দুই যুগের অন্ধকার পেরিয়ে ‘অন্ধের টেকে’ বিদ্যুতের আলো

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকার ‘অন্ধের টেক’-এ অবশেষে জ্বলে উঠেছে বিদ্যুতের আলো। দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার পর সম্প্রতি একটি পরিবারের ঘরে মিটার সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে আলো আসার আনন্দ এখনো পূর্ণতা পায়নি—কারণ একই আলো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন আরও ৪৪টি পরিবার।
২০০১ সাল থেকে ‘অন্ধের টেক’ এলাকায় বসবাস করছেন ৪৫টি পরিবার। তাঁদের মধ্যে ২৭টি পরিবারে রয়েছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ। বাকি পরিবারগুলো মূলত তাঁদের সন্তান ও স্বজনদের নিয়ে গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের সংযোগের দাবি জানিয়ে এলেও সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছিল না।
দিনের আলো শেষ হলেই নেমে আসত ঘন অন্ধকার। বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার পর দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে শিশুদের পড়াশোনা—সবকিছুই নির্ভর করতে হতো কেরোসিনের বাতি, মোমবাতি কিংবা অন্য বিকল্প আলোর ওপর। বছরের পর বছর এভাবেই কেটেছে তাঁদের জীবন। বিদ্যুৎ পাওয়ার আশায় একসময় এলাকায় খুঁটি ও ট্রান্সফরমারও স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু নানা বাধার কারণে পরে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর আবারও শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা। একের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুতের আলো আর পৌঁছায়নি তাঁদের ঘরে।
তবে এবার সেই অপেক্ষায় কিছুটা হলেও ইতি টানার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ‘অন্ধের টেক’-এর একটি ঘরে বিদ্যুতের মিটার সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ৪৪টি পরিবারের ঘরেও মিটার সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দুই যুগের অন্ধকার পেরিয়ে একটি ঘরে জ্বলে ওঠা এই আলো তাই শুধু বিদ্যুতের সংযোগ নয়; এটি দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, প্রত্যাশা ও অধিকার আদায়েরও প্রতীক। এখন ‘অন্ধের টেক’-এর বাকি পরিবারগুলোর অপেক্ষা—কবে তাঁদের ঘরেও জ্বলবে সেই কাঙ্ক্ষিত আলো।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্ধের টেকের বাসিন্দারা গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূইয়া এবং মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলামের কাছে বিদ্যুৎ-সংযোগের ব্যবস্থা করার আবেদন করেন। তাঁদের হস্তক্ষেপে সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থার উদ্যোগও নেওয়া হয়।
মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপে বিদ্যুতের মিটার সংযোগের কাজ শুরু হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য সেখানে একটি সাবমার্সিবল পাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।
২০ আগস্ট বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি সাহাজ উদ্দিনের ছেলে ফারুক হোসেনের ঘরে প্রথম মিটার সংযোগ দেওয়া হয়। এতে অন্ধের টেকের একটি ঘর বিদ্যুতের আওতায় এলেও বাকি ৪৪টি পরিবার এখনো অপেক্ষায়।
এলাকাটিতে বিদ্যুৎ-সংযোগ যাওয়ায় সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান বলেন, এতগুলো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখন বিদ্যুতের আলোয় জীবন যাপন করতে পারবেন।
এই উদ্যোগে খুশি বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতির সভাপতি কোরবান আলী। তিনি দ্রুত অন্য পরিবারগুলোতে মিটার সংযোগ দেওয়ার দাবি জানান।



