স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

চাকরির কারণে স্বামী এক শহরে, স্ত্রী অন্য শহরে—কর্মজীবী দম্পতিদের কাছে এমন বাস্তবতা নতুন নয়। দূরত্বের কারণে সংসার, সন্তান ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল কাছাকাছি রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্য মারদিয়া মমতাজের বিধি-৭১-এর আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরিজীবী হলে তাঁদের কর্মস্থল একই জায়গা, শহর কিংবা একই উপজেলায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কর্মজীবী দম্পতিদের পারিবারিক জীবন কিছুটা সহজ করার পাশাপাশি সন্তানদের দেখাশোনা ও সংসারের দায়িত্ব পালনে সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ছোট সন্তানের দেখভাল। বিশেষ করে কর্মঘণ্টায় শিশুকে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা না থাকলে অনেক মা-বাবাকেই নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এ বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডে-কেয়ার সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সারা দেশে আরও ৬০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এসব সেবার আওতায় ১৫ দিন থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্যও রয়েছে নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে ৪ হাজার ৫০টি শিশুকে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। অফিস চলাকালীন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শিশুদের এসব কেন্দ্রে রাখার সুযোগ রয়েছে।
কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর অনেক দম্পতির জন্য চাকরি ও পরিবার—দুই দিক সামলে চলা কঠিন হয়ে ওঠে। কর্মস্থলের দূরত্ব কমানো এবং কর্মঘণ্টায় শিশুর নিরাপদ যত্ন নিশ্চিত করা সেই চাপ কিছুটা কমাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মজীবী দম্পতিদের জন্য শুধু চাকরির সুযোগ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; তাঁদের পারিবারিক বাস্তবতাকেও নীতিনির্ধারণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কাছাকাছি কর্মস্থল ও মানসম্মত ডে-কেয়ার সুবিধা থাকলে কর্মীদের মানসিক চাপ কমার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে তাঁদের উপস্থিতি ও দক্ষতাও বাড়তে পারে।
ফলে স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল কাছাকাছি রাখার চেষ্টা এবং নতুন ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ব্যবস্থা হয়ে উঠতে পারে। কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে উপকৃত হবেন অসংখ্য কর্মজীবী নারী-পুরুষ।



