ইনসুলিন বন্ধের পরামর্শে ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যু, জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ অনুসরণের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান ‘হেলথ রেভোল্যুশন লিমিটেডের’ বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে। সদস্য সচিব করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুরজাহান বানু এবং বারডেম হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিমুন্নেছা শিউলী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৫ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ অপচিকিৎসা এবং অননুমোদিত সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ৩৬ বছর বয়সী সুমি বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। পরে অনলাইনের মাধ্যমে ‘হেলথ রেভোল্যুশন লিমিটেডের’ সন্ধান পেয়ে সেখানে চিকিৎসা নিতে গেলে তার চলমান ইনসুলিন ও অন্যান্য ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এর পরিবর্তে তাকে কিটো ডায়েট অনুসরণ এবং উচ্চমূল্যের কিছু সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন বন্ধ করার পর রোগীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে গত ২ ফেব্রুয়ারি তিনি গুরুতর ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ ফেব্রুয়ারি ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের জটিলতায় তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসার নামে রোগী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গুরুতর জটিলতার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তবে অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। কমিটিকে সুস্পষ্ট মতামতসহ ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



