১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
স্পটলাইট

আজ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস

images

‘আত্মহত্যা সম্পর্কিত ধারণার পরিবর্তন’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। দিবসটির এবারের স্লোগান, ‘আত্মহত্যা নিয়ে নীরবতা ও কলঙ্ক ভেঙে কথোপকথন শুরু করা।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য হলেও বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৭ লাখ ২৭ হাজার মানুষ আত্মহত্যায় মারা যান। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে আত্মহত্যা বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। এসব মৃত্যুর প্রায় ৭৩ শতাংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ: তরুণদের আত্মহত্যা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ শীর্ষক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা করাকে আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচনার বিধান মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক স্টিগমা আরও বাড়াচ্ছে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে না দেখে মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের আত্মহত্যার চিন্তা আসতে পারে। সেই সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকার পাবনা মানসিক হাসপাতালের আধুনিকায়ন, ঢাকার মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা এবং কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো তৈরিতে কাজ করছে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে টেলি-কাউন্সেলিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে ‘ইটস গুড টু টক’ নামে একটি প্রচারণা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার বলেন, আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে এমন ব্যক্তিকে দূরে সরিয়ে না দিয়ে তার পাশে দাঁড়াতে হবে। তাকে কোনোভাবেই অপরাধী হিসেবে দেখা উচিত নয়। সংকটের সময়ে তাকে একা না রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

ডব্লিউএইচওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহাম্মদ বলেন, আত্মহত্যার ঝুঁকি কমানো, সামাজিক সহায়তা জোরদার এবং সংকটে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে বিভিন্ন খাত ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চিকিৎসা নিতে গিয়ে কেউ যেন বাধার মুখে না পড়েন, সে জন্য প্রচলিত আইন পরিবর্তনের বিষয়টি এখন ভাবার সময় এসেছে।

বিশ্বে ২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থার সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্য ফেডারেশন দিবসটি পালনে যৌথভাবে কাজ করে।

দিবসটি সামনে রেখে বিশেষজ্ঞরা তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা বাড়ানো, সামাজিক নেতিবাচক ধারণা ও কলঙ্ক দূর করা এবং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনার প্রচলিত আইন পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

Advertisements