বিগত ১৮ বছরে লোভ-লালসায় পা দিইনি: আন্দালিব রহমান পার্থ

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও কোনো ধরনের লোভ-লালসায় পা দেননি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা ও স্বচ্ছতাকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবেন না।
ভোলায় আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনি এলাকা ভোলায় যান আন্দালিব রহমান পার্থ। এ উপলক্ষে জেলার সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় গণসংবর্ধনার। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ শহরের বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
ছাদখোলা গাড়িতে করে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সংবর্ধনার জবাব দেন মন্ত্রী। তার গাড়িবহর ভোলা শহরের নতুন বাজার চত্বরে পৌঁছালে সেখানে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। বক্তব্যে নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘বিগত ১৮ বছরে আমি চাইলে অনেক সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতাম। কিন্তু কোনো লোভ-লালসায় পা দিইনি।’
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দায়িত্ব তাকে দিয়েছেন, তা তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন।
ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়ে দাবি অব্যাহত থাকবে
ভোলার দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের প্রসঙ্গও উঠে আসে মন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, এই সেতুর দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন এবং সংসদেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন। পার্থ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে হিজলা-মুলাদী ও শরিয়তপুর হয়ে ঢাকায় যাওয়ার বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা নিয়েও ভাবা হচ্ছে। এই পথে যাতায়াত করলে প্রায় ৪০ মিনিট সময় কম লাগতে পারে—এমন বিবেচনায় সরকার একটি পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তা করছে বলে জানান তিনি।
তবে এ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তার ভাষায়, ভোলার জন্য যে সিদ্ধান্ত সবচেয়ে ভালো হবে, সেটিই সবাই চান। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ভোলাবাসীর দাবি যথাযথ জায়গায় তুলে ধরার কাজ অব্যাহত থাকবে।
নিজের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, তাকে প্রায় ছয় মাস এমপি হিসেবে দেখেছেন ভোলার মানুষ। এই সময়ে তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না। বিশেষ করে টিআর ও কাবিখা কর্মসূচিতে অনিয়ম হলে তা নজরে আনার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কারও বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে ইউএনও কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তথ্যমন্ত্রী। জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
বৈরী আবহাওয়াতেও ব্যাপক উপস্থিতি ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশাল হয়ে লাহারহাটে পৌঁছান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। সেখান থেকে স্পিডবোটে করে ভোলার খেয়াঘাটে পৌঁছালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপি ও বিজেপির নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান।
খেয়াঘাট থেকে ভোলা শহরে যাওয়ার পুরো পথেই সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে মানুষের এই উপস্থিতি মন্ত্রীর সফরকে পরিণত করে বড় ধরনের জনসমাগমে।
এ সময় ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।



