এআই দিয়ে ভুয়া অশ্লীল ছবি তৈরি করে সাবেক স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেল, যুবক গ্রেপ্তার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাবেক স্ত্রীর অশ্লীল ছবি তৈরি, সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং পরে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের মধুপুরের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাসেল রানা (২৭) নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মধুপুর থানার পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাদামপুর বাজার এলাকার একটি পোলট্রি খামারের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে রাসেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাসেল রানা মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের চুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য শামছুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাইয়ে শালিখা উত্তরপাড়া গ্রামের শিউলি আখতারের সঙ্গে রাসেল রানার বিয়ে হয়। তবে যৌতুকের দাবি, শারীরিক নির্যাতন ও মাদকাসক্তির অভিযোগে ২০২৪ সালের মে মাসে শিউলি তাকে তালাক দেন।
এরপর প্রায় এক বছর পর শিউলি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। আর এই বিয়ের পর থেকেই সাবেক স্বামীর আচরণে পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ। শিউলির পরিবারের দাবি, রাসেল বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে বলতে থাকেন, তাদের দাম্পত্য জীবনের কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও তার কাছে রয়েছে। সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিনি অর্থ দাবি করতে থাকেন।
একপর্যায়ে সাবেক স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। টাকা না দিলে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ জন্য একটি বিকাশ নম্বরও দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাসেল রানা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিউলির মুখাবয়ব বসিয়ে কিছু অশ্লীল ছবি তৈরি করেন এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পাশাপাশি আরও অশ্লীল ভিডিও অনলাইনে প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এআই দিয়ে তৈরি ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এতে শিউলি ও তার পরিবারের সদস্যরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন।
ঘটনার পর গত ১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ করা হয়। আদালতের নির্দেশে ৪ সেপ্টেম্বর মধুপুর থানায় অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
মামলা হওয়ার পর রাসেল রানা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। ৯ সেপ্টেম্বর রাতে মৌলভীবাজার সদর থানার নাদামপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সেলিম হোসেন শিকদার জানান, গ্রেপ্তারের সময় রাসেল রানার মোবাইল ফোনে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বেশ কিছু অশ্লীল ছবি পাওয়া গেছে। এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি আইডিও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল রানা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সঙ্গে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি ও ভিডিও এখন নতুন ধরনের সাইবার অপরাধের ঝুঁকি তৈরি করছে। কারও মুখাবয়ব ব্যবহার করে বাস্তবের মতো অশ্লীল ছবি বা ভিডিও তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তাই লঙ্ঘন করে না, ভুক্তভোগীকে সামাজিক ও মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করতে পারে। তাই এমন ঘটনায় দ্রুত আইনগত সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।



