১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বিবিধ

পালক সন্তান কি জৈবিক সন্তানের মত সম্পত্তির উত্তরাধিকার পাবে?

BeFunky-collage-(93)-6aa27b5ac3138

বাংলাদেশে শিশু দত্তক নেওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, কোনো শিশুকে ছোটবেলা থেকে লালন-পালন করা কিংবা আদালতের মাধ্যমে অভিভাবকত্ব নেওয়া হলে সে জৈবিক সন্তানের মতোই পালক বাবা-মায়ের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে। তবে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে বিষয়টি ভিন্ন।

বাংলাদেশে মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য শিশু দত্তক নেওয়ার বিষয়ে স্বতন্ত্র কোনো আইন নেই। ফলে আদালতের মাধ্যমে শিশুর অভিভাবকত্ব বা গার্ডিয়ানশিপ নেওয়া সম্ভব হলেও সেটিকে আইনি অর্থে দত্তক হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট, ১৮৯০ অনুযায়ী, আদালত শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করে কোনো ব্যক্তি বা দম্পতিকে তার অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুকে নিজের জিম্মায় রেখে তার লালন-পালন, শিক্ষা ও চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া যায়।

তবে অভিভাবকত্ব পাওয়ার ফলে শিশুর সঙ্গে পালক বাবা-মায়ের জৈবিক সন্তানের মতো আইনগত সম্পর্ক তৈরি হয় না। ফলে পালক বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ওই শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে না।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিতি সানজানা বলেন, মুসলিম আইনে দত্তকের স্বতন্ত্র কোনো ধারণা নেই। অভিভাবকত্বের মাধ্যমে কোনো শিশুকে বড় করা হলেও তাকে আইনগতভাবে নিজের জৈবিক সন্তান হিসেবে গণ্য করা হয় না। তাই উত্তরাধিকার আইনের ক্ষেত্রেও তার স্বাভাবিক অধিকার তৈরি হয় না।

তবে পালক সন্তানের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কিছু আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মুসলিম আইনে একজন ব্যক্তি ওসিয়তের মাধ্যমে তার মোট সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ পালক সন্তানের নামে দিয়ে যেতে পারেন। তবে এই ওসিয়ত মৃত্যুর পর কার্যকর হয় এবং পুরো সম্পত্তি ওসিয়ত করার সুযোগ নেই।

এ ছাড়া জীবদ্দশায় পালক সন্তানের নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন আইনি বিষয় বিবেচনা করতে হয়। সম্পত্তির ধরন ও উত্তরাধিকার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অন্য উত্তরাধিকারীদের অধিকার বা সম্মতির প্রশ্নও দেখা দিতে পারে। তাই ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ এড়াতে সম্পত্তি হস্তান্তর বা ওসিয়তের আগে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে নিঃসন্তান দম্পতিদের অনেকেই শিশু লালন-পালনের জন্য আদালতের মাধ্যমে অভিভাবকত্বের পথ বেছে নেন। কিন্তু অভিভাবকত্ব পাওয়া এবং আইনি দত্তক নেওয়া এক বিষয় নয়। বিশেষ করে সম্পত্তির উত্তরাধিকার, পারিবারিক পরিচয় ও আইনগত অধিকারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।

তাই কোনো শিশুকে দীর্ঘদিন ধরে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করলেও সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জৈবিক সন্তানের সমান উত্তরাধিকারী হয়ে যায় না। পালক সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সম্পত্তি বা আর্থিক ব্যবস্থা করতে হলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও ব্যক্তিগত ধর্মীয় আইনের বিধান মেনে করতে হবে।

সোর্স- দৈনিক যুগান্তর

Advertisements