৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
বিবিধ

মা’দক মামলায় মিসরের জনপ্রিয় নারী টিভি উপস্থাপকসহ ১২ জনের মৃ’ত্যুদণ্ড

Sarah-Khalifa

মাদক তৈরির উপকরণ সংগ্রহ, পাচারের উদ্দেশ্যে সিনথেটিক মাদক উৎপাদন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগে মিসরে জনপ্রিয় এক নারী টেলিভিশন উপস্থাপকসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। দেশটির সরকারি গণমাধ্যমের বরাতে শনিবার এ তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই উপস্থাপকের নাম সারাহ খলিফা। ৩৯ বছর বয়সী সারাহ মিসরের টেলিভিশন অঙ্গনে পরিচিত মুখ। ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা, অপরাধ ও বিভিন্ন আলোচিত ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা হতো।

সরকার-সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ এবং সেগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে সারাহ ও অন্য ১১ আসামির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখা এবং বহনের অভিযোগও রয়েছে।

মামলাটির শুনানি হয় কায়রোর একটি আদালতে। রায় ঘোষণার আগে আদালত মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছে মতামত বা ফতোয়া চেয়েছিলেন। দেশটির আইনে মৃত্যুদণ্ডের মামলায় এটি একটি বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। তবে আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। মাদক মামলার পাশাপাশি সারাহ খলিফার ব্যবসায়িক পরিচয়ও রয়েছে। তাঁর একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পার্টি ও অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকও তিনি।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আখবার এল-ইয়োম জানিয়েছে, সারাহ ও অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে পাচারের উদ্দেশ্যে সিনথেটিক মাদক তৈরি এবং বিদেশ থেকে মাদক উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানির অভিযোগ আনা হয়েছিল।
তদন্তে বড় ধরনের মাদক মজুদের তথ্যও সামনে এসেছে। আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেছে। অভিযানে মাদক তৈরির পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্টও শনাক্ত করা হয়। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ।

তবে এখানেই শেষ নয়। সারাহ খলিফা ও অন্য কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলাও চলছিল। ওই মামলায় এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ ছিল। সেই মামলায় আদালত তাঁদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
মিসরের আইনে বেশ কয়েকটি গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ধর্ষণ এবং মাদক পাচার এর মধ্যে অন্যতম। ফলে মাদকসংক্রান্ত মামলায় আদালতের এমন কঠোর রায় দেশটির বিচারব্যবস্থায় একেবারে নজিরবিহীন নয়। তবে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ রয়েছে। মিসরীয় কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই দেশটিতে ৫৪১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় টেলিভিশন মুখ হিসেবে পরিচিত সারাহ খলিফার বিরুদ্ধে এই রায় তাই মিসরের বিনোদন ও গণমাধ্যম অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আপিলের সুযোগ থাকায় মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

Advertisements