কিশোর-কিশোরীদের বুদ্ধিমত্তা কি দিন দিন কমে যাচ্ছে?

প্রতি তিন বছর অন্তর ধনী দেশগুলোর সংস্থা ওইসিডি বিশ্বজুড়ে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক স্কুল পরীক্ষার (পিআইএসএ) ফলাফল প্রকাশ করে। ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য ইতিবাচক সংবাদ আনবে—এমনটি আশা করা হয়। কারণ, মহামারীর ঠিক পরপরই অনুষ্ঠিত আগের ধাপের পরীক্ষায় গণিত, রিডিং এবং বিজ্ঞানের নম্বর বেশ কমে যায়।
নীতিনির্ধারকরা আশা করেছিলেন, দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার পর হয়তো ফলাফলে আবার জোয়ার আসবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র তা বলছে না। বরং ধনী দেশগুলোতে তিনটি বিষয়েই শিক্ষার্থীদের নম্বর আরও নিচে নেমে গেছে। সাক্ষরতার ক্ষেত্রে এই পতনের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
এসব তথ্য ইঙ্গিত দেয়, স্কুলে শিক্ষার্থীদের অর্জনের হার কমিয়ে দেওয়ার পেছনে দীর্ঘমেয়াদী কিছু কারণ সক্রিয় রয়েছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকতে পারে। যারা আজকের তরুণ সমাজকে নিয়ে এবং আগামী দিনের অর্থনীতি নিয়ে চিন্তা করেন, তাদের প্রত্যেকের জন্যই এটি একটি সতর্কবার্তা।
ওইসিডি-র ‘পিএসএ’ প্রকল্পটি তরুণদের বাধ্যতামূলক স্কুলজীবন শেষ করার দ্বারপ্রান্তে তাদের যোগ্যতা পরিমাপ করে। বছরের পর বছর ধরে এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষা ব্যবস্থার সংখ্যা বেড়েছে: সর্বশেষ পরীক্ষাটি ওইসিডি-র ৩৮টি সদস্য দেশ এবং আরও ৫৩টি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়। এই ফলাফল একটি আন্তর্জাতিক তালিকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।
২০০০ সালের পর প্রায় প্রতিবারের মতো এবারও তালিকায় এশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থাগুলো শীর্ষে রয়েছে। চীনের শিশুরা—যারা ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে অন্যদের প্রায় উড়িয়ে দিয়েছে (যদিও পরীক্ষাটি চীনের মাত্র চারটি ধনী প্রদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নম্বরগুলো কিছুটা পক্ষপাতদুষ্ট)।
বিজ্ঞানে তারা ওইসিডি দেশগুলোর গড় নম্বরের চেয়ে ১০০ পয়েন্ট বেশি পেয়েছে (সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, একজন গড় মানের শিক্ষার্থী এক বছরের পুরো শিক্ষাবর্ষে প্রায় ২০ পয়েন্ট শেখে)। সিঙ্গাপুর, ম্যাকাও, তাইওয়ান এবং জাপানের শিশুরা তাদের ঠিক পরেই রয়েছে।
পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে এস্তোনিয়াকে এখনও সেরা শিক্ষা ব্যবস্থা মনে হচ্ছে। তুরস্কও খুব দ্রুত ওপরের দিকে উঠছে। আর ব্রিটেনের জন্য সুখবর রয়েছে, যাদের তরুণরা এখন তিনটি বিষয়েই বিশ্বের সেরা ১০-এর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।
তিন বছর আগের তুলনায় ব্রিটেন বিজ্ঞানের ফলাফলে উন্নতি করেছে এবং পাঠন ও গণিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। যেখানে অনেকে তলিয়ে যাচ্ছে, সেখানে এটিকে একটি ভালো ফলাফল বলতে হবে।
তবে পুরো চিত্র পর্যবেক্ষণ করলে দীর্ঘমেয়াদী পতনের গল্প ফুটে ওঠে। পিএসএ-র সব পর্বে অংশ নেওয়া ওইসিডি-র ২৩টি দেশের গড় নম্বর ২০১২ সালের দিকে শীর্ষে পৌঁছায় এবং এরপর থেকেই তা ক্রমাগত কমছে। গণিত এবং পাঠন উভয় ক্ষেত্রেই তাদের ১৫ বছর বয়সীদের বর্তমান যোগ্যতা এক দশক আগের ১৪ বছর বয়সীদের যোগ্যতার সমান।
নিম্ন সাড়াদানের হারের কারণে আমেরিকার তথ্যগুলো স্পষ্ট নয়, তবে প্রাপ্ত ডেটা ইঙ্গিত দেয় যে তাদেরও সাক্ষরতার নম্বর ধনী বিশ্বের ধারার সাথে সঙ্গতি রেখে নিচে নেমেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবস্থা তুলনামূলক কম আশঙ্কাজনক, কারণ তাদের অর্জনের মাত্রা এমনিতেই শুরু থেকে কম ছিল। তবে সেসব জায়গায়ও অনেক দেশে গণিত এবং পাঠনের নম্বর নিচের দিকেই যাচ্ছে।
যেসব শিশু আগে থেকেই পিছিয়ে ছিল, তারা আরও বেশি পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাগুলোতে ভালো ও খারাপ ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যকার ব্যবধান পিএসএ-র ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। ওইসিডি দেশগুলোর ১৫ বছর বয়সীদের প্রায় ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পাঠন, গণিত এবং বিজ্ঞান—তিনটি বিষয়েই ‘দুর্বল শিক্ষার্থী’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা চার বছর আগে ছিল ২৫ শতাংশ।
ওইসিডি বলছে, এই তরুণদের সহজ কোনো লেখা বুঝতে বা ইউটিলিটি বিলের হিসাব মেলাতেই হিমশিম খেতে হবে। এই পতনের কারণ কী? মহামারীর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিশ্চিতভাবেই এতে ভূমিকা রাখছে। এ বছরের পিএসএ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী তরুণরা কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের সময় প্রায় দশ বছর বয়সী ছিল। ফলে উপরের শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের চেয়ে ওই বয়সের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তাদের ওপর হয়তো বেশি প্রভাব ফেলেছে।
মহামারী এমন কিছু নতুন সমস্যারও জন্ম দিয়েছে যা এখনও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। কোভিডের আগের সময়ের তুলনায় এখন স্কুলে অনুপস্থিতির হার অনেক বেশি, যার কারণগুলো বিতর্কিত। ধনী দেশগুলোতে প্রতি পাক্ষিকে প্রাথমিক স্কুলের অন্তত ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অন্তত একদিন অনুপস্থিত থাকে, যা ২০১৯ সালে ছিল ১০ শতাংশ। মাধ্যমিক স্কুলেও অনুপস্থিতি বেড়েছে। মাত্র কয়েকদিনের পাঠ মিস করলেও তা ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে পরীক্ষার কম নম্বর পাওয়ার বিষয় শিশুদের শিক্ষার ওপর বিশেষ করে তাদের পড়ার দক্ষতার ওপর প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের চিন্তাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। ওইসিডি-র শিক্ষা বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রেয়াস শ্লাইশার যুক্তি দেন, স্মার্টফোনের অবাধ ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহজ প্রবেশাধিকারের কারণে তরুণরা জটিল কোনো লেখা পড়ে তা বোঝার অনুশীলন কম পাচ্ছে।
তিনি এমন কিছু শিক্ষার্থীর কথা উল্লেখ করেছেন যাদের ‘দ্রুতগতির পাঠক’ বলা হয়, যারা পুরো সাক্ষরতা পরীক্ষাটি খুব দ্রুত শেষ করে ফেলে কিন্তু অনেক উত্তরই ভুল দেয়। স্ক্রিন বা ডিসপ্লেগুলো শিশুদেরকে স্পষ্টতই বই থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে: আমেরিকার যে নয় বছর বয়সীরা আনন্দের জন্য বই পড়ার কথা বলত, ১৯৯০-এর দশকে তাদের হার প্রায় ৬০ শতাংশ থাকলেও এখন তা নেমে এসেছে ৩৭ শতাংশে। পাঠন দক্ষতা কমে যাওয়াটা হয়তো অন্যান্য বিষয়েও নম্বর নামিয়ে আনছে—কারণ গণিত এবং বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে এগোতে হলেও ভালো পড়ার দক্ষতা জরুরি।
এই চ্যালেঞ্জগুলো মেটাতে স্কুলে কার্যকর নীতি প্রয়োজন। কিন্তু নানা বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়গুলোকে ভুল পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে। শ্লাইশার দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে বলেন, স্কুলগুলো “আত্মতুষ্ট” হয়ে পড়েছে এবং তারা ক্রমশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বোঝাতে চাইছে যে “সাধারণ মানের কাজও দুর্দান্ত”।
দ্য ইকোনমিস্ট-এর একটি অতিথি নিবন্ধে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষা-সংক্রান্ত সফটওয়্যারের অতিমাত্রায় এবং অগোছালো ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাচাই না করা প্রযুক্তি পণ্যের “ক্র্যাশ-টেস্ট ডামি” হয়ে উঠছে। কিছু তথ্য বলছে, স্কুলগুলোতে বিশৃঙ্খলা করার প্রবণতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে ধনী বিশ্বের শিক্ষকরা জানান, ক্লাসে কেবল শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের যে সময় ব্যয় হয় তা ধীরে ধীরে বাড়ছে।
শিক্ষা সংস্কারকদের ভুল পথে চালিত করার পেছনে পিএসএ-রও কিছুটা দায় থাকতে পারে। ২০০০ সালে যখন প্রথম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, তখন ফিনল্যান্ড তালিকায় শীর্ষে উঠে এসে পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। নীতিনির্ধারকরা হেলসিঙ্কি গিয়ে যে শিক্ষা লাভ করেছিলেন, তা নিজ দেশের শিক্ষকদের শোনানোর জন্য তারা ব্যাকুল ছিলেন।
ফিনল্যান্ড সীমিত পরীক্ষা এবং পরিদর্শনের মাধ্যমেই লক্ষণীয় সাফল্য এনেছিল বলে মনে হয়েছিল। তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত “খেলাভিত্তিক” শেখার ওপর জোর দিত, বিশেষ করে ছোট শিশুদের জন্য। তারা যুক্তি দিয়েছিল যে, ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে শিক্ষকদের কথা বলার চেয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের কাজ নিজেদের শিখতে সাহায্য করায় বেশি সময় দেওয়া উচিত।
অথচ সেই প্রথম পরীক্ষার পর থেকে ফিনল্যান্ডের মতো এতটা খাড়া পতন আর কোনো দেশের ফলাফলে দেখা যায়নি—যা সর্বশেষ ফলাফলেও অব্যাহত রয়েছে। ফিনল্যান্ডের সমালোচকদের মতে, ২০০০ সালে অর্জিত উচ্চ নম্বর প্রকৃতপক্ষে তাদের ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত প্রচলিত পুরোনো ধারার শিক্ষাপদ্ধতির প্রতিফলন ছিল—সেই নতুন “প্রগতিশীল” নীতির ফল ছিল না যার জন্য দেশটি বিখ্যাত হয়েছিল। যদি তা-ই হয়, তবে সেই ভুল ধারণা হয়তো বহু দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পথভ্রষ্ট করেছে।
তাহলে কোনো দেশকে এখন নতুন মডেল হিসেবে ধরা যায়? এশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থাগুলো সাম্প্রতিক বছরের পতন থেকে কিছুটা প্রভাবিত হলেও অন্যান্য ধনী অঞ্চলগুলোর তুলনায় তাদের পতন অনেক কম। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের নম্বরের বড় ব্যবধান এটাই নির্দেশ করে যে পূর্ব এশিয়ার নীতিগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সেখানকার অভিভাবকরা পড়াশোনার বিষয়ে ভীষণ সতর্ক এবং অতিরিক্ত প্রাইভেট টিউশনের জন্য তারা প্রচুর খরচ করেন।
সমালোচকরা বলেন, এই ধরণের সামাজিক বিষয় হুবহু অনুকরণ করা কঠিন। তবে ওই অঞ্চলের রাজনীতিবিদরাও কিছু বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর মতো এশীয় দেশগুলো ক্লাসের আকার ছোট রাখার পেছনে অতিরিক্ত ছোটেন না। তারা সাধারণত কম শিক্ষক নিয়োগ দেন, কিন্তু তাদের বেশি বেতন দেন এবং কঠোর প্রশিক্ষণ দেন। স্কুলে ক্রমাগত কর্মী বাড়ানোর চেয়ে এই পদ্ধতিটি ভালো কাজ করছে বলে মনে হয় যা বিশেষ করে আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে নম্বর বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করে আসছে।
তালিকায় ব্রিটেনের ওপরের দিকে উঠে আসাটা যতটা মনোযোগ পাওয়ার কথা ছিল ততটা পায়নি। প্রায় ১৫ বছর আগে কনজারভেটিভ পরিচালিত জোট সরকারের অধীনে ইংল্যান্ডের শিক্ষা সংস্কারকরা পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশের বিপরীত পথে হেঁটেছিলেন (ব্রিটেনের চারটি আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে ইংল্যান্ডই সবচেয়ে বড়)।
যেখানে অন্যত্র নীতিনির্ধারকরা অস্পষ্ট ‘সফট স্কিল’ এর প্রশংসা করছিলেন, ইংল্যান্ড তখন তাদের পাঠ্যক্রমকে আরও তথ্যনির্ভর করে তোলে। দেশটি পরীক্ষাপদ্ধতি আরও কঠোর করে, কোর্সওয়ার্ক কম গুরুত্ব দেয় এবং পরিদর্শন ব্যবস্থা জোরদার করে। রাজনীতিবিদরা নতুন ফ্যাশনেবল কিন্তু পরীক্ষিত নয় এমন শিক্ষাপদ্ধতি থেকে স্কুলগুলোকে দূরে সরিয়ে প্রথাগত পদ্ধতির দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
ইংল্যান্ডের এই নীতিগুলো তাদের নম্বর রক্ষা করতে পেরেছে—তা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন তাদের প্রতিবেশী শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে তুলনা করা হয়, যারা সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিল। বিশ বছর আগে স্কটল্যান্ডের শিশুরা সীমানার ওপারের শিশুদের চেয়ে ভালো করত। কিন্তু এখন তারা তুলনামূলক খারাপ করছে—যদিও শিক্ষার্থী প্রতি তাদের শিক্ষা বাজেট অনেক বেশি। স্কটল্যান্ডের সমালোচকরা এর জন্য আধুনিক ধারার পাঠ্যক্রম এবং শৃঙ্খলার অভাবকে দায়ী করেন। কোভিড বা স্ক্রিনের প্রভাব দিয়ে এই ব্যবধান ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ এসব দুর্দশা পুরো ব্রিটেনের সব শিশুর ওপরই একইভাবে প্রভাব ফেলেছে।
পরীক্ষার নম্বর কখনোই একজন মানুষের চূড়ান্ত পরিচয় বা তার সফলতা, ব্যর্থতার নিশ্চিত প্রমাণ নয়। তবে ভালো নম্বর পরবর্তী জীবনে বেশি আয়, উন্নত স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু পাওয়ার শক্তিশালী পূর্বাভাস দেয়। জাতীয় পর্যায়ে, একটি দেশের মেধার উন্নয়ন পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, পিএসএ পরীক্ষার নম্বর ২৫ পয়েন্ট বাড়ানো গেলে ধনী দেশগুলোর বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি আধ শতাংশ বাড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উচ্চমানের শিক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে দেবে—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই, তবে প্রযুক্তি যে কম দক্ষ ব্যক্তিদের অবস্থান নড়বড়ে করে দেবে তা ভাবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সুতরাং, শিক্ষা-সংস্কারকদের এখন আবার মনোযোগ দিয়ে বই পড়ার সময় এসেছে।



