বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

বাড়ছে লোডশেডিং, কমছে সরবরাহ- কেন বারবার অন্ধকারে ঢাকা?

loadsheding-1787412438 (1)

রাজধানীর ব্যস্ত জীবনে আবারও ফিরে এসেছে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি। দিন কিংবা রাত—বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ করছেন নগরবাসী। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে। অফিসফেরত মানুষের ব্যস্ততা, ঘরে ঘরে বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার এবং একই সময়ে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার মধ্যে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য বলছে, ঢাকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেশ বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। ২২ আগস্ট সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ঢাকা জোনে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় ৬ হাজার ৪৮৯ মেগাওয়াট। কিন্তু এই চাহিদার বিপরীতে ৫৯৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।

এক দিন আগের চিত্র ছিল তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। ২১ আগস্ট একই সময়ে ঢাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৫ হাজার ৬৩৫ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ২১৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে ৮৫৪ মেগাওয়াট। একই সঙ্গে লোডশেডিং বেড়েছে ৩৮৫ মেগাওয়াট।

শুধু ২১ ও ২২ আগস্টের হিসাব নয়, আগের কয়েক দিনের তথ্যেও একই ধরনের চাপের চিত্র পাওয়া যায়। ২০ আগস্ট সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ৬ হাজার ২৫১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং ছিল ৫৫৪ মেগাওয়াট। এর আগের দিন, ১৯ আগস্ট, লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৬৪০ মেগাওয়াট—১৮ থেকে ২২ আগস্টের পাঁচ দিনের মধ্যে যা ছিল সর্বোচ্চ। ১৮ আগস্ট সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ঢাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬ হাজার ১৮৪ মেগাওয়াট। সেদিন লোডশেডিং করতে হয়েছিল ১৫৪ মেগাওয়াট।

কেন বাড়ছে চাপ?

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়াই লোডশেডিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। এর পেছনে রয়েছে গ্যাসের সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে না পারা এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ঘাটতি।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রনির্ভর। ফলে এসব কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে উৎপাদনও কমে যায়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে গেলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়। তখন চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সাময়িক ভারসাম্য আনতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হয়।

Advertisements

সম্প্রতি দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকায় বেশ কিছু গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়।

সন্ধ্যার সময়েই কেন বেশি ভোগান্তি?

দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা একরকম থাকে না। সন্ধ্যায় সাধারণত বাসাবাড়ি, অফিস, দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে এই সময়টিকে বিদ্যুতের ‘পিক আওয়ার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সন্ধ্যার সময় চাহিদা দ্রুত বেড়ে গেলে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি থাকলে তখনই লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

ফলে দিনের অন্যান্য সময় তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এতে বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও নগরজীবনের নানা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে গরম বা অন্য কোনো কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাজধানীর বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তাই শুধু লোডশেডিংয়ের হিসাব নয়; এটি একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বাড়তে থাকা নগর চাহিদার মধ্যকার টানাপোড়েনেরও প্রতিচ্ছবি। আপাতত নগরবাসীর স্বস্তি অনেকটাই নির্ভর করছে সরবরাহ ঘাটতি কত দ্রুত সামাল দেওয়া যায়, তার ওপর।

Advertisements