতার জয়, সেরা পুরস্কার পেলেন যারা

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নারী নির্মাতার জয়, সেরা পুরস্কার পেলেন যারা

পর্দা নামল ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরের। নারী নির্মাতাদের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা, যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রতিচ্ছবি, শক্তিশালী অভিনয় আর বৈচিত্র্যময় সিনেমার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো এ আয়োজন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে সমাপনী অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হয় এবারের পুরস্কারজয়ীদের নাম। উৎসবের সর্বোচ্চ সম্মান গোল্ডেন লায়ন জিতে নিয়েছে মে এল-তুকির পরিচালিত ‘ওম্যান আননোন’।

পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগঘন বক্তব্যে নারী নির্মাতাদের সমান সুযোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এল-তুকি। তিনি বলেন, ‘এই মহান সম্মানের জন্য জুরিকে ধন্যবাদ। আর বিশেষভাবে তোমাকে, ম্যাগি (জুরিপ্রধান)। নারী নির্মাতাদের সমান সুযোগের কথা তুমি বলেছ। আমার সিনেমাটির জন্য আর্থিক, বাস্তব ব্যবস্থাপনা ও আবেগ— সব দিক থেকেই পুরো বিষয়টা অত্যন্ত কঠিন ছিল।’

এবারের ভেনিস উৎসবে নারী নির্মাতাদের স্বল্প উপস্থিতি নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা ছিল। প্রতিযোগিতা বিভাগে তাদের অংশগ্রহণের হার অনেককেই বিস্মিত ও বিব্রত করেছে। এর মধ্যেই প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি সভাপতি ছিলেন নারী নির্মাতা ও অভিনেত্রী ম্যাগি জিলেনহাল। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ পুরস্কারটিও উঠল এক নারী নির্মাতার হাতে। ফলে নারী নির্মাতাদের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনায় কিছুটা হলেও ভারসাম্য ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু গোল্ডেন লায়ন নয়, ‘ওম্যান আননোন’ আরও একটি বড় পুরস্কার পেয়েছে। সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর ভলপি কাপ জিতেছেন ম্যাথিল্ড আর্সেল। আবেগাপ্লুত এই ডেনিশ অভিনেত্রী বলেন, ‘এই প্রথম কোনো সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করলাম। পুরস্কারের ক্ষেত্রেও প্রথম। নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছি যে ভেনিসে, আপনাদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা হচ্ছে।’

সেরা অভিনেতার ভলপি কাপ পেয়েছেন জন মালকোভিচ। ‘ওয়াইল্ড হর্স নাইন’ সিনেমায় এক সিআইএ এজেন্টের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য এই স্বীকৃতি পান ৭২ বছর বয়সী মার্কিন অভিনেতা। পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই তাকে ঘিরে অস্কারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অন্য একটি সিনেমার শুটিংয়ে মন্ট্রিয়েলে থাকায় ভেনিসের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জুরিকে ধন্যবাদ জানান মালকোভিচ।

উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান গ্র্যান্ড জুরি প্রাইজ পেয়েছে লি চ্যাং-দং পরিচালিত ‘পসিবল লাভ’। দক্ষিণ কোরিয়ার এই সিনেমাটি আন্তর্জাতিক ফিচার বিভাগে অস্কারের দৌড়ে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করবে।

Advertisements

সেরা পরিচালকের জন্য সিলভার লায়ন পেয়েছেন রুশ ভিন্নমতাবলম্বী নির্মাতা ইলিয়া খ্রজানভস্কি। প্রায় দুই দশক ধরে নির্মাণাধীন তার তিন ঘণ্টা ১৫ মিনিটের সিনেমা ‘ডিএইউ’ তাকে এনে দিয়েছে এই সম্মান। পুরস্কারটি গ্রহণ করে ইউক্রেনের মানুষের প্রতি সংহতি জানান নির্মাতা।

এবারের আসরে যুদ্ধ ও সংঘাতের বাস্তবতাও উঠে এসেছে পুরস্কারের মঞ্চে। ‘নো আদার ল্যান্ড’-এর ইসরায়েলি সহ-পরিচালক ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোর্স নির্মিত গাজা সংঘাতের প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ পেয়েছে স্পেশাল জুরি প্রাইজ।

পুরস্কার গ্রহণের সময় ইউভাল আব্রাহাম বলেন, ‘এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলা সত্যিই সহজ নয়। কারণ ইসরায়েলের অনেক রাজনীতিক ও সাংবাদিক এখন এই সিনেমাটিকে আক্রমণ করছেন, এমনকি না দেখেই এর বক্তব্য অস্বীকার করছেন। বাস্তবতার দিকে না তাকানোর জন্য অনেক কিছুই করা হচ্ছে।’

এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি সভাপতি ছিলেন ম্যাগি জিলেনহাল। তার সঙ্গে জুরিতে ছিলেন ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ নির্মাতা কাওথার বেন হানিয়া, হংকংয়ের খ্যাতিমান নির্মাতা জনি তো, আফগান নির্মাতা শাহরবানু সাদাত, ফরাসি পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার জাভিয়ের জিওনোলি, ‘দ্য ব্রুটালিস্ট’-এর সুরকার ড্যানিয়েল ব্লুমবার্গ এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইতালীয় চলচ্চিত্র গবেষক ফ্রান্সেস্কো ক্যাসেত্তি।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এবারের বিজয়ীদের পাশাপাশি স্মরণ করা হয় চলচ্চিত্র জগতের প্রয়াত এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকেও। একাধিকবার উচ্চারিত হয় অস্কারজয়ী ব্রিটিশ প্রযোজক জেরেমি থমাসের নাম। শুক্রবার ৭৭ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

পুরস্কারের ঝলক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন এবং নারী নির্মাতাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নানা আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব। গোল্ডেন লায়ন হাতে মে এল-তুকির জয় তাই শুধু একটি সিনেমার স্বীকৃতি নয়, উৎসবের মঞ্চে নারী নির্মাতাদের অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

Advertisements